17/07/2026
আম্মুর আজব ছাতা:
***ছবিটা ২০২০ এ আঁকা। আর ঘটনা আরো আগের। ভালো লাগছে না কিছু, তাই পুরানো দিনের সুন্দর কথা মনে করি***
ক্লাস ফোরে পড়ি তখন। স্কুল ছুটির পর আম্মুর জন্য অপেক্ষা করছি। দোতালা থেকে নিচে নামার জায়গায় সিড়ির ছোট বারান্দার মত জায়গাতে আমি দাঁড়িয়ে আছি আম্মুর অপেক্ষায়। কারণ এই জায়গাটা আমার অনেক প্রিয়। এই জায়গা থেকে গেইটের বাইরে থেকেও আম্মুকে আসতে দেখা যায়। সেদিন বৃষ্টি পড়ছিল। বাচ্চাদের যারা নিতে এসেছে সবার সাথে ছাতা। লাল, নীল, কালো, ছাই রঙ এর ছাতায় নিচে ভরে গেছে। উপর থেকে দেখলে মনে হয় হাওয়ায় ভেসে ভেসে ছাতা গুলো এগিয়ে আসছে। এত এত খোলা ছাতার মাঝে হঠাৎ দেখি আম্মুও ছাতা নিয়ে দৌড়ে আসছে। দূর থেকে আমি ভাবছি- " এরকম চোঙ্গা মার্কা ছাতা আম্মু কোত্থেকে পেল? আর এই ছাতা মাথায় ধরে আম্মু তো ভিজে গেল। আমি সহ এই ছাতার নিচে আটবো কীভাবে?" আম্মুর পাশে দিয়ে যারা যাচ্ছে আম্মু আবার তাদের প্রতি আন্তরিকতা দেখিয়ে ছাতা উচু করে ধরছে যেন তাদের ছাতার সাথে আম্মুর ছাতার ঠোকাঠুকি না লেগে যায়। আমার দূর থেকে বলতে ইচ্ছা করলো - " আম্মু তোমার ছাতাটা তো এম্নিতেই অনেক চিপা। সবার জন্য এভাবে উচু করে করে আসতে হবে না তো!" কিন্তু এত দূর থেকে কথা শুনাই কীভাবে!
আম্মু কাছে আসার পর দেখি ওমা! আম্মুর ছাতা তো বাতাসে উল্টে গেছে! আমি ভাবলাম আম্মু হয়ত জানে। আমি আম্মুকে কিছু বললাম না। আমিও সুন্দর আম্মুর সাথে উলটে যাওয়া ছাতার নিচে আম্মুর সাথে ঘেষে ঘেষে হাঁটা শুরু করলাম। বেলি রোডে এত জ্যাম থাকতো যে আম্মু সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকতো।কারণ দেরি হলেই আমি ভয় পেতাম। তাই সেই দুশ্চিন্তায় আম্মুর খেয়ালই ছিল না যে বাতাসে ছাতার এই অবস্থা! এমন কী আম্মু যে ভিজে চুপচুপা সেটাও আম্মু বুঝেনি। আমাকে নিয়ে হাঁটার সময় হঠাৎ আম্মুর খেয়াল হলো। উপরে তাকিয়ে দেখে ছাতা উল্টা । আম্মু হায় হায় করে আম্মুর ব্যাগ থেকে একটা পিচ্চি রুমাল বের করে আমার মাথার উপর দিয়ে দিল। এইবার আমি আর হাসি আটকে রাখতে পারলাম না। উল্টা ছাতা দেখে আমার হাসি পায়নি কিন্তু আমার মাথায় আমার মাথার চাইতেও একটা পিচ্চি রুমাল রাখা সেটা চিন্তা করতেই আমি খি খি করে হাসতে থাকলাম। আম্মুও খি খি করে হাসছে, আমিও খি খি করে হাসছি। এর মধ্যে ড্রাইভার ভাই ওয়াহাব ভাই আমাদের লাল গাড়ি নিয়ে ভিড় ঠেলে চলে এসেছে। উল্টা ছাতা আর পিচ্চি রুমাল মাথায় নিয়ে আমরা মা মেয়ে গাড়িতে উঠে পড়লাম।