24/01/2025
ইদানীং খুব দেখি ও শুনি যে একটা শাড়ি বা পোশাক পরে একবারের বেশী ফেসবুকে ছবি দেয়া যাবে না অথবা বলা ভালো এক শ্রেনীর মানুষ এটাকে খুব খুব করে প্রচার করছে।
এই স্রোতে গাঁ ভাসিয়ে কিছু মানুষ সত্যি সত্যিই এক শাড়ি বা পোশাক ১ বার পরেই বাতিল করার চিন্তা ভাবনা রাখছে বা এইগুলো করছে।
ফিল্মের অভিনেত্রী বরং বলা ভালো যে ইন্ডিয়ান অভিনেত্রীদের দেখে আমাদের হয়তো বা এমন চিন্তা এসেছে। কিন্তু একবারও ভেবে দেখেছি যাদের দেখে আমরা এই ট্রেন্ডে মেতেছি তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান আর আমার সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান এক না। তাদের পেশা আর আমার পেশাও এক না। তারা শো বিজনেসে আছেন, তাই তাদের ওইভাবে নিজেদের উপস্থাপন করতে হয়। তাছাড়া বেশীরভাগ কাপড়ও ওনারা নিজেদের পয়সায় কিনে পরেন না।
আমাকে কেনো ওই দৌড়ে পা মেলাতে হবে? আমরা কোটিপতি নই, এক পোষাক একের অধিকবার পরাতেও আমাদের জাত যাওয়ার কথা না। বরং পোশাক একটু যত্ন করে পরলে অনেক অনেক বছর টেকে। তখন বছরে ২ টা করে শাড়ি জমলেও কিন্তু অনেক শাড়ি জমে যায়।
আমার আলমারিতে অনেক অনেক শাড়ি আছে, আমি যদি প্রতিদিন ১ টা করেও পরি তাও ৩ মাস রিপিট না করে পরতে পারবো। তার মানে কিন্তু এই না যে আমি অনেক অনেক শাড়ি কিনি। আমার আলমারীতে ১৯৯৩ সালে কেনা শাড়িও বহাল তবিয়তে আছে, এবং আমি এখনও পরি সেগুলো। তার মানে ১৯৯৩ সাল থেকে প্রতিবছর যদি মাত্র ২ টা করে শাড়িও কিনে থাকি তাহলে এই ৩০ বছরে কত শাড়ি জমেছে? এর বাইরে বিভিন্ন উপলক্ষ্যে উপহার পাওয়া শাড়িও তো রয়েছে।
শুধু শাড়িই বলি কেনো?
আমার আলমারিতে ৮/১০ বছর পুরোনো সালোয়ার কামিজও আছে, যেগুলো আমি এখনও হর হামেশা পরি, যুগের সাথে তাল মেলানো হলো কিনা সেগুলো আমি থোড়াই কেয়ার করি। যুগের সাথে তাল মেলানোর থেকে নিজের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস থাকাটা বেশী জরুরী বলে আমি মনে করি।
৩০০ টাকা দামের শাড়িও আমি যেমন আদর করে, যত্ন নিয়ে পরি তেমনি দামী শাড়িগুলোও যত্ন নিয়ে পরি।
শাড়ি বা পোশাকের যত্ন করি বলেই সেগুলো ভালো আছে, সব শাড়ির সাথেই আমার একটা করে গল্প আছে, স্মৃতি আছে। তাই সেগুলো ফেলতে মায়া লাগে, যত্ন করে রাখি, যত্ন করে ব্যবহার করি।
এগুলো একবার পরে কিভাবে বাতিল করবো?
ছবিতে আমার পরা পোষাকটার বয়স কমছে কম ৮ বছর, এখনও অনেক পরি এটা।
আমার ছবির সাথে নতুন পোষাকের ছবিটাও দিলাম, আমাকে খুব কি বেমানান লাগছে?
পোষাক কৃতজ্ঞতাঃ জলরঙ