06/03/2026
আমার কাবিন হয়েছে ৬ মাস। অনার্স থার্ড ইয়ার এক্সামের পরে উঠিয়ে নিবে।
যেটা বলতে চাচ্ছি, রমজান উপলক্ষে আমাদের দেশের তথাকথিত ঐতিহ্য অনুযায়ী আমার শ্বশুর বাড়িতে ইফতারি নিয়ে যাওয়া হলো। গেলেন আমার বাবা আর আমার কাকা। এর আগে কখনো যান নি তারা। খুশি মনেই গেলেন। শহরের বড় শপ থেকে কাপড়চোপড় সহ ইফতারির যাবতীয় জিনিস নিলেন।
ইফতারের পর আমার হাজব্যান্ড কল দিয়ে বলতেছে তারা কি এমনি বেড়াতে গেছেন নাকি ইফতারি নিয়ে। তারা নাকি শুধু মিষ্টি, জিলাপি নিয়েছেন। আর এটা তার মা তাকে বলেছে। আব্বু কে কল দিয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন তারা হয়তো মজা করেছে, আমরা তো সবকিছুই নিয়েছি।
ওই কথার পরে রাতে আব্বু খাবার খেলেন না। সাহরীতে নাম ছাড়াতে শুধু সালাদ দিয়ে ভাত খেলেন। সকালে আসার সময় তাদের ওই কথা জিজ্ঞেস করা হলে তারা অস্বীকার করে বলে তারা বলেনি বাইরের মানুষেরা বলেছে।
আসার সময় তাদের দুজনকে তারা পাঞ্জাবি দেয় (খুব ই নিম্ন মানের, অথচ আমার হাজব্যান্ড বলেছে তার বাবাকে সে ৮ হাজার টাকা দিযেছে পোশাক দেওয়ার জন্য) যেটা আনতে চাইছিলেন না শুধু লোকে মন্দ বলবে বলে নিয়ে আসছেন।
আব্বুর সামনে ইফতারের বিষয়টি অস্বীকার করলেও আমাকে রাতে কল দিয়ে শাশুড়ী অনেক কথা শুনিয়েছেন, ইফতারি কম হয়েছে। তারা অনেক অনেক মানুষ কে দাওয়াত করেছিল। এর মধ্যেই তিনি বললেন তারা কাবিনের সময় ২ ভরি স্বর্ণের বদলে কিছু চান নি। তবে এখন ভালো করেই চান।
এখন আসি হাজব্যান্ডের কথায়। পেশায় ফ্রিল্যান্সার (২৪) তার কাছে কাজ এবং টাকাই নাকি সব। সম্পর্ক রক্ষা করে চলা, মর্যাদা দেওয়া এগুলা কিছুই লাগেনা।
তার মাসিক ইনকাম প্রায় লাখের কাছাকাছি। অথচ গত ৬ মাসে সে কখনো জানতে চায়নি আমার কিছু লাগবে কিনা। তবে ৫ হাজার মতো টাকা দিয়েছে এই পর্যন্ত হাত খরচের জন্য।
আমার বাবা যে তার বাড়িতে গেলেন সে ঠিক করে কথা পর্যন্ত বলতে পারেনি। তারা খেয়েছেন কিনা এটা খেয়াল রাখা তো দূরের কথা জিজ্ঞেসও পর্যন্ত করেনি। যেটা আব্বুকে অনেক বেশি কষ্ট দিয়েছে। অথচ তার বাবা যখন আমাদের এখানে আসছিলেন তিনি প্রফুল্ল মনে, সন্তুষ্টিচিত্তে ফিরে গিয়েছিলেন।
বুঝতে পারছি, এমন মানুষদের সাথে সারাজীবন থাকতে গেলে আমার জীবন পুরো শেষ হয়ে যাবে। হাজব্যান্ডের অনুভূতিহীন আচরণের জন্য বিয়ের পর থেকে নিরবে দিন রাত শুধু চোখের পানি ফেলতেছি।
( নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক)