26/11/2025
বাঙলায় গয়না কখনোই শুধু সাজের জিনিস ছিল না। যুগের পর যুগ ধরে এগুলোই ছিল নারীর নীরব সঞ্চয় তার নিজের ছোট্ট ব্যাংক। একসময় যখন নারীদের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা যেত না, যখন অর্থের ওপর তাদের অধিকার ছিল সীমিত, তখনই এই সোনা-রুপোর অলঙ্কার ছিল তার একমাত্র ব্যক্তিগত সম্পদ। বিয়েতে পাওয়া শাখা-বালা, কানের দুল, নাকফুল কিংবা পিতৃগৃহের দেওয়া গয়নাই হয়ে উঠত তার নিজস্ব সম্পত্তি, যা অন্য কেউ স্পর্শ করারও অধিকার পেত না।
ইতিহাস বদলেছে,১৯৩৭ সালের আইনে, ১৯৫৬ সালের উত্তরাধিকার আইনে, আবার ২০০৫ সালের সংশোধনীতে নারীর সম্পত্তির অধিকার আরও শক্ত হয়েছে। দেশ বদলেছে, সমাজ বদলেছে, আইন বদলেছে।কিন্তু বাঙালি নারীর হৃদয়ে গয়নার মানে বদলায়নি।
আজও একটি বালা বা হার শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়। এ এক নীরব নিশ্চয়তা, একটি নিরাপদ ভরসা, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে এগিয়ে যাওয়া শক্তির উত্তরাধিকার। আর তাই গয়নার বাক্সটাও গুরুত্বপূর্ণ।কারণ এই ছোট্ট বাক্সে শুধু ধাতু নয়, জমে থাকে একটি পরিবারের স্মৃতি, নারীর অধিকার, তার নিজের নিরাপদ সঞ্চয়ের গল্প। গয়না এখনো বলে,"যা সত্যিই আমার, তা আমাকেই রক্ষা করে।" আর বাক্সটি সেই গল্পগুলোকে নীরবে আড়াল করে রেখে দেয়, ঠিক সিন্দুকের মতো।