12/11/2025
কাঁচের শহর
পর্বঃ০৬
কেটে গেছে আরো পনেরো দিন ,পশ্চিম আকাশের সু্র্যটাকে মুহুর্তেই একরাশ মেঘ এসে ঢেকে দিলো , আস্তে আস্তে হিম বাতাস গাঁ ছুঁয়ে দিতে লাগলো এই বুঝি বৃষ্টি নামবে শান্ত চোখে আকাশ পানে চেয়ে আছে তন্দ্রা , সারা দিন ঘরে বসে থেকে সন্ধ্যা নামার খানিকটা আগে ছাদে এসে দাঁড়িয়েছে , আকাশ তার ভীষণ পছন্দ।দিন শেষে পাখিদের কিচিরমিচির গান গেয়ে দলবদ্ধ ভাবে বাড়ি ফেরার দৃশ্য তার বড্ড বেশি ভালো লাগে। হঠাৎ ফোনের আওয়াজে চোখ নামিয়ে ফোনের স্কিনে তাকালো।অচেনা নাম্বার দেখে ভ্রু জোড়া সামান্য কুঁচকে এলো তন্দ্রার , কল রিসিভ করলো।
— আসসালামু আলাইকুম ! কে ? ওপর পাশ নীরব হয়ে রইলো। আবার বলল !
— হ্যালো,,, কে ?
— ঔষধ খেয়েছেন ? নিবরতা ভেঙ্গে এবার জবাব এলো।
— মানে ! কে বলছেন ?
— আপনার শরীর কেমন আছে ?
— আরে,,,,হ আজব তো ! কে আপনি ?
— বাঘিনী,,,, নিজের খেয়াল খাবেন আপনি ওরহান চৌধুরীর ভীষণ শখের মানুষ।
— এই ওরহান চৌধুরীটা আবার কে ? আপনি কে বলছেন বলুন তো !
ওপর পাশের ব্যক্তি নিঃশব্দে হেসে কল কেটে দিলো।তন্দ্রা বিরক্তিতে চোখ মুখ কুঁচকে ফোনের দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে থেকে বিড়বিড় করে উঠলো
— কিরে ! একা একা কি বিড়বিড় করছিস ? আচমকা পেছন থেকে কথাটা বলল নিশি।চমকে পেছনে তাকিয়ে তন্দ্রা বলল।
— ধুর , তুই ভুত নাকি ?
— ভয় পেয়েছিস ? হাল্কা হেসে বলল।
— উম্ম,,,, একটু !
— বলিস কি ? তুই তো আমার বাঘিনী তুই ভয় পেয়েছিস ?
“ বাঘিনী “ শব্দটা শুনে তন্দ্রা কিছু একা ভাবলো,, তারপর চট করে বলে উঠলো।
— এই নিশি ! তুই কি ওরহান চৌধুরী নামে কাউকে চিনিস ?
— ওরহান চৌধুরী ? কই না তো । কেনো কিছু হয়েছে ?
— একটু আগে আমাকে একজন কল দিয়ে ছিলো, কথা নাই বার্তা নাই আমি ঔষধ খায়ছি কি না আমার শরীর কেমন আছে এসব জিজ্ঞেসা করতেছে। আর সেও আমাকে তোর মতো বাঘিনী বলে সম্বোধন করল। আর নিজের নাম জানিয়েছে ওরহান চৌধুরী।এখন সেই ওরহান চৌধুরী নাকি ওরহান চৌধুরীর হয়ে আমাকে কল করছিলো ! নাকি কেউ ওরহান চৌধুরী সেজে আমার সাথে প্যাংক করছে বুঝতেছিনা।
— উম্ম,,, বিষয়টা খুবই জটিল।
দুই বান্ধবীর কথোপকথনের মাঝে তন্দ্রা ফোনে টুং করে একটা মেসেজ এলো।ফোনের লক খুলে মেসেজ দেখে চক্ষুচড়ক গাছ তন্দ্রার হা করে মেসেজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে নিশি নিজেও সামান্য ঝুকে ফোনের স্কিনে তাকালো তারপর জোরে জোরে পরতে শুরু করলো মেসেজটি।
————
—— লঙ্কাবতী,,,! আমাকে নিয়ে আপনার এতো না ভাবলেও চলবে। নিজের যত্ন নিন ঠিক মতো নইলে আমি যত্ন নিতে শুরু করলে ব্যাপারটা আপনি হজম করতে পারবেন না।
মেসেজ পরে নিশি আর তন্দ্রা একে অপরের মুখ চাওয়াচাই করছে। মেসেজ দেওয়া ব্যক্তিটিই যে ওরহান চৌধুরী আর তাকে শীতল ভাষায় হুমকি দিয়েছে সেটা তন্দ্রা খুব ভালো মতোই বুঝতে পারছে। এতোক্ষণে চারিপাশটা অন্ধকার হয়ে এসেছে , দূর থেকে মাগরিবের আযানের প্রতিধ্বনি কানে ভেসে আসতেই নিশি বলল,
— আচ্ছা ! আগে নিচে চল এই ওরহান চৌধুরীকে নিয়ে নিচে গিয়ে গবেষণা করছি ,আযান দিয়ে দিচ্ছে।আর বৃষ্টিটি আসবে মনে হচ্ছে!
ভাবনায় ডুবে থাকা তন্দ্রার মাথায় ঘুড়ছে হাজারের চিন্তা কে এই ওরহান চৌধুরী ? কি চাই সে ? তন্দ্রার কোন উত্তর না পেয়ে নিশি হাল্কা ধাক্কা দিলো তাকে।
— কিরে কি ভাবছিস ?
নিশির ধাক্কায় ভাবনার জগত থেকে বেরিয়ে এলো তন্দ্রা ঠোঁট কামড়ে দ্রুত মাথা এপাশ ওপাশ করে ছোট্ট করে জবাব দিলো সে।
— নাহ্ কিছু না।
প্রচন্ড শব্দে ক্ষণে ক্ষণে মেঘেরা আকাশের বুক চিরে গর্জে উঠছে , আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছিলো আজ সারাটা দিন ও রাতে, শীতল হাওয়ার সাথে বর্ষার ঝিরিঝিরি বৃষ্টিরা তাল মিলিয়ে পৃথিবীর মাটিতে ঝড়ে পরবে।মাগরিবের আযানের সাথে সাথে বাড়ির ভেতরে ও বাইরের প্রতিটি লাইট জ্বলে উঠলো । চৌধুরী বাড়ি সমস্ত দেওয়াল ওএমনকি কারুকার্জ জিনিস পত্রে আছে আধুনিকতার ছোঁয়া।তিন তলা বিশিষ্ট বাড়িটির চার পাশে ফুলের বাগান। বাসার ঠিক ডান পাশের বাগানের মধ্য একটা দোলান , বাড়ির এক পাশে চৌধুরী বাড়ির চারটে গাড়ি ও আসফিয়াত আর আদিলের দুটো বাইক রাখা , বাড়ির নিচ তলায় এক পাশে হল রুম করা অপর পাশে রান্না ঘর , রান্না ঘরের পাশেই বেশ বড় ডাইনিং টেবিল তার পাশেই শিরি , দু’তলার চারটে রুম শিরির বাম পাশের এক রুমে আয়েশা পারভীন , তার পাশে রুমেটা আরহার আর ডান পাশে এক রুম রফিক সাহেব ও তার ছেলে আদিলের , তিন তলায় আসফিয়াত একাই থাকে। তার রুমটা বেশ সাজানো গোছানো।প্রতিটি বৃষ্টি কোণা বেলকুনিতে থাকা শুভ্র রঙ্গের ছোট্ট ছোট্ট ফলের কামিনী গাছ কে ছুঁয়ে ভিজিয়ে দিচ্ছে বারংবার।প্রকৃতির এই লীলাখেলা খুব মনোযোগ দিয়ে দেখছে রুমের ভেতরের সোফায় বসে থাকা আসফিয়াত।বৃষ্টি তার খুব একটা পছন্দ না হলেও আজ সে মনোযোগ দিয়ে এই বৃষ্টিই দেখে যাচ্ছে, হঠাৎ আনমনে বলে উঠলো,,,
— হৃদয়ের গভীরে যার বসবাস তারই অযত্নে করে নিজেকে শেষ করার এই প্রচেষ্টা কিভাবে সহ্য করি ? আমি আসফিয়াত ওরহান চৌধুরী আপনাকে কথা দিচ্ছি প্রাণ থাকতে আপনার কিচ্ছু হতে দেবে না।অবশ্য আপনি নিজেই এক বাঘিনী আসফিয়াত ওরহান চৌধুরীর একান্ত ব্যক্তিগত বাঘিনী “ মিসেস চৌধুরী” !
কথা গুলো বলতে বলতে আসফিয়াতের ঠোঁটে ভেসে উঠলো মুচকি হাসি আর চোখ দু’টোই ফুটে উঠলো গভীর রহস্য।কপালে পরে থাকা কিছু চুল হাত দিয়ে পিছে ঠেলে দিয়ে পাশে থাকা ফোনটি হাতে তুলে নিলো , গ্যালারিতে ঢুকে অসংখ্য ছবির মধ্যে থেকে খুঁজে বের করলো আনমনে ছাদে দাঁড়িয়ে থাকা তন্দ্রার একটা ছবি।যা কিছুক্ষণ আগেই কেউ আসফিয়াত কে পাঠিয়েছে।মায়াভরা দৃষ্টিতে চেয়ে আছে সে । কন্ঠে তীব্র মায়া ঢেলে উচ্চারণ করল ,,,,,
“ প্রাণপাখি “
মূহুর্তেই মায়ায় ভরা চোখ দু’টো ছলছল করে উঠলো।হাতের শাহাদাত আঙ্গুল দিয়ে ফোনের স্কিন থাকা তন্দ্রার ছবি খানা ছুঁয়ে দিতে লাগলো, জরিয়ে যাওয়া গলায় বলল,, বহু বাঁধা পেরিয়ে আমি আপনাকে খুঁজে পেয়েছি , পেয়েও হারিয়ে ফেলতে আমি পারবো না । এতো শক্তি আমার নেই। আমি যে আপনার বেলায় ভীষণ ভীতু
ভয় করে আমার ভীষণ ভয় ; কাছের মানুষ হারাতে হারাতে আজ আমি নিঃস্ব।চোখের পানিটুকু গাল বেয়ে গড়িয়ে পরার আগেই চোখ দু’টো বন্ধ করে নিলো আসফিয়াত।
রাত বাড়ার সাথে সাথে বৃষ্টি ও বাড়ছে তাল মিলিয়ে প্রচন্ড শব্দের সঙ্গে মেঘ গর্জে উঠছে থেকে থেকে চৌধুরী বাড়ির সকলে রাতের খাওয়া দাওয়া পর্ব শেষ করে যে যার রুমে এসে ঘুমিয়ে পরেছে অনেক আগেই, হসপিটাল থেকে আদিল ও বাড়িতে এসেছে বেশ কিছুদিন আগে , আদিল আগের থেকে অনেকটাই সুস্থ , তবে পুরোপুরি সুস্থ হতে এখনো মাসখানেক সময় লাগবে। হঠাৎ তীব্র আওয়াজের সাথে মেঘের গর্জনে গভীর ঘুমে তলিয়ে থাকা আদিল ধরফরিয়ে বিছানায় উঠে বসলো , ডান হাতে নিজের বুকের বাম পাশ চেপে ধরে একটা ভয়ার্ত ঢোক গিলে বলে উঠলো ,,,,
— উড়ি,,,,, আল্লাহ্ রে এখনি তো আমি ইন্নালিল্লাহ হয়ে যাছিলাম ।
— গুলি খেয়ে যখন মরিস নাই ! এই সামান্য মেঘের গর্জে তুই মরবি না । তাই এই মাঝ রাতে বাজে না বকে চুপচাপ ঘুমা।
আদিলের রুমে সোফায় বসে ল্যাপটপে কাজ করতে থাকা আসফিয়াত বলল।
আসফিয়াতকে নিজের রুমে দেখে কপাল কুঁচকে তাকালো আদিল কন্ঠস্বরটা একটু উঁচু করে বলল
— এই তুই এতো রাতে আমার রুমে কি করস ?
— পাহারা দিচ্ছি ।ল্যাপটপে চোখ রেখেই বলল আসফিয়াত।আসফিয়াতের কথা শুনে আদিলের কুঁচকানো কপাল আরো কুঁচকে এলো , সন্দেহের সুরে বলল
— পাহারা ! কিসের পাহারা ?
— কেন তুই জানিস না ? আমাদের এলাকার কুত্তা গুলো হঠাৎ উধাও হয়ে যাচ্ছে।
— কুত্তা উধাও হওয়ার সাথে তোর পাহারা দেওয়ার সম্পর্ক কি ? এই বার আসফিয়াত ল্যাপটপ থেকে চোখ সরিয়ে আদিলের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বলল
— আমি চাই না আমার এতো আদরের কুত্তা টাকেও কেউ উধাও করে দিক।
— এ্যা…. তুই কবে থেকে কুত্তা পালিশ ? আমি তো দেখলাম না।
— এই তো ২৪ বছর ধরে।
কথাটা বলে আসফিয়াত ল্যাপটপ সাথে করে নিয়ে রুম থেকে বেড়িয়ে গেলো।আদিল চোখ মুখ কুঁচকে চেয়ে আছে দরজার দিকে খানিক কখন বাদে আসফিয়াতের কথার অর্থ বুঝতে পেড়ে দাঁতে দাঁত চেপে প্রায় চেঁচিয়ে উঠলো,,,
— দা’ভাই,,,,,,
সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতে উঠতে আদিলের চেঁচানো শুনে মুচকি হাসলো আসফিয়াত বিড়বিড় করে বলল,,,
— গাঁধা একটা ।
আদিল বাড়ি আসার পর থেকে প্রতিদিন রাতে সবাই ঘুমানোর পর আসফিয়াত একবার করে আদিলের রুমে গিয়ে তাকে দেখে আসে। মাঝে মাঝে ঘুমন্ত আদিলের পাশে বসে ল্যাপটপে নিজের কাজ গুলো করে আজও তাই করছিলো।
————— সকাল ১০ টা বেজে ২০ মিনিট,,,,
বিছানায় এক পাশে কাত হয়ে ঘুমিয়ে আছে তন্দ্রা আচমকা ফোনের রিংটোনে ঘুমাচ্ছন্ন তন্দ্রার বন্ধ চোখ দুটো হাল্কা নড়ে উঠলো রিংটোরেন শব্দটা আরো তীব্র হলে ঘুমটা কিছুটা ছাড়লো তন্দ্রার। বালিশ পাশে রাখা ফোনটা হাতে নিয়ে দেখতে পেলো স্কিনে বড় বড় অক্ষরে লেখা আব্বা নামটা, সাথে সাথে উঠে বসে কল রিসিভ করলো সে ।
— হ্যাঁ আব্বা !
মেয়ের মুখে আব্বা ডাক শুনতেই মুখে হাসি ফুটলো তারিক মির্জার , মুখে থাকা পান চিবিয়ে দূরে পানের পিক ফেলে বলল
— হ,, আম্মাজান কেমন আছেন ? শরীর কেমন আছে ?
— জ্বী আব্বা ভালো আলহামদুল্লাহ ।
— তো আম্মা আপনারে যে অনেক দিন হইছে দেখিনা বলতেছি আম্মাজান আপনার পরীক্ষা কি শেষ হইছে ? কয়দিনের জন্য কি বাড়িতে আসা যাবে ? আপনার সাথে আমার কিছু কথা ও আছে।
— পরীক্ষা তো শেষ হইছে , ঠিক আছে আব্বা কালকে বাড়ি যাওয়ার ব্যবস্থা করতেছি।
— আমি কি কাল আপনারে নিয়ে আসতে যাবো ?
— না আব্বা তার কোন দরকার নাই আমি একাই চলে যাইতে পারবো।
— আচ্ছা আম্মাজান ঠিক আছে সাবধানে থাইকেন।কিছু দরকার হইলে আব্বা রে কল দিয়েন , কাল ট্রেনে উঠে আব্বা রে কল দিয়েন , আব্বা আগে থেকে স্টেশনে গিয়ে তার আম্মাজানের জন্য অপেক্ষা করবে ।
— ঠিক আছে আব্বা তুমিও সাবধানে থাইকো।
কল কেটে কিছু সময় স্থির হয়ে বসে রইলো তন্দ্রা , কিছু একটা ভেবে বিছানা ছেড়ে উঠে গিয়ে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো সে, খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে নিজেকে দেখতে লাগলো । নিজে বড্ড অচেনা লাগছে তার !
— কি দেখছিস ?
রুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বলল নিশি
— কাল বাড়ি যাবো।
— হঠাৎ ?
— আব্বা কল দিয়েছিলো। বাড়ি যেতে বলল অনেক দিন দেখে না আমাকে আর আমার ভালো লাগছে না তাই আমিও ভাবলাম বাড়িতে যায়।
— হুম ভালো করেছিস। মা বাবাকে দেখলে মন ভালো হয়ে যাবে।আচ্ছা ! তুই কি তোর অসুস্থতার কথা আংকেল আন্টিকে জানাবি ?
— নাহ্।
— কেন ?
— শুধু শুধু টেনশন করবে আর আমি চাই না আব্বা আম্মা আমার জন্য টেনশন করুক । আমি যে তার মেয়ে হওয়ারি যোগ্যতা হারাই ফেলছি, আব্বা আম্মা আমার শখ পূরণ করতে আমারে ঢাকা পাঠাই ছিলো আর আমি কি করছি ! ছিঃ কোন মুখ নিয়ে দাঁড়াবো তাদের সামনে ! বলতে পারিস ? কথা গুলো বলতে বলতে কান্না করছে তন্দ্রা
তন্দ্রারাকে কাঁদতে দেখে নিশির চোখ গুলো ভিছে উঠলো মুহূর্তেই।তন্দ্রাকে শান্তনা দেওয়ার মতো কোন ভাষা নিশির কাছে নেই।তন্দ্রা চোখ মুছে আবার বলতে শুরু করলো ,,,,,
— কখনো ভাবিনি আমি এমন বাজে ভাবে ঠকে যাবো।মন থেকে কাউকে ভালোবাসলে কি শুধুই যন্ত্রণা মেলে ?
— জানি না রে,,,, ভালোবাসা জিনিসটা হয়তো তোর আর আমার জন্য না । একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে নিশি বলল।
চলবে,,,,
লেখাঃ নীর।