08/02/2026
ঢাকার মিরপুরের একটি তিন রুমের ফ্ল্যাট।
আয়তনে খুব সাধারণ, ডিজাইনে কোনো আর্কিটেক্টের ছোঁয়া নেই।
ফ্ল্যাটের মালিক রাশেদ সাহেব প্রথমে ভেবেছিলেন—ঘরটা “প্রিমিয়াম” দেখাতে হলে বুঝি দামি সোফা, ওয়াল প্যানেলিং বা ঝাড়বাতিই একমাত্র উপায়। কিন্তু বাজেট যখন কথা বলে, তখন বাস্তবতা সামনে আসে।
একদিন তিনি একটি ইন্টেরিয়র শোরুমে ঢুকলেন শুধুমাত্র “পর্দা দেখতে”। সেখানে ডিজাইনার তাকে একটি সহজ প্রশ্ন করলেন—
“আপনার ঘরে দিনে আলো কেমন আসে?”
এই প্রশ্নটাই ছিল টার্নিং পয়েন্ট।
ডিজাইনার বোঝালেন, পর্দা শুধু জানালা ঢাকার কাপড় নয়। এটি আলো নিয়ন্ত্রণ করে, ঘরের উচ্চতা চোখে বড় বা ছোট দেখায়, এমনকি দেয়ালের রঙও কেমন দেখাবে তা নির্ধারণ করে।
রাশেদ সাহেবের ড্রয়িংরুমে জানালা ছিল মাঝারি আকারের। আগে সেখানে ছিল গাঢ় বাদামি রঙের মোটা পর্দা, যেটা আলো আটকে দিত। ফলে দিনের বেলাতেও লাইট জ্বালাতে হতো। ডিজাইনার পরামর্শ দিলেন—হালকা অফ-হোয়াইট শিয়ার পর্দার সঙ্গে হালকা ধূসর ব্ল্যাকআউট লেয়ার।
ফলাফল?
দিনের আলো ঘরে ঢুকতে শুরু করল, ঘরটা চোখে আরও বড় লাগল। দেয়ালের সাধারণ পেইন্টও পরিষ্কার ও “এক্সপেনসিভ” দেখাতে লাগল। একই ফার্নিচার, একই টাইলস—কিন্তু পুরো অনুভূতিই বদলে গেল।
আরও একটি বিষয় ছিল পর্দার ঝোলানো পদ্ধতি। আগে রড বসানো ছিল জানালার ঠিক ওপরে। এবার রড বসানো হলো সিলিংয়ের কাছাকাছি। এতে ঘরের উচ্চতা চোখে অন্তত ৬–৮ ইঞ্চি বেশি মনে হলো—এটা ইন্টেরিয়র ডিজাইনে পরিচিত একটি ভিজ্যুয়াল ট্রিক।
সবচেয়ে অবাক করার বিষয়—পুরো এই পরিবর্তনের খরচ ছিল একটি মাঝারি মানের সোফা সেটের চেয়েও কম।
রাশেদ সাহেব পরে বুঝলেন, প্রিমিয়াম লুক মানেই সবসময় দামি জিনিস নয়; সঠিক সিদ্ধান্ত। আর পর্দা এমন একটি উপাদান, যেটা আলো, রঙ আর স্পেস—এই তিনটাকে একসাথে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
আজ যারা তার বাসায় আসে, তারা প্রায়ই বলে—
“ঘরটা খুব এলিগেন্ট লাগছে।”
কেউ কিন্তু জিজ্ঞেস করে না, সোফার দাম কত।
কারণ অনেক সময় ঘরের প্রিমিয়াম ভাবটা আসে নিঃশব্দে—জানালার পাশে ঝুলে থাকা সঠিক পর্দা থেকেই।