নীরশিক্তর পাণ্ডুলিপি

নীরশিক্তর পাণ্ডুলিপি সাদামাটা কল্পনাকে মনের নিংড়ানো শব্দগুলো দিয়ে রঙিন করে তোলার প্রচেষ্টা করি....

কাঁচের শহর পর্বঃ০৬ কেটে গেছে আরো পনেরো দিন ,পশ্চিম আকাশের সু্র্যটাকে মুহুর্তেই একরাশ মেঘ এসে ঢেকে দিলো , আস্তে আস্তে হিম...
12/11/2025

কাঁচের শহর
পর্বঃ০৬

কেটে গেছে আরো পনেরো দিন ,পশ্চিম আকাশের সু্র্যটাকে মুহুর্তেই একরাশ মেঘ এসে ঢেকে দিলো , আস্তে আস্তে হিম বাতাস গাঁ ছুঁয়ে দিতে লাগলো এই বুঝি বৃষ্টি নামবে শান্ত চোখে আকাশ পানে চেয়ে আছে তন্দ্রা , সারা দিন ঘরে বসে থেকে সন্ধ্যা নামার খানিকটা আগে ছাদে এসে দাঁড়িয়েছে , আকাশ তার ভীষণ পছন্দ।দিন শেষে পাখিদের কিচিরমিচির গান গেয়ে দলবদ্ধ ভাবে বাড়ি ফেরার দৃশ্য তার বড্ড বেশি ভালো লাগে। হঠাৎ ফোনের আওয়াজে চোখ নামিয়ে ফোনের স্কিনে তাকালো।অচেনা নাম্বার দেখে ভ্রু জোড়া সামান্য কুঁচকে এলো তন্দ্রার , কল রিসিভ করলো।

— আসসালামু আলাইকুম ! কে ? ওপর পাশ নীরব হয়ে রইলো। আবার বলল !
— হ্যালো,,, কে ?
— ঔষধ খেয়েছেন ? নিবরতা ভেঙ্গে এবার জবাব এলো।
— মানে ! কে বলছেন ?
— আপনার শরীর কেমন আছে ?
— আরে,,,,হ আজব তো ! কে আপনি ?
— বাঘিনী,,,, নিজের খেয়াল খাবেন আপনি ওরহান চৌধুরীর ভীষণ শখের মানুষ।
— এই ওরহান চৌধুরীটা আবার কে ? আপনি কে বলছেন বলুন তো !

ওপর পাশের ব্যক্তি নিঃশব্দে হেসে কল কেটে দিলো।তন্দ্রা বিরক্তিতে চোখ মুখ কুঁচকে ফোনের দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে থেকে বিড়বিড় করে উঠলো
— কিরে ! একা একা কি বিড়বিড় করছিস ? আচমকা পেছন থেকে কথাটা বলল নিশি।চমকে পেছনে তাকিয়ে তন্দ্রা বলল।
— ধুর , তুই ভুত নাকি ?
— ভয় পেয়েছিস ? হাল্কা হেসে বলল।
— উম্ম,,,, একটু !
— বলিস কি ? তুই তো আমার বাঘিনী তুই ভয় পেয়েছিস ?
“ বাঘিনী “ শব্দটা শুনে তন্দ্রা কিছু একা ভাবলো,, তারপর চট করে বলে উঠলো।
— এই নিশি ! তুই কি ওরহান চৌধুরী নামে কাউকে চিনিস ?
— ওরহান চৌধুরী ? কই না তো । কেনো কিছু হয়েছে ?
— একটু আগে আমাকে একজন কল দিয়ে ছিলো, কথা নাই বার্তা নাই আমি ঔষধ খায়ছি কি না আমার শরীর কেমন আছে এসব জিজ্ঞেসা করতেছে। আর সেও আমাকে তোর মতো বাঘিনী বলে সম্বোধন করল। আর নিজের নাম জানিয়েছে ওরহান চৌধুরী।এখন সেই ওরহান চৌধুরী নাকি ওরহান চৌধুরীর হয়ে আমাকে কল করছিলো ! নাকি কেউ ওরহান চৌধুরী সেজে আমার সাথে প্যাংক করছে বুঝতেছিনা।
— উম্ম,,, বিষয়টা খুবই জটিল।
দুই বান্ধবীর কথোপকথনের মাঝে তন্দ্রা ফোনে টুং করে একটা মেসেজ এলো।ফোনের লক খুলে মেসেজ দেখে চক্ষুচড়ক গাছ তন্দ্রার হা করে মেসেজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে নিশি নিজেও সামান্য ঝুকে ফোনের স্কিনে তাকালো তারপর জোরে জোরে পরতে শুরু করলো মেসেজটি।
————
—— লঙ্কাবতী,,,! আমাকে নিয়ে আপনার এতো না ভাবলেও চলবে। নিজের যত্ন নিন ঠিক মতো নইলে আমি যত্ন নিতে শুরু করলে ব্যাপারটা আপনি হজম করতে পারবেন না।

মেসেজ পরে নিশি আর তন্দ্রা একে অপরের মুখ চাওয়াচাই করছে। মেসেজ দেওয়া ব্যক্তিটিই যে ওরহান চৌধুরী আর তাকে শীতল ভাষায় হুমকি দিয়েছে সেটা তন্দ্রা খুব ভালো মতোই বুঝতে পারছে। এতোক্ষণে চারিপাশটা অন্ধকার হয়ে এসেছে , দূর থেকে মাগরিবের আযানের প্রতিধ্বনি কানে ভেসে আসতেই নিশি বলল,

— আচ্ছা ! আগে নিচে চল এই ওরহান চৌধুরীকে নিয়ে নিচে গিয়ে গবেষণা করছি ,আযান দিয়ে দিচ্ছে।আর বৃষ্টিটি আসবে মনে হচ্ছে!
ভাবনায় ডুবে থাকা তন্দ্রার মাথায় ঘুড়ছে হাজারের চিন্তা কে এই ওরহান চৌধুরী ? কি চাই সে ? তন্দ্রার কোন উত্তর না পেয়ে নিশি হাল্কা ধাক্কা দিলো তাকে।
— কিরে কি ভাবছিস ?
নিশির ধাক্কায় ভাবনার জগত থেকে বেরিয়ে এলো তন্দ্রা ঠোঁট কামড়ে দ্রুত মাথা এপাশ ওপাশ করে ছোট্ট করে জবাব দিলো সে।
— নাহ্ কিছু না।

প্রচন্ড শব্দে ক্ষণে ক্ষণে মেঘেরা আকাশের বুক চিরে গর্জে উঠছে , আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছিলো আজ সারাটা দিন ও রাতে, শীতল হাওয়ার সাথে বর্ষার ঝিরিঝিরি বৃষ্টিরা তাল মিলিয়ে পৃথিবীর মাটিতে ঝড়ে পরবে।মাগরিবের আযানের সাথে সাথে বাড়ির ভেতরে ও বাইরের প্রতিটি লাইট জ্বলে উঠলো । চৌধুরী বাড়ি সমস্ত দেওয়াল ওএমনকি কারুকার্জ জিনিস পত্রে আছে আধুনিকতার ছোঁয়া।তিন তলা বিশিষ্ট বাড়িটির চার পাশে ফুলের বাগান। বাসার ঠিক ডান পাশের বাগানের মধ্য একটা দোলান , বাড়ির এক পাশে চৌধুরী বাড়ির চারটে গাড়ি ও আসফিয়াত আর আদিলের দুটো বাইক রাখা , বাড়ির নিচ তলায় এক পাশে হল রুম করা অপর পাশে রান্না ঘর , রান্না ঘরের পাশেই বেশ বড় ডাইনিং টেবিল তার পাশেই শিরি , দু’তলার চারটে রুম শিরির বাম পাশের এক রুমে আয়েশা পারভীন , তার পাশে রুমেটা আরহার আর ডান পাশে এক রুম রফিক সাহেব ও তার ছেলে আদিলের , তিন তলায় আসফিয়াত একাই থাকে। তার রুমটা বেশ সাজানো গোছানো।প্রতিটি বৃষ্টি কোণা বেলকুনিতে থাকা শুভ্র রঙ্গের ছোট্ট ছোট্ট ফলের কামিনী গাছ কে ছুঁয়ে ভিজিয়ে দিচ্ছে বারংবার।প্রকৃতির এই লীলাখেলা খুব মনোযোগ দিয়ে দেখছে রুমের ভেতরের সোফায় বসে থাকা আসফিয়াত।বৃষ্টি তার খুব একটা পছন্দ না হলেও আজ সে মনোযোগ দিয়ে এই বৃষ্টিই দেখে যাচ্ছে, হঠাৎ আনমনে বলে উঠলো,,,

— হৃদয়ের গভীরে যার বসবাস তারই অযত্নে করে নিজেকে শেষ করার এই প্রচেষ্টা কিভাবে সহ্য করি ? আমি আসফিয়াত ওরহান চৌধুরী আপনাকে কথা দিচ্ছি প্রাণ থাকতে আপনার কিচ্ছু হতে দেবে না।অবশ্য আপনি নিজেই এক বাঘিনী আসফিয়াত ওরহান চৌধুরীর একান্ত ব্যক্তিগত বাঘিনী “ মিসেস চৌধুরী” !

কথা গুলো বলতে বলতে আসফিয়াতের ঠোঁটে ভেসে উঠলো মুচকি হাসি আর চোখ দু’টোই ফুটে উঠলো গভীর রহস্য।কপালে পরে থাকা কিছু চুল হাত দিয়ে পিছে ঠেলে দিয়ে পাশে থাকা ফোনটি হাতে তুলে নিলো , গ্যালারিতে ঢুকে অসংখ্য ছবির মধ্যে থেকে খুঁজে বের করলো আনমনে ছাদে দাঁড়িয়ে থাকা তন্দ্রার একটা ছবি।যা কিছুক্ষণ আগেই কেউ আসফিয়াত কে পাঠিয়েছে।মায়াভরা দৃষ্টিতে চেয়ে আছে সে । কন্ঠে তীব্র মায়া ঢেলে উচ্চারণ করল ,,,,,
“ প্রাণপাখি “

মূহুর্তেই মায়ায় ভরা চোখ দু’টো ছলছল করে উঠলো।হাতের শাহাদাত আঙ্গুল দিয়ে ফোনের স্কিন থাকা তন্দ্রার ছবি খানা ছুঁয়ে দিতে লাগলো, জরিয়ে যাওয়া গলায় বলল,, বহু বাঁধা পেরিয়ে আমি আপনাকে খুঁজে পেয়েছি , পেয়েও হারিয়ে ফেলতে আমি পারবো না । এতো শক্তি আমার নেই। আমি যে আপনার বেলায় ভীষণ ভীতু
ভয় করে আমার ভীষণ ভয় ; কাছের মানুষ হারাতে হারাতে আজ আমি নিঃস্ব।চোখের পানিটুকু গাল বেয়ে গড়িয়ে পরার আগেই চোখ দু’টো বন্ধ করে নিলো আসফিয়াত।

রাত বাড়ার সাথে সাথে বৃষ্টি ও বাড়ছে তাল মিলিয়ে প্রচন্ড শব্দের সঙ্গে মেঘ গর্জে উঠছে থেকে থেকে চৌধুরী বাড়ির সকলে রাতের খাওয়া দাওয়া পর্ব শেষ করে যে যার রুমে এসে ঘুমিয়ে পরেছে অনেক আগেই, হসপিটাল থেকে আদিল ও বাড়িতে এসেছে বেশ কিছুদিন আগে , আদিল আগের থেকে অনেকটাই সুস্থ , তবে পুরোপুরি সুস্থ হতে এখনো মাসখানেক সময় লাগবে। হঠাৎ তীব্র আওয়াজের সাথে মেঘের গর্জনে গভীর ঘুমে তলিয়ে থাকা আদিল ধরফরিয়ে বিছানায় উঠে বসলো , ডান হাতে নিজের বুকের বাম পাশ চেপে ধরে একটা ভয়ার্ত ঢোক গিলে বলে উঠলো ,,,,
— উড়ি,,,,, আল্লাহ্ রে এখনি তো আমি ইন্নালিল্লাহ হয়ে যাছিলাম ।
— গুলি খেয়ে যখন মরিস নাই ! এই সামান্য মেঘের গর্জে তুই মরবি না । তাই এই মাঝ রাতে বাজে না বকে চুপচাপ ঘুমা।
আদিলের রুমে সোফায় বসে ল্যাপটপে কাজ করতে থাকা আসফিয়াত বলল।
আসফিয়াতকে নিজের রুমে দেখে কপাল কুঁচকে তাকালো আদিল কন্ঠস্বরটা একটু উঁচু করে বলল
— এই তুই এতো রাতে আমার রুমে কি করস ?
— পাহারা দিচ্ছি ।ল্যাপটপে চোখ রেখেই বলল আসফিয়াত।আসফিয়াতের কথা শুনে আদিলের কুঁচকানো কপাল আরো কুঁচকে এলো , সন্দেহের সুরে বলল
— পাহারা ! কিসের পাহারা ?
— কেন তুই জানিস না ? আমাদের এলাকার কুত্তা গুলো হঠাৎ উধাও হয়ে যাচ্ছে।
— কুত্তা উধাও হওয়ার সাথে তোর পাহারা দেওয়ার সম্পর্ক কি ? এই বার আসফিয়াত ল্যাপটপ থেকে চোখ সরিয়ে আদিলের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বলল
— আমি চাই না আমার এতো আদরের কুত্তা টাকেও কেউ উধাও করে দিক।
— এ্যা…. তুই কবে থেকে কুত্তা পালিশ ? আমি তো দেখলাম না।
— এই তো ২৪ বছর ধরে।

কথাটা বলে আসফিয়াত ল্যাপটপ সাথে করে নিয়ে রুম থেকে বেড়িয়ে গেলো।আদিল চোখ মুখ কুঁচকে চেয়ে আছে দরজার দিকে খানিক কখন বাদে আসফিয়াতের কথার অর্থ বুঝতে পেড়ে দাঁতে দাঁত চেপে প্রায় চেঁচিয়ে উঠলো,,,
— দা’ভাই,,,,,,
সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতে উঠতে আদিলের চেঁচানো শুনে মুচকি হাসলো আসফিয়াত বিড়বিড় করে বলল,,,
— গাঁধা একটা ।

আদিল বাড়ি আসার পর থেকে প্রতিদিন রাতে সবাই ঘুমানোর পর আসফিয়াত একবার করে আদিলের রুমে গিয়ে তাকে দেখে আসে। মাঝে মাঝে ঘুমন্ত আদিলের পাশে বসে ল্যাপটপে নিজের কাজ গুলো করে আজও তাই করছিলো।

————— সকাল ১০ টা বেজে ২০ মিনিট,,,,

বিছানায় এক পাশে কাত হয়ে ঘুমিয়ে আছে তন্দ্রা আচমকা ফোনের রিংটোনে ঘুমাচ্ছন্ন তন্দ্রার বন্ধ চোখ দুটো হাল্কা নড়ে উঠলো রিংটোরেন শব্দটা আরো তীব্র হলে ঘুমটা কিছুটা ছাড়লো তন্দ্রার। বালিশ পাশে রাখা ফোনটা হাতে নিয়ে দেখতে পেলো স্কিনে বড় বড় অক্ষরে লেখা আব্বা নামটা, সাথে সাথে উঠে বসে কল রিসিভ করলো সে ।
— হ্যাঁ আব্বা !
মেয়ের মুখে আব্বা ডাক শুনতেই মুখে হাসি ফুটলো তারিক মির্জার , মুখে থাকা পান চিবিয়ে দূরে পানের পিক ফেলে বলল
— হ,, আম্মাজান কেমন আছেন ? শরীর কেমন আছে ?
— জ্বী আব্বা ভালো আলহামদুল্লাহ ।
— তো আম্মা আপনারে যে অনেক দিন হইছে দেখিনা বলতেছি আম্মাজান আপনার পরীক্ষা কি শেষ হইছে ? কয়দিনের জন্য কি বাড়িতে আসা যাবে ? আপনার সাথে আমার কিছু কথা ও আছে।
— পরীক্ষা তো শেষ হইছে , ঠিক আছে আব্বা কালকে বাড়ি যাওয়ার ব্যবস্থা করতেছি।
— আমি কি কাল আপনারে নিয়ে আসতে যাবো ?
— না আব্বা তার কোন দরকার নাই আমি একাই চলে যাইতে পারবো।
— আচ্ছা আম্মাজান ঠিক আছে সাবধানে থাইকেন।কিছু দরকার হইলে আব্বা রে কল দিয়েন , কাল ট্রেনে উঠে আব্বা রে কল দিয়েন , আব্বা আগে থেকে স্টেশনে গিয়ে তার আম্মাজানের জন্য অপেক্ষা করবে ।
— ঠিক আছে আব্বা তুমিও সাবধানে থাইকো।

কল কেটে কিছু সময় স্থির হয়ে বসে রইলো তন্দ্রা , কিছু একটা ভেবে বিছানা ছেড়ে উঠে গিয়ে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো সে, খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে নিজেকে দেখতে লাগলো । নিজে বড্ড অচেনা লাগছে তার !
— কি দেখছিস ?
রুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বলল নিশি
— কাল বাড়ি যাবো।
— হঠাৎ ?
— আব্বা কল দিয়েছিলো। বাড়ি যেতে বলল অনেক দিন দেখে না আমাকে আর আমার ভালো লাগছে না তাই আমিও ভাবলাম বাড়িতে যায়।
— হুম ভালো করেছিস। মা বাবাকে দেখলে মন ভালো হয়ে যাবে।আচ্ছা ! তুই কি তোর অসুস্থতার কথা আংকেল আন্টিকে জানাবি ?
— নাহ্।
— কেন ?
— শুধু শুধু টেনশন করবে আর আমি চাই না আব্বা আম্মা আমার জন্য টেনশন করুক । আমি যে তার মেয়ে হওয়ারি যোগ্যতা হারাই ফেলছি, আব্বা আম্মা আমার শখ পূরণ করতে আমারে ঢাকা পাঠাই ছিলো আর আমি কি করছি ! ছিঃ কোন মুখ নিয়ে দাঁড়াবো তাদের সামনে ! বলতে পারিস ? কথা গুলো বলতে বলতে কান্না করছে তন্দ্রা
তন্দ্রারাকে কাঁদতে দেখে নিশির চোখ গুলো ভিছে উঠলো মুহূর্তেই।তন্দ্রাকে শান্তনা দেওয়ার মতো কোন ভাষা নিশির কাছে নেই।তন্দ্রা চোখ মুছে আবার বলতে শুরু করলো ,,,,,

— কখনো ভাবিনি আমি এমন বাজে ভাবে ঠকে যাবো।মন থেকে কাউকে ভালোবাসলে কি শুধুই যন্ত্রণা মেলে ?
— জানি না রে,,,, ভালোবাসা জিনিসটা হয়তো তোর আর আমার জন্য না । একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে নিশি বলল।

চলবে,,,,
লেখাঃ নীর।

কাঁচের শহর পর্ব : ৫ সামনে তাকিয়ে কার ড্রাইভ করা রাহিন একটু পর পর আড়চোখেপর্যবেক্ষণ করছে তার পাশে চিন্তিত মুখ নিয়ে বসে থা...
25/02/2025

কাঁচের শহর
পর্ব : ৫

সামনে তাকিয়ে কার ড্রাইভ করা রাহিন একটু পর পর আড়চোখে
পর্যবেক্ষণ করছে তার পাশে চিন্তিত মুখ নিয়ে বসে থাকা আসফিয়াত কে।
~ স্যার কখন থেকে কি নিয়ে এতো চিন্তা করছে ? মনে মনে ভবলো রাহিন। কন্ঠস্বরটা একটু নিচু করে ডাকলো আসফিয়াত কে।
~ স্যার..
রাহিনের এই ডাক যেন আসফিয়াতের কান পর্যন্ত পৌঁছালো না , কোন উত্তর না পেয়ে রাহিন দ্বিতীয় বার ডাকলো ,
~ স্যার,
এইবার আসফিয়াত রাহিনের দিকে তাকায়ে ভ্রু জোড়া উঁচু নিচু করলো যার অর্থ হচ্ছে কি হয়েছে ? আসফিয়াতের তাকানো ভঙ্গি দেখে রাহিন প্রশ্ন করলো ,

— আপনি কি কিছু নিয়ে চিন্তিত ?
~ নাহ্ তেমন কিছু না, তবে রাহিন ঐ চোখ জোড়া,,,,,,!
~কোন চোখ জোড়া স্যার ?
~ নাহ্ কিছু না।

ঘুটঘুটে অন্ধকার রুমের হাত পা বাঁধা অবস্থায় চার পাঁচ কে অজ্ঞান করে ফেলে রাখা হয়েছে , তাদের সামনেই আসফিয়াত চেয়ারে বসে আয়েস করে কফির মগে একের পর এক চুমুক দিচ্ছে
তাদের মধ্যে একজনের জ্ঞান ফিরে আসতেই সে চেঁচামেচি শুরু করে দেয়,

— কে,,, কে আমাকে বেঁধে রেখেছে ? আমাকে খুলে দে বলছি , আমাকে চিনিস না তোরা, সাহস থাকলে সামনে আয় ।
ছেলেটার এমন চেঁচামেচিতে আয়েস করে কফি খাওয়া আসফিয়াত চরম বিরক্তিতে চোখমুখ কুঁচকে ফেলে হাত দিয়ে ইশার করতেই রুমের সব গুলো আলো জ্বলে উঠল।সামনে বসা ব্যক্তিকে দেখেই ছেলেটার মুখ শুকিয়ে গেল অস্পষ্টস্বরে বলল,,,,

— ক,,,, কে আপনি ?
— তোর বাপ । কফির মগে শেষ চুমুক দিয়ে মগ টি রাহিনের হাতে ধরিয়ে দিতে দিতে বলল আসফিয়াত।
— বাঁচে চাইলে যা প্রশ্ন করবো তার সঠিক জবাব দিবি ,

আসফিয়াতের কথা শুনে ছেলে গুলো একে অপরের মুখ চাওয়াচাই করল। তার মনে এক ছেলে বলে উঠলো,,,
— আমরা কিছুই বলবো না , আপনার যা ইচ্ছা করেন।

ছেলেটার এই কথা শুনে আসফিয়াত শান্ত চোখে তার দিকে তাকল।
— আমরা,,,,,,

কথাটা আর শেষ করতে পরলো না ছেলেটি , তার আগেই বিকট শব্দ তুলে বন্দুকের ভেতর থাকা ছয়টি গুলি বুক টা ঝাঁঝরা করে দিলো ছেলেটির , মুখ থেকে র,,ক্ত গড়িয়ে পরলো মাটিতে , শরীরটা বার দু’এক ঝাঁকুনি দিয়ে নিথর হয়ে পড়ি রইলো , বাকি তিনজন ছেলের সামনে !

— কান খুলে শুনে রাখ ; আমার বলা কথার উল্টো জবাব দিলে তার পরিনাম হবে শুধু মৃর্ত্যু। শীতল গলায় বলল আসফিয়াত।

রাহিন বিস্ময়কর দৃস্টিতে চেয়ে আছে আসফিয়াতের দিকে ,
রাগের কোন আভাস নেই , প্রচন্ড শান্ত থেকেও কি ভাবে মানুষ খু**ন করা যায় সেটা স্যার কে না দেখলে জানা হতো না আমার। আদিল স্যার আমাকে বলে ছিলেন আসফিয়াত স্যার খুবই ভয়ংকর মানুষ তিনি নাকি প্রচন্ড শান্ত থেকেও মানুষ খু**ন করার ক্ষমতা রাখেন। কিন্তু এতোটা শান্ত,, যেনো এখানে কিছু ঘটেইনি।মনে মনে কথা গুলো ভাবছে রাহিন।

আকস্মিকভাবে এমন ঘটনার জন্য বাকী ছেলে গুলো থরথর করে কাঁপতে লাগলো , শুকনো ঢোক গিলে আতঙ্কিত চোখে চেয়ে আছে , শান্ত চোখের আসফিয়াতের দিকে।
— আদিলের উপর কে গুলি করেছিল ?
— তারিক , চট করে বলে উঠলো বাম পাশের ছেলেটি।
আসফিয়াত ভ্রু জোড়া কিঞ্চিৎ কুঁচকে তাকাল, ছেলেটি তার তাকানোর ভঙ্গি দেখে বুঝতে পারলো সে জানতে চাইছে তারিক কে ? সময় নষ্ট না করে ছেলেটি আবার বলল,,,
— এই যে তারিক।মাটিতে পরে থাকা লা*শ কে দেখিয়ে বলল, আমরা কিছু করিনি !

আসফিয়াত ছোট্ট শ্বাস ছেড়ে , কপালে পরে থাকা চুল গুলো বাম হাত দিয়ে পিছনে ঠেলে দিতে দিতে রুমে থাকা গার্ড দের বলল,,,

— বাকী গুলো কে কে*টে নেকরে গুলো কে দিয়ে দে ! কথা শেষ করে চেয়ার থেকে উঠে হনহনিয়ে রুম থেকে বেড়িয়ে গেল সে।
———————
কেটে গেছে আরো সাতদিন , আদিল আগের থেকে কিছুটা সুস্থ বোধ করছে। এই দু’দিন একটা মুহুর্তের জন্য ও আসফিয়াত আদিল কে চোখের আড়াল করেনি।মায়ের পেটের ভাই না হওয়া সর্তেও তার প্রতি আসফিয়াতের এমন খাঁটি ভালোবাসা রাহিন কে মুগ্ধ করে । আদিল সামান্য ব্যথায় আহ্,,,, বললেও আসফিয়াত ছুটে যায় ডাক্তার কে ডাকতে। আদিলের বেডের পাশের ঢুল তাই বসে ফোন স্ক্রোল করছে আসফিয়াত ,

— দা’ ভাই,
— হুম ।ফেসবুক স্ক্রোল করতে করতে বলল ,
— বাড়ি যাবো কবে ?
— কেন ?
— কেন মানে ! তুই বসে বসে ফেসবুক স্ক্রোল করছিস !
— তো কি করবো ! চোখ উঁচিয়ে বলল ,
আর আমার ফেসবুকিং করার সাথে তোর বাড়ি যাওয়ার কানেকশন কি ?

— আমি সারাদিন এই কেবিনে পরে আছি , কত বছর হয় আমি বাড়ি যায় না , মায়ের হাতের রান্না করা খাবার খাই না।
আদিল অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দা’ভাইয়ের দিকে ! আসফিয়াত আদিলের কথা শুনে ঘাড় কাঁত করে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষন , তারপর দাঁত কিরমিরিয়ে বলল ,
— আমি বলেছিলাম রাস্তায় গুলি খেতে পড়ে থাকতে ?
— কি কথা হচ্ছে দুই ভাইয়ের মাঝে ! কেবিনের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে বললেন আয়শা পারভীন ।মাকে দেখে বসা থেকে উঠে দাঁড়াল আসফিয়াত।
— মা,,,,
— কেমন লাগছে আব্বু ? মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল। মায়ের স্পর্শ পেয়ে আদিলের ঠোঁটে মিষ্টি হাসি ফুটে উঠল। তারপর মায়ের হাতে চুমু খেয়ে বলল
— দেখো মা আমি একদম সুস্থ হয়ে গেছি।
— হ্যাঁ ঐ তো ডাক্তার তোকে এমনি এমনি এখানে রেখে দিয়েছে আপ্যায়ন করার জন্য , তুই ডাক্তার সাহেবের জামাই লাগিস কি না ! ফোর্ণ কেটে দূরে দাঁড়ানো আসফিয়াত বলল কথাটা।

আসফিয়াতের এই কথা শুনে আদিল ঠ্যাঁশ করে বলে উঠলো,,,

— এই দা’ভাই তুই মেয়েটাকে দেখেছিস ?
— কোন মেয়ে ? ভ্রু কুঁচকে বলল ,
— ঐ তো ডাক্তার সাহেবের মেয়ে কে !
— ডাক্তারের মেয়ে কে আমি কই থেকে দেখবো ? আশ্চর্য ! ডাক্তার সাহেবের মেয়ে কি আমার ঘরের বউ ! যে চাইলেই দেখা যাবে ?
— ছিঃ ছিঃ আস্তাগফিরুল্লাহ্,,, তোর বউ হবে কোন ? ডাক্তারের জামাই আমি হলে বউটা তো আমার হওয়ার কথা ! তোর তো হবে ছোট বোন। তাই না মা ?

দুই ছেলের কান্ড দেখে আয়শা পারভীন এতোক্ষন মুখ টিপে হাসলেও আদিলের বলা শেষ কথা শুনে তিনি আর হাসি দমিয়ে রাখতে পারলেন না উচ্চস্বরে হেসে উঠলেন , খানিক হেসে আসফিয়াতের উদ্দেশ্যে বললেন,,,

— এই আসফি তুই যা তো দেখ গিয়ে ডাক্তারের সাথে কথা বলে আদি কে কবে বাড়ি নিয়ে যেতে পারবো।
— হুম ঠিক আছে তুমি বসো আমি দেখি কি করা যায়। বলেই আসফিয়াত কেবিন থেকে বেড়িয়ে গেল।

সকাল ৯ টা বেজে ২০ মিনিট ! ১২০ নম্বর রুমের গাইনি বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডাক্তারঃ তানিয়া তারান্নুম কেবিনের ঠিক বাম পাশে ওয়েটিং লিষ্টে বসে আছে তন্দ্রা , নিশির কিছু কাজ থাকায় আজ তন্দ্রাকে একাই আসতে হয়েছে।বেশ কিছুক্ষন পর একজন নার্স কেবিন থেকে বেড়িয়ে বলে উঠলেন ,

— তাসদিরা তন্দ্রা কে ?
_ জ্বি আমি ! বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে বলল।
— ওহ্ আসুন।
তন্দ্রা দরজা ঠেলে কেবিনে প্রবেশ করতেই ডাক্তারের সাথে চোখাচোখি হয় ,পরিবর্তে তিনি মিষ্টি হেসে তন্দ্রাকে বলেন ,
— বসুন , আপনাকে কিছু টেস্ট দিয়েছিলাম করেছেন সেগুলো ?
— জ্বি , এই যে ! তন্দ্রা হাতে থাকা রিপোর্ট ডাক্তারের দিকে এগিয়ে দেয়।
ভালোমতো রিপোর্ট দেখে ডাক্তার তন্দ্রাকে বলল,,
— হুম ! আপনার রিপোর্ট তো নিগেটিভ এসেছে ! মানে আপনার পেটে কোন বেবি নেই !
— তাহলে , ডাক্তার ! টেস্টে যে পজিটিভ আসলো ?
— দেখুন,,,, এটা যে স্ট্রিপ দিয়ে টেস্ট করা হয় সেই স্ট্রিপ আসলে বাচ্চা ডিটেকটর না।�একজন মহিলা যখন বাচ্চা কনসিভ করে তার ৬ দিনের মধ্যে human chorionic gonadotropin (HCG) নামক একটি হরমোন নিঃসৃত হয় দেহ থেকে যা ইউরিন এর মাধ্যনে দেহ থেকে বের হয়। হরমনটি মূলত syncytiotrophoblast (প্লাসেন্টা অংশ) রক্ষার কাজে ব্যবহৃত হয়।�কিন্তু এই একই হরমোন অনেক টিউমার যেমন : Seminoma, choriocarcinoma, germ cell tumors, hydatidiform mole formation, teratoma with elements of choriocarcinoma, and islet cell tumor এর কারণেও নি:সৃত হতে পারে। তখন তো প্রেগনেন্সি টেস্ট পজেটিভ দেখাবে।- এক নাগারে কথা গুলো বললেন ডাক্তার।
— তার মানে আমার কি টিউমার আছে ?
ডাক্তার ছোট শ্বাস ছেড়ে শুকনো মুখে বললেন,,,
— হ্যাঁ,, আপনার একটা টিউমার রয়েছে ! কিন্তু ভয়ের কিছু নেই এটা ঔষধের দ্বারা ঠিক হয়ে যাবে আশা করা যায়।আমি ঔষধ লিখে দিচ্ছি সে গুলো ঠিক মতো খাবেন আর দু’সপ্তাহ পর এসে আমাকে দেখাবেন।
__ হুম ,,,ঠিক আছে !
কথা শেষ করে কেবিন থেকে বের হতেই , কারো বুকের সাথে ধাক্কা খেলো তন্দ্রা। চোখ তুলে তাকাতেই দেখতে পেলো , গভীর কালো চোখের অধিকারী লম্বা এক পুরুষ মাথা নিচু করে চেয়ে আছে তার দিকে।দুজনের চোখাচোখি হতেই ছিঁটকে দূরে সরে গেলো তন্দ্রা। দ্রুত কন্ঠে বলে উঠলো,,
— সরি,, আমি খুব সরি ! আসলে আমি আপনাকে খেয়াল করিনি।
— হুম ঠিক আছে আমার সাথে ধাক্কা খেয়েছেন ঠিক আছে কিন্তু অন্য কারো বুকে গিয়ে ধাক্কা খাইয়েন না। ঠোঁটে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে বলল।
— মানে ?
__ উম্ম,,,,, না কিছু না।
পাশ কাটি চলে গেলো তন্দ্রা। পিছনে ঘুরে তন্দ্রার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ঠোঁটে মৃদু হাসি টেনে আসফিয়াত বিড়বিড় করে বলল ,,,
— সাহসিনী ! তোমায় চিনতে আমি কি করে ভুল করি,,,,,
সেই তীক্ষ্ন চাহনির কাজল বরণ আঁখি যুগল সেই এক কন্ঠস্বর কি করে ভুলি ?

চলবে,,,,,,
লেখাঃ নীর।

15/12/2024

তুমি আমায় কল্পনায় রেখো
আমি তোমায় বাস্তবে খুঁজে নেবো ।

অপ্রকাশিত এক নতুন গল্পের লাইন ;
লেখা : নীর

10/10/2024

আমরা প্রতিটা মানুষই একজন নির্দিস্ট মানুষের কাছে প্রচন্ড বেশি অসহায়। সেই মানুষটা যতই ভুল করুক না কেন , আমরা হয়ত রাগ করি অথবা এতোটা অভিমান হয় যে ভালোবাসাটা অভিমানের পাহাড়ে চাপা পড়ে যায় ! কিন্তু কখনোই তাকে ঘৃণা করতে পারিনা ! ঠিক ক্ষমা করে দেয়। - বলল তন্দ্রা।

- আসফিয়াত গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তন্দ্রার দিকে

….এমন অসহায় মানুষ কখন হয় ?

- যখন আপনি কাউকে নিজের থেকেও না বরং সিমাহীন অথবা অতিরিক্ত বেশি ভালোবেসে ফেলবেন তখন।


- নীর।

27/08/2024

অর্থহীন পুরুষ , আর সৌন্দর্যহীন নারী ,
শুধু কবিতা আর গল্পতেই গুরুত্ব পায় 💔

লাইন : সংগৃহীত।

কাঁচের শহর পর্ব  : ৪ অন্ধকারের রাত পড়িয়ে উজ্জ্বল সূর্য বেড়িয়ে এসেছে অনেক আগেই। ফ্লোরে পরে থাকা আসফিয়াতের ফোনটা বিরতিহীন ...
14/04/2024

কাঁচের শহর

পর্ব : ৪

অন্ধকারের রাত পড়িয়ে উজ্জ্বল সূর্য বেড়িয়ে এসেছে অনেক আগেই। ফ্লোরে পরে থাকা আসফিয়াতের ফোনটা বিরতিহীন ভাবে বেজেই চলেছে সেই ১০ মিনিট ধরে। আসফিয়াত ফোনের আওয়াজে পিটপিট করে চোখে নিজেকে ফ্লোরে আবিষ্কার করল। উঠে বসলো আসফিয়াত, মাথাটা কেমন ঝিম ধরে আছে তার চোখ দুটো বন্ধ করতেই মনে পারলো কাল রাতের ঘটনা। তাড়াতাড়ি উঠে ওয়াশ রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিল সে। পরনের জামা কাপড় ছেড়ে কাবার্ড থেকে সাদা রঙের একটা ট্রি-শার্ট আর কালো রঙের একটা জিন্স পরে রেডি হয়ে রুম থেকে বেড়িয়ে গেল আসফিয়াত। বাড়ি থেকে বের হতে হতে সার্ভেন্টদের ডেকে বলে গেল তার রুমটা যেন পরিষ্কার করে দেওয়া হয়।
ICU এর কেবিনের দরজা ঠেলে প্রবেশ করল আসফিয়াত। আদিল নিঃশব্দে শুয়ে আছে বেডে উপর মুখে তার অক্সিজেন মাক্স লাগানো। বেডের পাশে রাখা হার্ট মনিটরের টুট টুট শব্দ জানান দিচ্ছে আদিলের হার্টবিট এখনো চলছে। আসফিয়াত বেডের পাশে থাকা টুলটায় গিয়ে বসলো। নিজের ছোট্ট ভাই টারএমন অবস্থা দেখে চোখ দুটো ছলছল করে উঠলো আসফিয়াতের। আদিলের বাম হাতটা নিজের দুই হাতের মুঠোয় নিয়ে আদিলের দিকে তাকাল সে।
~~ আদি,,,, দেখ আমি দা'ভাই। কিচ্ছু হবে না তোর। তোর উপর করা আঘাতের তিনগুণ বেশি আঘাত আর যন্ত্রণা তাদের আমি দেবো। ,,,,, মায়ের কি অবস্থা রাহিন ?
~~ কাল রাতে ম্যডামের জ্ঞান ফিরেছিল। জ্ঞান ফেরার পর আদিল স্যার কে দেখার জন্য অনেক পাগলামি করছিল। আমি কেবিনের বাইরে থেকে আদিল স্যার কে দেখিয়ে অনেক বুঝিয়ে ম্যাডাম আর রফিক স্যার কে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছি।
~~ওহ্ তাহলে হয়তো মা ঘুমাচ্ছে। আমি আসার সময় দেখিনি।
~~ স্যার টেনশন করিয়েন না। আমি তো আছি।
~~ হুম রাহিন। আদির পর তুমিতো আমার শেষ ভরসা।
~~ আমাকে ক্ষমা করবেন স্যার আমি আদিল স্যার কে রক্ষা করতে পারিনি।
মাথা নিচু করে অপরাধীর ন্যায় কথাটা বলল রাহিন।
~~ না রাহিন তোমার দোষ নেই ওখানে তো আমি ও ছিলাম ঘটনাটা এতো দ্রুত ঘটেগিয়েছে যে আমরা দুজন কিছুই বুঝে উঠতে পারিনি। তবে এখন থেকে কিন্তু আরো সাবধান হতে হবে।
~~জ্বি স্যার।
~~ যারা আদি উপর গুলি করলো তাদেরকে পাওয়া গেছে ?
~~ আমি খোঁজ লাগিয়েছি স্যার আজকের মধ্যেই পেয়ে যাবো তাদের।
~~ হুম ওদের পাওয়া পর আমাদের পুরনো গোডাউনে নিয়ে যাবে।
~~ ঠিক আছে স্যার।
~~ আমি আজ সারাদিন আদির কাছেই থাকবো। দেখো যেন হসপিটালে মিডিয়ার কোন লোক ভিড় না করে। আর যে কাজটা দিলাম ওটা তাড়াতাড়ি করার চেষ্টা করো আমি দেরি করতে চাই না ঐ এমপি পলাশ শেখের সব শিকর আমি উপরে ফেলবো।

পরিষ্কার আকাশ টা হুট করেই তার রূপ পরিবর্তন করতে ব্যস্ত হয়ে গেল, প্রকৃতির সাথে তাল মিলিয়ে হু হু করে বাতাস বইতে লাগলো শহর জুড়ে , শাড়ি শাড়ি ধূসর মেঘ জমে নীলরঙ্গা শুভ্র মিশ্রিত আকাশটাকে মুহূর্তের মধ্যে অন্ধকার করে ফেলল। বর্ষা কালের প্রথম এক তারিখ আজ, বর্ষার ঋতুতে প্রকৃতির লীলাখেলা বোঝা বড় দায়। বিনা আমন্ত্রণে হুটহাট বৃষ্টির কোণা মুক্তর নেয় ঝড়ে পড়ে পৃথিবীর বুকে। কাজলবরণ আঁখিযুগল ব্যস্ত প্রকৃতির এই ভয়ংকর সুন্দর রূপ দেখতে। দূর আকাশে এক মনে তাকিয়ে আছে তন্দ্রা। হঠাৎ মেঘ গর্জে উঠে রিমঝিম শব্দে বৃষ্টি ঝড়ে পড়ল। এই বিকেল বেলায় বৃষ্টি আর এমন অন্ধকার আকাশ দেখলে যে কেউ নির্দ্বিধায় বলবে এখন সন্ধ্যা হয়ে গেছে,ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে থাকা তন্দ্রাকে এক ঝাপটায় ছুঁয়ে দিল বৃষ্টির কোণা। ব্যস্ত হয়ে রুমের জানাল বন্ধ করতে করতে তন্দ্রাকে ডাকলো নিশি।

~~ তন্দ্রা,,, এই তন্দ্রা।
দ্রুত হাতে জানান বন্ধ করে ব্যালকনির দরজার সামনে এসে দাঁড়াল নিশি , ছোট ছোট চোখে দেখতে পেল তন্দ্রা এক মনে আকাশ পানে তাকিয়ে আছে। আর একটু পর পর এক ঝাপটা বৃষ্টি এসে ছুঁয়ে দিচ্ছে তন্দ্রা শরীর।
~~ হাসি খুশি মেয়েটা কেমন স্তব্ধ হয়ে গেছে। মনে মনে বলল নিশি , ধির পায়ে তন্দ্রার পেছন এসে কাঁধে হাত রাখলো নিশি, নিশির স্পর্শে ঘুড়ে তাকাল তন্দ্রা।
~~ রুমে চল , ভিজে গেছিস তো তুই।
তন্দ্রাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে নিশি তন্দ্রার হাত টেনে রুমে নিয়ে আসলো। আলমারি থেকে একটা ড্রেস বেড় করে তন্দ্রা হাতে দিয়ে বলল,,,
~~যাহ্ ভেজা কাপড়টা চেঞ্জ করে আয়। এই ভেজা কাপড়ে থাকলে আবার জ্বর চলে আসবে মাত্ররই তুই জ্বর থেকে উঠেছিস।

তন্দ্রা কিছু বলল না চুপচাপ ওয়াশ রুমে ঢুকে চেঞ্জ করে বাইরে বেরিয়ে এলো। ধোঁয়া ওঠা গরম চায়ের দুটো কাপ হাতে রুমে ঢুকলো নিশি। এক কাপ গরম চা এগিয়ে দিল তন্দ্রার দিকে , হাত বাড়িয়ে চায়ের কাপটা নিশির হাত থেকে নিল তন্দ্রা।
~~তন্দ্রা,,, চল কাল একটা গাইনি ডাক্তার কাছে ! আমার মনে হয় ডাক্তার দেখিয়ে চেকাপ করে ব্যাপারটা শিওর হওয়া জরুরী।
~~ হুম ঠিক আছে কাল যাবো। কিন্তু আমি তো কোন ভালো গাইনি ডাক্তার চিনি না নিশি।
~~ সে তো আমিও চিনি না। তবে হসপিটালে গেলে নিশ্চয় একটা ব্যবস্থা হবে।

আরো কিছু টুকটাক কথা বলতে বলতে চা টা শেষ করল দুজনে , রাত প্রায় সাড়ে নয়টা তন্দ্রা আলো নিভিয়ে ঘর অন্ধকার করে চোখ দুটো বন্ধ করে শুয়ে আছে বিছানায় , নিশি কিচেনে রাতের খাবার রান্না করে , টেবিলে খাবার সাজিয়ে তন্দ্রাকে ডাকতে গুটিগুটি পায়ে তন্দ্রা রুমে আসে। লাইট জ্বালিয়ে তন্দ্রা কে ডাকে ,,,

~~ ঘুমিয়েছিস ? নিশির কন্ঠে তন্দ্রা চোখ খুলে তাকিয়ে শোয়া থেকে উঠে বসলো।
~~ নাহ্,
~~ আচ্ছা চল,,,,এখন খাবি চল।
~~ না নিশি ভালো লাগছে না ক্ষিদে নেই। তুই খেয়েনে।
~~ দেখ তন্দ্রা একদম বেশি বেশি করবি না , আমি ভাত এনে তোকে খাইয়ে দিচ্ছি, তুই চুপচাপ লক্ষী বাচ্চা হয়ে খেয়ে নিবি।

কথা শেষ করে নিশি খাবার আনতে রুম থেকে বেড়িয়ে যায় , তন্দ্রা শান্ত চোখে তাকিয়ে আছে নিশির যাওয়ার দিকে। এই মেয়েটা না থাকলে হয়ত তন্দ্রা সেই দিন রাতেই নিজে শেষ করে ফেলতো, গত দু'দিন তন্দ্রাকে চোখে চোখে রেখেছে নিশি এক সেকেন্ডের জন্যও এক ছাড়েনি তাকে। কে বলে মেয়েরা কখনো ভালো বন্ধু হতে পারে না ? তন্দ্রা আর নিশি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক যে কারো নজর কাড়বে, নিশির কিছু হলো যেমন তন্দ্রা তাকে বুক দিয়ে আগলে রাখে নিশি ও ঠিক তেমন সুখে দুঃখে দুইজন একে অপরের পাশে থাকে সর্বক্ষেত্রেই। এই তো গত মাসের ঘটনা , নিশি সারাদিন মন খারাপ করে শুয়ে আছে রুমে একটি বারের জন্য ও রুম থেকে বেড় হয়নি। সকালে তন্দ্রা ভার্সিটি যাওয়ার সময় নিশি কে ডাকলে সে জানায় তার শরীর খারাপ সে আজ ভার্সিটি যাবে না তন্দ্রা ও তাকে জোড়া জুড়ি করেনি নিশিকে চিৎকার করে জানায় টেবিলে খাবার ঢাকা দেওয়া আছে তার জন্য সে যেন উঠে খাবার খেয়ে নেই,যথারীতি সে একাই ভার্সিটি চলে যায়। বাসায় ফিরতে ফিরতে তন্দ্রার বিকেল গড়িয়ে যায় , বাসায় এসে প্রথমে উকি মারে নিশির রুমে দিকে সকালের ন্যায় আবার দরজা বন্ধ পাই তন্দ্রা।

~~ এ কি নিশি এখনো রুম থেকে বের হয়নি !

মনে মনে আওড়াল তন্দ্রা, নিজের রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে এসে ফ্রিজ থেকে এক বোতল পানি বের করে ঢকঢক করে সমপূণ পানি টা শেষ করে হামলে পড়ে নিশির রুমে দরজা উপর। প্রচন্ড জোরে দরজার বাড়ি দিতে দিতে বলে ,,,

~~ এই নিশি , তুই কি রুম থেকে বের হবি ? নাকি আমি দরজা ভেঙে ফেলবো।
আচমকা এতো জরে দরজা ধাক্কা ভয় পেয়ে যায় নিশি তড়িঘড়ি করে এসে দরজা খুলে সে।
~~ কি হয়েছে ? এতো জোরে দরজার ধাক্কাধাক্কি করছিস কেন ?
নিশি দরজা খুলতেই তন্দ্রা মুখে এক বালতি হাসি ঝুলিয়ে বলে ,,
~~ না কিছু না দেখলাম তুই মরে টরে গেচ্ছিস নাকি ? না মানে,,, যদি তুই মরে টরে পড়ে থাকিস তাহলে তো তোর লাশ পঁচে দুর্গন্ধ বের হবে আর আমার এতো সুন্দর ফ্ল্যাটের যদি এমন লাশ পঁচে দুর্গন্ধ বের হয় তাহলে কি ভালো লাগবে ? তুই বল,,,
তন্দ্রা এই কথা শুনে নিশির ভয়ার্ত মুখটা মূহুর্তেই বিক্ষিপ্ত হয়ে গেল চোখ মুখ কুঁচকে বললো,,,
~~ না মরিনি। বেঁচেই আছি। আর মরার ইচ্ছে হলে ঘরে বসে মরবো কেন ? বাইরে গিয়ে হাতিরঝিল থেকে ঝাঁপিয়ে পরবো।
~~ এই দেখি দেখি তোর মাথাটা। বলেই নিশির মাথাটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখলো তন্দ্রা।
~~ কেন আমার মাথায় কি হয়েছে ?
~~ না একটু দেখছিলাম যে তোর মাথায় বুদ্ধি ও আছে ,আমি ও ভাবছিলাম তোর মাথার ভেতরটা ফাঁকা।
~~ উফ্ তন্দ্রা,,,,,, ফাজলামি বন্ধ করবি ?
~~ নাহ্। আচ্ছা চল,,, ~~ নিশির হাত ধরে টেনে নিয়ে ডাইনিং টেবিলের চেয়ার টাই বসিয়ে দিল তন্দ্রা।
~~ সারা দিন খাসনি কেন ? এই দেখ তোর পছন্দের হাকিম মামার তেহারি নিয়ে আসছি।
~~ আমি খাবো না তন্দ্রা।
~~ কিহ্,,,,,,অনন্যা হাসান নিশি আজ প্রাণ প্রিয় তেহারি রিজেক্ট করে দিচ্ছি ? তাহলে তো ব্যাপারটা খুব বেশি জটিল।
~~ আচ্ছা তন্দ্রা , দূরত্ব বাড়লেই কি গুরুত্ব কমে যায় ?
~~ নাহ্ "শুধু দূরত্ব বাড়লেই গুরুত্ব কমে না ! কখনো কখনো গুরুত্ব কমলেও দূরত্ব বেড়ে যায় " কিন্তু কেন বলতো ! হঠাৎ এই প্রশ্ন করলি ?
~~ না তেমন কিছু না। নিলয় সিলেট যাওয়া পর থেকেই আমাকে খুব এড়িয়ে চলে, কেমন যেন দায় সাড়া ভাবে কথা বলে। আগের মতো আর সেই আগ্রহ টা নিয়ে কথা বলে না। ওর সাথে এখন কথা বললে মনে হয় প্রচন্ড বিরক্তি নিয়ে কথা বলছে আমার সাথে।
নিশির বলা কথা গুলো শুনে তন্দ্রা মুখে একটা শুকনো হাসি ফুটিয়ে বলল ,,,,
~~ সম্পর্কের শুরুতে ছেলেরা যতো আগ্রহ নিয়ে কথা বলে সেই আগ্রহ টা যদি শেষ অব্দি থাকতো তাহলে হয়তো এতো বিচ্ছেদ হতো না। আর একটা কথা কি জানিস তো,,, " যে মানুষটা প্রকৃত পক্ষে তোর সে দূরে গেলেও কিন্তু তোরই থাকবে। আর সে মানুষটা তোর না সে যতোই তোর কাছে থাকুক না কেন একটা সময় ঠিক চলে যাবে "
~~ হুম,,, তুই ঠিক বলছিস। তোর সাথে মন খুলে কথা বললে মনটা খুব হালকা হয়ে যায়।
নিশির কথার প্রতি উত্তরে তন্দ্রা একটা মিষ্টি হাসি উপহার দিয়ে বলল,,,,
~~ তা না হয় বুঝলাম তুই কি ঐ টেংরা মাছের জন্য সারাদিন না খেয়ে বসে আসিস ?
টেংরা মাছ ,,, কথাটা শুনে নিশি ফিক করে হেসে দিল ,,
~~ এই তো অনন্যা হাসান নিশির মুখে হাসি ফুটেছে তাহলে। এই বার নে তেহারিটা চটপট খেয়ে নে ঠান্ডা হয়ে গেল আর ভালো লাগবে। তখন যদি আবার বলিস গরম করে দিতে আমি কিন্তু পারবো না।
~~ না না দে গরম গরমি খাই।
~~ হুম দাঁড়া প্লেট নিয়ে আসি। তন্দ্রা প্লেট এনে তেহারি বেড়ে দেয় নিশির প্লেটে।
~~ ইশ্ আজকে পড়াতেও যেতে পারি নাই
~~ ঐ কাজ আমি আগেই করে এসেছি। ভার্সিটি থেকে ফেরার পথে তোর ছাত্রীকে আমি পড়িয়ে এসেছি। আমি জানতাম তুই আজ পড়াতে যাবি না। আর বাচ্চাটার ও তো পরশু পরীক্ষা। ঐ জন্য আমি পড়িয়ে এসেছি। আর ঐ জন্যই আমার বাসায় আসতে এতো লেট হয়ে গেছে। আর খুশির আম্মুকে বলেছি তোর শরীর খারাপ ঐ জন্য আমি আসছি কাল তুই পড়াতে যাবি।
~~ ইশ্ তুই এতো বুঝিস কেন আমাকে ? সব জানিস না ? আমি কি করব আর কি না।
~~ হুম রে সব জানি। এখন চুপ চাপ খাবার টা খাওয়া শেষে কর।

বর্তমান,,,,,,

সিটি হসপিটালের করিডর দিয়ে হেঁটে আসছে তন্দ্রা ও নিশি হঠাৎ কারো সাথে ধাক্কা গেল তন্দ্রা হাত থেকে পড়ে যায় তার ফোন।
~~ sorry,, sorry
বলে ধাক্কা দেওয়া ব্যক্তিটি নিচু হয়ে ফোন তুলে দেওয়ার আগেই তন্দ্রা নিজেই নিজের ফোনটা ফ্লোর থেকে উঠিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তির দিকে তাকিয়ে বলে,,,
~~ its okay .
রাহিনের সাথে কথা বলতে বলতে হসপিটালের করিডর দিয়ে হেঁটে আসছিল আসফিয়াত। সামনে থেকে হেঁটে আসা তন্দ্রা ও নিশিকে খেয়াল না করায় হঠাৎ ধাক্কা খায় তন্দ্রার সাথে। মাক্স পড়া চেহারার কাজল বরণ আঁখি যুগলের দিকে দৃষ্টিপাত হতেই চোখ আটকে যায় আসফিয়াতের।
~~ তন্দ্রা চল।
~~ হুম।
আসফিয়াত কে পাশ কাটিয়ে চলে যায় নিশি আর তন্দ্রা।
~~ কি হলো স্যার ?
~~ না কিছু না।

চলবে,,,
লেখা : নীর

কাঁচের শহর পর্ব : ৩অন্ধকার রুমে বিধ্বস্ত অবস্থায় দেয়ালে পিঠ ঠেকে এক কোণে বসে আছে আসফিয়াত। বাম হাতের তর্জনী আঙ্গুল বেয়ে ট...
13/04/2024

কাঁচের শহর

পর্ব : ৩

অন্ধকার রুমে বিধ্বস্ত অবস্থায় দেয়ালে পিঠ ঠেকে এক কোণে বসে আছে আসফিয়াত। বাম হাতের তর্জনী আঙ্গুল বেয়ে টুপ করে এক ফোটা রক্ত পড়লো মেঝেতে। ঘড়ির কাঁটার টিক টিক শব্দ জানান দিচ্ছে এখন মধ্যরাত , পুরো মেঝেতে কাঁচ ছিটে পড়ে আছে। রুমের সমস্ত জিনিস ভেঙ্গে পড়ে আছে চার পাশে। গত ছয় মাস আগেও তার জীবনটা এমন ছিল না। আর পাঁচ টা পরিবারের মতো তার ও একটা সুন্দর পরিবার ছিল। মাথার উপর ছায়ার মতো বাবা নামক একজন মানুষ ছিল। পরির মতো সুন্দর , মিষ্টি একটা বোন ছিল তার। আসফিয়াতের গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়লো এক বিন্দু নোনাজল , ক্লান্ত আসফিয়াত দেয়াল ঘেঁষে গুটিশুটি মরে শুয়ে পরলো ফ্লোরে , প্রচন্ড ক্লান্তিতে চোখ দুটো আবেশে বন্ধ হয়ে এলো তার।সন্ধ্যায় কফির মগ হাতে বারান্দায় দাঁড়িয়েছি আসফিয়াত। কফির মগে এক চুমুক দিয়ে সামনে তাকাতেই চোখ আটকে যায় আসফিয়াতের , তীক্ষ্ম চোখে তাকিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তি দুটোকে পরোক্ষ করছে সে। রফিক আমজাদ , চোরের মতো এ দিক ও দিক তাকিয়ে একজন লোকের সাথে কথা বলছে। লোকটি রফিক আমজাদের হাতে একটা সাদা খাম ধরিয়ে দিয়ে চলে গেল। রফিক আমজাদ তড়িঘড়ি করে খামটি নিজের পাঞ্জাবির পকেটে ঢুকিয়ে ফেলল। আশে পাশে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করল কেউ তাকে লক্ষ করেছে কি না। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে চারি পাশ তা কালো অন্ধকার হয়ে আসে। এই অন্ধকারে তাকে কেউ দেখেছে বলে তার মনে হচ্ছে না তবুও সাবধানে থাকাটা শ্রেয় , স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে রফিক আমজাদ বাড়ির দিকে হাঁটা শুরু করলো। বাড়িটির সামনের মেন গেটের বাম পাশে বড় বড় অক্ষরে লেখা চৌধুরী বাড়ির। মেন গেট খুলে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করল রফিক আমজাদ চৌধুরী।

চৌধুরী বাড়ির মালিক রাজিব আহসান চৌধুরী , রাজিব চৌধুরী ছোট ভাই রফিক চৌধুরী। রাজিব আহসান ও আয়েশা পারভীনের দুই সন্তান , আসফিয়াত ও আরহি। আর রফিক আমজাদ ও আফিফা বেগমের এক পুত্র আদিল। আফিফা বেগম ছেলের জন্মের পরেই মৃত্যু বরণ করেন। আদিলের সৌভাগ্য হয়নি মায়ের মুখ দেখার। এই নিয়ে অবশ্য আদিলের কোন আক্ষেপ নেই , কারণ মাকে না পেলেও সে আয়েশা পারভীন কে পেয়েছে। আয়েশা পারভীন আদিল কে নিজের সন্তানদের মতোই ভালোবাসে। আদিল তাকেই মা বলে ডাকে। রফিক আমজাদ , বড্ড ছটফটে মানুষ , কোন কিছুতেই যেন তিনি শান্তি খুঁজে পান না। বাড়িতে বেশি দেখা যায় না তাকে। এই তো মাস কয়েক আগে বাড়ি এসেছেন। রফিক আমজাদ বাড়িতে প্রবেশ করতেই আসফিয়াত ও বারান্দা থেকে রুমে চলে গেল। আসফিয়াতের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে , মনে মনে ভাবলো,,,

~~ ছোট চাচ্চু কি লুকিয়ে আনলো ? কি আছে ঐ খামের ভেতর ? আর ঐ লোকটায় বা কে ? ইদানিং ছোট চাচ্চুকে কেমন একটা লাগে। না,, আমাকে খবর নিতে হবে। ভাবনার মধ্যে টুং করে একটা মেসেজ এলো আসফিয়াতের ফোনে। আসফিয়াত ভাবনার শুতো কেটে ফোনের দিকে তাকাল , মেসেজটা ওপেন করে যা দেখলো তাতে আসফিয়াত চমকে উঠলো , হন্তদন্ত হয়ে রুমে থেকে বেড়িয়ে গেল। গাড়ি নিয়ে চৌধুরী বাড়ি থেকে বেড়িয়ে গেল সে।

হসপিটালের অপারেশন থিয়েটারের সামনে অস্থির হয়ে পায়চারি করছে রফিক আমজাদ। আয়েশা পারভীন নিচু স্বরে কান্না করছে , রক্তাত অবস্থায় আসফিয়াত নিশ্চুপ হয়ে , এক দৃষ্টিতে মেঝেতে তাকিয়ে বসে আছে মায়ের পাশে। আয়েশা পারভীনের বুক ভেঙে যাচ্ছে , পরপর এতো গুলো ধাক্কা তিনি সহ্য করতে পারছেন না চোখের সামনে তার আরো এক সন্তান এই ভাবে শেষ হয়ে যাচ্ছে , যেটা তিনি কোন ভাবেই মানতে পারছেন না , প্রচন্ড চাপে জ্ঞান শূন্য হয়ে পড়েছেন তিনি , চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে আসছে , মাথার ভেতর বনবন করে ঘুরছে , নিভু নিভু চোখে বুঝতে পারেন তিনি পড়ে যাচ্ছেন। মাটিতে পড়ার আগেই খপ করে ধরে ফেলে আসফিয়াত। আসফিয়াত চিৎকার করে মা ,, মা ,, করে ডাকতে লাগলো। কিন্তু আয়েশা পারভীন কোন সাড়া দিলেন না। আচমকা আসফিয়াতের চিৎকারে রফিক আমজাদ পিছন ফিরে তাকিয়ে এই দৃশ্য দেখে ছুটে তাদের কাছে আসে।

~~ কি হয়েছে আসফিয়াত ভাবি,,,,

রফিক আমজাদের কথা কেটে আসফিয়াত বলল,,

~~ চাচ্চু ডাক্তার কে ডাকো। রফিক আমজাদ তড়িঘড়ি করে ডাক্তার ডেকে আনলেন, আসফিয়াত মাকে কোলে তুলে নিয়ে পাশের কেবিনে শুয়ে দিল। ডাক্তার আয়েশা পারভীন কে পর্যবেক্ষণ করে বললো,,,

~~ অতিরিক্ত মানুষিক চাপে এবং কান্নাকাটির কারণে তিনি অজ্ঞান হয়ে গেছেন। ওনার রেস্টের অনেক প্রয়োজন। জ্ঞান ফিরলে আমি একটা ঘুমের ইনজেকশন পুশ করে দিবো।

আসফিয়াত কেবিন থেকে বেড়িয়ে পাশের বসার জায়গা টাই ধপ করে বসে পড়ল। এই মুহূর্তে নিজেকে সব থেকে অসহায় মানুষ বলে মনে হচ্ছে আসফিয়াতের। প্রাণের থেকেও বেশি প্রিয় দুটো মানুষ আজ নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে আছে , আর সে কিছুই করতে পারছে না। আসফিয়াত আনমনে বিড়বিড় করে উঠলো,,

~~ বাবা ,, দেখো আজ সব কিছু কত এলোমেলো হয়ে গেছে। আদির গুলি লেগেছে,, মা অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। আর আমি ,,,,, না চাইতেও চোখ থেকে গড়িয়ে পড়লো এক বিন্দু অশ্রু। আসফিয়াত দু হাত দিয়ে নিজের মাথার চুল গুলো টানতে লাগলো। কি করবে সে ? দুই ঘন্টা যাবৎ আদিলকে অপারেশন থিয়েটারে ঢোকানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোন খবর আসেনি। ঐ দিকে আয়েশা পারভীনের ও জ্ঞান ফেরেনি। দীর্ঘ তিন ঘণ্টা পর অপারেশন থিয়েটারের দরজা খুলে একজন ডাক্তার বেড়িয়ে আসলো। আসফিয়াত উঠে তার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল,,,

~~ ডাক্তার আদিল,,,

~~ ডাক্তার সাহেব মলিন মুখে বলল,,,গুলি টা হার্টের খুব কাছাকাছি লেগেছে , অনেক রক্তক্ষরণ ও হয়েছে তবে অপারেশনের মাধ্যমে আমরা গুলি টা বের করতে সক্ষম হয়েছি। ওনাকে এখন ICU তে shift ( স্থানান্তর ) করা হবে। কিন্তু,,,

~~কিন্তু কি ডাক্তার ?

আসফিয়াত ভ্রু জোড়া কুঁচকে তাকিয়ে আছে ডাক্তারের দিকে। -- sorry to say মিস্টার আসফিয়াত আমার বলতে খারাপ লাগছে তবুও বলতেই হচ্ছে ওনার অবস্থা খুব একটা ভালো নয় , ২৪ ঘন্টার মধ্যে যদি উনি রেসপন্স না করে তাহলে আমাদের আর কিছুই করার থাকবে না। আসফিয়াত কিছু একটা বলতে যাবে তার আগেই , হাতে থাকা আসফিয়াতের ফোনটা বেজে উঠল, মোবাইলের স্ক্রিনে রাহিন নামটা জল জল করছে। আসফিয়াত ফোন রিসিভ করে কানে ধরতেই ঐ পাশ থেকে রাহিনের কন্ঠস্বরভেসে আসলো , আসফিয়াত চোখে ইশারায় ডাক্তার কে চলে যেতে বলল।

~~ স্যার আদিল স্যারের উপর যারা অ্যাটাক করেছিল তারা আর অন্য কেউ না এমপি পলাশ শেখের লোকজন।

রাহিনের বলা কথা গুলো আসফিয়াতের কানে ভেসে আসতেই তার আকর্ষণীয় গভীর কালো চোখ দুটো রক্ত বর্ণ ধারণ করলো। আসফিয়াত রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে চোখ দুটো বন্ধ করল খানিকক্ষণ বাদে আবার চোখ খুলল শান্ত গলায় বলল,,
~~ ঠিক আছে , আমি আসছি।

[ পূর্ববর্তী ঘটনা ]

~~ স্যার ! আমরা কোথায় যাচ্ছি ?
ড্রাইভিং সিটের পাশের সিটে বসা রাহিন চিন্তিত মুখ নিয়ে আদিল কে প্রশ্ন করল। আসফিয়াত ও আদিলের পার্সোনাল সেক্রেটারি রাহিন আহমেদ। রাহিনের প্রশ্ন শুনে ড্রাইভিং সিটে বসে কার ড্রাইভ করা আদিলের ঠোঁটে ফুটে উঠল বাঁকা হাসি সে বলল ~~ তোমার জন্য মেয়ে খুঁজতে। আদিলের এমন উত্তরে রাহিন ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল , গলাটা পরিষ্কার করে বলে,,
~~কেন স্যার ?
~~ তুমি কি ছেলে মানুষ বিয়ে করতে যাও ? ভ্রু জোড়া কুঁচকে রাহিনের দিকে তাকিয়ে বলল আদিল।
~~ না স্যার।
~~পুনরায় সামনে তাকিয়ে কার ড্রাইভ এ মনোযোগ দিয়ে আদিল বলল,,,,তাহলে ঠিক আছে। বহু দিন হল আমি বিয়ে খাই না। তাই তোমাকে বিয়ে দিয়ে তোমার বিয়েটা জমিয়ে খাবো।
কি সাংঘাতিক ব্যাপার মেয়ে মানুষ মানেই তো বিপদ সংকেত, আর বিয়ে করা মানে হচ্ছে , বিপদ সংকেত কে পাত্তা না দিয়ে নিজের ইচ্ছায় বিপদ কে বুকে জরিয়ে ধরা , স্যার বিয়ে খাই না বলে, এখন নাকি আমাকে বিয়ে করতে হবে। এই বিপদে আমি পড়লে স্যার ই বা বাদ যাবে কেন ? মনে মনে কথা গুলো বলল রাহিন।
~~ কি ভাবছো রাহিন ?
~~ স্যার আপনি কি সত্যিই মেয়ে খুঁজতে যাচ্ছেন ?
~~ হ্যাঁ,,
~~ ঠিক আছে স্যার। না মানে,,, আপনি যখন আমার জন্য এতো কষ্ট করে মেয়ে খুঁজতে যাচ্ছেন। আমিও আপনাকে একটা মেয়ে খুঁজে দিবো। আপনি তো আমার বড় ; আর স্যার কে আগে বিয়ে না দিয়ে যদি আমি আগে বিয়ে করে ফেলি তাহলে সেটা অত্যন্ত খারাপ দেখায় , মানবতা বলে তো একটা কথা আছে। মুচকি হেসে বলল রাহিন।

রাহিনের এই কথা শুনে আদিল চোখ বড় বড় তাকিয়ে আছে তার দিকে। তাদের দুই জনের কথোপকথনের মাঝখানে হঠাৎ একটি কালো রঙের গাড়ি এসে আদিলের কারের ডান পাশে চলতে লাগলো। আদিল গাড়ির দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারলো গাড়িটি তাকে শুরু থেকে ফলো করছিল, আদিল, চৌধুরী বাড়ির থেকে বেড়িয়ে কিছুদূর আসার পর দেখেছিল এই গাড়িটি কে কিন্তু তখন সে বিষয়টা নিয়ে মাথা ঘামায়নি। আদিল কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা আদিলের কারে গুলি চালালো। আদিলের কারটা বুলেট প্রুফ হওয়ায় গুলিটা কারের ভেতরে পৌঁছাতে পারলো না। আদিল কারের স্পিড বাড়িয়ে দিল।
~~ স্যার আপনি ঠিক আছেন ? উত্তেজিত কন্ঠে রাহিন বলল।
~~ হ্যাঁ আমি একদম ঠিক আছি।

রাহিন পকেট থেকে ফোন বের করে তাদের গার্ডসদের কল দিয়ে জানিয়ে দিল তাদের অবস্থা ও লোকেশন। এলোপাতাড়ি তারা আদিলের গাড়িতে গুলি ছুড়ছে , আচমকা একটি সাদা রঙের honda civic গাড়ি এসে থামে আদিলের কারের সামনে। আদিল সাথে সাথে ব্রেক করে কার থামিয়ে দেয়। রাহিন চোখ ছোট ছোট করে সামনে থাকা সাদা রঙের গাড়ির দিকে তাকিয়ে আছে। সাদা রঙের গাড়ির ড্রাইভিংসিটের দরজা খুলে বেড়িয়ে এলো , ছয় ফুটের উচ্চতার একজন সুদর্শন পুরুষ, ডান হাতে তার বন্দুক। চোখে মুখে আঁচড়ে পড়ছে রাগ , কপালের ফুলে ওঠা রগ জানান দিচ্ছে শরীরের সর্বাঙ্গে রাগের আগুন দাউদাউ করে জ্বলছে তার। আদিল অস্ফুট স্বরে বলল,,,,,

~~ দা'ভাই,,,
আসফিয়াত কে দেখে রাহিন ও আদিল কার থেকে বেড়িয়ে আসফিয়াতের কাছে আসার জন্য পা বাড়াতেই বিকট এক শব্দে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আদিল। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই আদিলদের পিছনে থাকা কালো গাড়ির ভেতর থেকে এক মুখোশ পরিহিত লোক আদিল কে সুট করে দেয়। গুলি লাগে আদিলের বুকে। ঘটনাটা এতো দ্রুত ঘটে গেল যে রাহিন কিছুই বুঝতে পারলো না। আদিল মাটিতে পরতেই আসফিয়াত হাতে থাকা বন্দুক উঠিয়ে পরপর দুটো গুলি করে মুখোশধারী লোকের উপর , ভাগ্যক্রমে গুলিটি কাঁধ ছুঁয়ে বেড়িয়ে যায়। আর অপর একটি গুলি লাগে তার হাতের কব্জিতে ব্যথায় কুঁকিয়ে উঠে লোকটি। সাথে সাথে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায় সে। রাহিন দৌড়ে যায় মাটিতে পড়ে থাকা আদিলের কাছে , অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে সে উপলব্ধি করল নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হয়েছে তার। সবুজ রঙের চোখ দুটো লালচে বর্ণ ধারণ করে ভেতর থাকা অশ্রু গুলো চোখে কিনারায় জমাট বেঁধে ঝাপসা হয়ে আসতে লাগল সামনের থেকে ছুটে আসা আসফিয়াতের প্রতিবিম্ব। আসফিয়াত দৌড়ে গিয়ে রক্তাত আদিল কে বুকে জরিয়ে ধরলো। আসফিয়াতের পরনের অ্যাশ কালারের শ্যার্ট টা সাথে সাথে রক্ত ভিজে উঠলো।

~~ আদি,,, এই আদি,,, এই যে দেখ,,, আ,,,আমি দা' ভাই।
ভাঙ্গা ভাঙ্গা গলায় কথা গুলো বলল আসফিয়াত। রাহিন উত্তেজিত কন্ঠে বললো ,,,,
~~ স্যার,,, আদিল স্যার কে হসপিটালে নিয়ে যেতে হবে।
এরই মধ্যে আসফিয়াতের গার্ডস গুলো এসে এই দৃশ্য দেখে তড়িঘড়ি করে তাদের কাছে আসে। আসফিয়াত চেঁচিয়ে উঠল ,,,

~~ গাড়ি নিয়ে আসো জলদি।
গার্ডসদের মধ্যে একজন গিয়ে গাড়ি নিয়ে আসলো , আসফিয়াত ভাইকে তুলে নিয়ে গাড়ি ভেতরে উঠলো,, গাড়ি চলতে লাগলো হসপিটালের উদ্দেশ্য। রাতের নির্জনতায় এই ঘটনার সাক্ষী হয়ে রইলো রাস্তার অবলা প্রাণী গুলো। সিটি হসপিটালের সামনে আসফিয়াতের গাড়ি থামতেই গার্ডসরা নেমে সকল ব্যবস্থা করল,,,দ্রুত গতিতে আদিল কে নিয়ে অপারেশন থিয়েটারের ঢোকানো হলো। আয়েশা পারভীন ও রফিক আমজাদ খবর পেয়ে ছুটে আসলেন হসপিটালে। আয়েশা পারভীন কাঁদতে কাঁদতে আসফিয়াত কে প্রশ্ন করল,,,,

~~ আসফিয়াত আমার ছেলে ঠিক আছে তো ? তুই থাকতে কি ভাবে আদির গুলি লাগলো ??
আসফিয়াত নিশ্চুপ হয়ে রইলো কি জবাব দিবে সে ? সে থাকতে আদিলের এতো ক্ষতি কি করে হলো ? বড্ড বেশি অসহায় বোধ করছে সে। রাহিন সব ফর্মালিটি শেষ করে এসে আসফিয়াতের পাশে দাঁড়ালো। আসফিয়াত ঘাড় ঘুরিয়ে রাহিনের দিকে তাকিয়ে রাগে গজগজ করতে করতে বললো,,,,

~~ রাহিন কে অ্যাটাক করল , কেন অ্যাটাক করল ? সব খবর আমার আজ রাতের মধ্যেই চাই।
~~ জ্বি স্যার। রাহিন হসপিটালে থেকে বেড়িয়ে গেল।

ঘোন জঙ্গলের সেই পরিত্যক্ত বাড়িতে প্রান্তের ঠিক সামনে বসে আছে আসফিয়াত। তিন ঘণ্টা যাবৎ প্রান্ত পর চলেছে পাশবিক নির্যাতন। আসফিয়াত গর্জে ওঠে বলল,,

~~ আমার ভাইয়ের যদি কিছু হয় trust me I won't spare you ..
তোর লাশ কুচি কুচি করে কেটে মশলা মেরে তোর বাপকে রান্না করে খাওয়াবো।

চৌধুরী বাড়িতে এসে সরাসরি নিজের রুমে ডুকে দরজা লাগিয়ে দেয় আসফিয়াত। রাগে বিছানার পাশে থাকা সেন্টার টেবিল টা লাথি মারে সে। রুমে সমস্ত জিনিস ভাঙ্গতে শুরু করে আসফিয়াত। ভাঙচুরের এক পর্যায়ে ক্লান্ত হয়ে দেয়ালে পিঠ ঠেকে বসে পড়ে সে।

চলবে ,,,,,
লেখা : নীর

Address

Pabna
6600

Telephone

+8801732972170

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when নীরশিক্তর পাণ্ডুলিপি posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to নীরশিক্তর পাণ্ডুলিপি:

Share