02/10/2025
‼️একটি ১৪৪ ধারার বিয়ের গল্প‼️
গায়ে হলুদের এই গহনাটার অর্ডার এসেছিল ২৭ সেপ্টেম্বর। সেদিন রাতেই ছিল ক্লায়েন্টের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান। আমার এই ক্লায়েন্টের নাকি হলুদের অনুষ্ঠানে তাজা ফুলের গয়না পরার সখ ছিল এবং তাজা ফুলের গয়নার অর্ডার করেও ফেলেছিল। কিন্তু সেদিন খাগড়াছড়িতে সড়ক অবরোধ সহ ১৪৪ধারা জারি করার ফলে ফুলের গাড়ি খাগড়াছড়িতে ঢুকতেই পারেনি এবং সে কারণে ক্লায়েন্ট আমাকে নক দেয় আর্টিফিশিয়াল ফুলের গয়নার জন্য।
আমার অর্ডারটা কনফার্ম হলো সেদিন দুপুরে, এবং সন্ধ্যার আগেই নাকি গয়নাটা ডেলিভার করতে হবে। কি আর করা, এক প্রকার তড়িঘড়ি করেই বানালাম সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে। কিন্তু এরপরেই ঘটলো বিপত্তি! ততক্ষণে খাগড়াছড়িতে ১৪৪ ধারার কড়াকড়ি শুরু হয়ে গিয়েছিল। বাইরে বের হওয়াটা রিস্কি হয়ে পড়ল। এদিকে সন্ধ্যার অন্ধকার, এবার আমার পক্ষে কোনভাবেই এটা দিয়ে আসা সম্ভব না। ক্লায়েন্টকে বললাম যেন তার পক্ষ থেকে কোনো ছেলে সদস্যকে পাঠায় এবং সে পাঠাবেও বললো। এদিকে সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত ৮টা বেজে গেল কিন্তু কেউ পার্সেল নিতে এলো না।
এরপর ক্লায়েন্ট আমাকে নক করে জানাল, "আপু, আপনি পার্সেল রেডি করে রাখেন, যদি লাগে আমি কাউকে পাঠাবো"। তার এই কথা শুনে এবার তো আমার মনটাই খারাপ হয়ে গেল এই ভেবে যে, ক্লায়েন্টের বিয়ের মতো ড্রিমি একটা অনুষ্ঠানের টাইমেই খাগড়াছড়িতে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হলো যার কারণে বিয়ের আনন্দটাই মাটি হয়ে গেল। আসলে এই পরিস্থিতিতে কমিউনিটি সেন্টারে প্রোগ্রাম করতে হয়তো তাদের বেশ বেগ পেতে হয়েছিল।
আমার প্রোডাক্ট সেল হবে না বা নিবে না, এর জন্য কিন্তু একবারো আমার মন খারাপ লাগছে না, শুধু আমার ক্লায়েন্টের মনের কী হাল হচ্ছে তা ভেবেই খুব মন খারাপ হচ্ছিলো। এরপর রাত যখন ১০:৩০টা তখন ক্লায়েন্ট লোক পাঠিয়ে পার্সেলটা নিয়ে গেল। মেইন রোডে যেহেতু হাটাচলা করাই যাচ্ছে না তাই তারা চিপাচাপা, অলিগলি খুঁজে অনেক কাঠখড় পুড়িয়েই এসেছিল। পরদিন তার প্রোগ্রামের ছবি দেখে মন হালকা হলো। যাক অন্তত ছোট পরিসরে হলেও প্রোগ্রামটা হয়েছে।
আমাদের সবারই নিজেদের স্পেশাল দিনগুলো নিয়ে অনেক জল্পনা কল্পনা থাকে, কোনো কারণে তা নষ্ট হলে আসলেই মনটা ভেঙ্গে যায়। অন্তত কারো বিশেষ দিনে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি না হোক। শুভ কামনা সবার জন্য।
★আর এই গহনাটা আপনাদের কেমন লাগলো? জানাতে ভুলবেন না।
#ফুলেরগহনা
fans