21/06/2025
গল্পের নাম: “রক্তজবা”
ধরন: ভয়ানক, রহস্যময়, আনকমন
লিখিকা: জোনাকি ইসলাম
১. জবা ফুলের ছায়া
সন্ধ্যার কিছু আগে হঠাৎ আকাশ কালো হয়ে এলো। ঝড় আসবে বোঝাই যাচ্ছিল, কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে কোথাও বাতাস নেই। গ্রামের নাম “পলাশডাঙা”—ছোট, নির্জন, আর গাছপালায় ঘেরা। তবে গ্রামের পশ্চিম প্রান্তে একটা পুরোনো, জরাজীর্ণ জমিদারবাড়ি আছে, যেখানে কেউ যায় না।
সেই বাড়ির পাশের জঙ্গলে শুধু এক ধরনের ফুলই ফোটে—রক্তজবা। কেউ বলে ওগুলো নাকি জমিদার মেয়ে মায়ার রক্ত থেকে জন্ম নিয়েছে।
২. অদ্ভুত প্রস্তাব
শহর থেকে আসা এক তরুণ লেখক, নাম রুদ্র, সেই জমিদারবাড়ির রহস্য নিয়ে উপন্যাস লিখতে চায়। সে গ্রামে এসে উঠল।
গ্রামের মানুষ তাকে সাবধান করল:
—“বাড়িটার ছায়াও মাড়িও না। যে যায়, সে আর ফিরে আসে না।”
কিন্তু রুদ্র কারো কথা কানে তুলল না।
সে রাতেই সে গেল বাড়ির সামনে। রাত তখন সাড়ে বারোটা। চাঁদ নেই, হাওয়া নেই, কিন্তু বাড়িটার জানালায় একটা মুখ দেখা গেল। সাদা মুখ, কালো চোখ—এবং তার হাতে রক্তজবা।
৩. লাল দিন, কালো রাত
রুদ্র ফিরে এসে তার নোটবুকে লিখল:
"মুখটা ঠিক মানুষ ছিল না, কিন্তু চেনা লাগছে। যেন কোনো ছবিতে দেখেছি।”
পরের দিন সকালে সে খুঁজে পেল জমিদার পরিবারের পুরোনো ছবি। একটা ছবিতে ছিল মেয়ে মায়া—তার হাতেও রক্তজবা।
গ্রামের একজন বৃদ্ধ বলল,
—“মায়া মারা যায়নি। সে নিজেকে জবা ফুলে রূপান্তর করেছে। তার অভিশাপ এই ফুলগুলো।”
রুদ্র বিশ্বাস করল না। কিন্তু সে যতই বাড়ির কাছাকাছি যায়, তার শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। যেন কিছু তাকে চুষে নিচ্ছে।
৪. রক্তজবার গন্ধ
এক রাতে রুদ্র জঙ্গলের মধ্যে হারিয়ে যায়। চোখের সামনে অজস্র জবা ফুল, লাল—যেন রক্ত। আর এক এক করে ফুলগুলো থেকে মায়ার মুখ বেরিয়ে আসে।
সে বলে,
—“আমার গল্প শেষ হয়নি। তুমি লেখক—আমার গল্প শেষ করো। না হলে তুমি নিজেই চরিত্র হয়ে যাবে।”
রুদ্র দৌড় দেয়। পরদিন সকালে তাকে পাওয়া গেল বাড়ির বারান্দায়, মুখ থুবড়ে পড়ে আছে, আর তার চারপাশে শত শত রক্তজবা।
৫. শেষ পৃষ্ঠা
রুদ্রের খাতা পাওয়া যায়। শেষ লাইনে লেখা:
“আমি মায়ার গল্প লিখছি। প্রতিটি জবা একটি বাক্য। যদি কেউ এই ফুল ছিঁড়ে, গল্প আবার শুরু হবে।”
শেষ নয়…
গ্রামের শিশুরা মাঝে মাঝে খেলে খেলে ভুল করে রক্তজবা তোলে। আর তখন, কারো না কারো মুখে শোনা যায় একটা মেয়েলি হাসি—চুপচাপ, ঠান্ডা, আর রক্তমাখা।
আপনি কি সত্যিই এই গল্পটা পড়লেন? আপনার আশপাশে কোথাও রক্তজবা ফুল আছে তো? সাবধান…
সম্পূর্ণ গল্প টি পড়ার জন্য কিনতে পারেন। ( মূল্য - ৮০ ৳)