24/02/2026
রাতের বেলায় খাওয়ার পানি ফুটানো হচ্ছিল চুলায়। পানি ফুটতে ফুটতে উপচে পড়ে চুলা নিভে যায়। এরপর সেটা আর কেউ খেয়াল করেনি। সারারাত ধরে গ্যাস লিক করতে থাকে। এরপর ভোর রাতে সেহরি খাওয়ার সময় গৃহকর্তী পাতিল সরিয়ে খাবার গরম করবার জন্য চুলা জ্বালাতে গেলেই বিস্ফোরণটা ঘটে। আপাতত এটুকু তথ্য পেয়েছি ইলেকট্রিশিয়ান এর কাছ থেকে। সে সেই বিল্ডিং এর ইলেকট্রিসিটির কাজ করেছে আজ সারাদিন।
গৃহকর্তার ভাই কয়দিন আগে পর্তুগাল থেকে আসে এবং এবং তার ফ্যামিলিসহ সবাই চট্টগ্রামে আসে ঈদ করবার জন্য। কয়েকটা ছোট ছোট শিশুও ছিল বাসায়। এর মধ্যেই এই দুর্ঘটনা। বিস্ফোরণের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে পাশের ফ্ল্যাটে একটা পার্লার ছিল, সে পার্লারের দরজা জানালা পর্যন্ত ভেঙে পড়ে গিয়েছে। একটা বীভৎস ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, সেটা ওই পার্লারের সিসিটিভি ক্যামেরার।
ছবিতে গ্যাসের চুলার একপাশে দুইটা বড় বড় পাতিল আছে দেখা যাচ্ছে। এগুলোই সম্ভবত ফুটানো খাওয়ার পানি। বেশিরভাগ গৃহস্থ বাড়িগুলোতেই সব কাজ শেষে গৃহিণীরা পানি ফুটায়। সাধারণত নিয়ম হচ্ছে পানি ফুটন্ত অবস্থায় ৫ মিনিট রেখে চুলা বন্ধ করে দিতে হয়। ৫ মিনিটের বেশি ফুটন্ত অবস্থায় রাখলে সে পানিগুলো পুড়তে থাকে এবং সেটা শরীরের জন্য খুব ক্ষতিকর হয়ে যায়। কিন্তু কোন অজানা কারণে এই ফুটন্ত পানি মানুষজন এক ঘন্টা ধরেও ফুটায় অনেক সময় আমি দেখেছি। এত সময় ধরে ফুটাতে গিয়ে অনেক সময় মানুষ ভুলেও যায় যে চুলায় কিছু একটা আছে। আর ফুটন্ত পানি উপচে পড়ে চুলা বন্ধ হওয়ার নজির তো অহরহ। এখন কিন্তু RO ফিল্টার খুব সুলভে পাওয়া যায়। চাইলে কিন্তু প্রতিটা বাসায় লাগানো যায়। তাহলে আর এই পানি ফুটানোর ঝামেলা থাকে না। এটা ছাড়া ফিল্টারের পানি বিশুদ্ধ হয় বেশি এবং শিশুদের জন্য অনেক বেশি নিরাপদ।
এছাড়া মশার উপদ্রব হওয়ার কারণে অনেকেই এখন সন্ধ্যা হলেই সব জানালা বন্ধ করে রাখে। তবে ঘুমানোর আগে আমার মনে হয় জানালাগুলো খুলে দেওয়া দরকার। বিশেষ করে ভোররাতে বা সকালবেলায় চুলা জ্বালানোর আগে। অনেক সময় গ্যাসলাইনের পাইপও লিক হয়ে যেতে পারে। দুর্ঘটনা কিভাবে ঘটবে আমরা তো আসলে কেউই জানিনা।