04/03/2025
🎂 ইতিহাসে কেক 🎂
কেকের ইতিহাস বেশ পুরনো। তবে যে আদি কেকের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে, তা আজকের কেকের চেয়ে কিন্তু একেবারে আলাদা ছিল। আসলে গোড়ার দিকের কেকে পাউরুটির ভাবটা বেশি থাকতো। আর তার স্বাদ মিষ্টি করা হত মধু দিয়ে। তাতে কখনও কখনও থাকত বাদাম ও শুকনো ফল।
খাদ্য গবেষকেরা ইজিপ্টের সংস্কৃতিতে বেকিং-দক্ষতার প্রমাণ পেয়েছেন। ‘অক্সফোর্ড ইংলিশ অভিধান’ ইংরেজি ‘কেক’ শব্দের উত্স সন্ধানে ১৩ শতকে ফিরে গিয়েছে। তাদের মতে, প্রাচীন নোরস (স্ক্যান্ডেনেভিয়ান) শব্দ ‘কাকা’ থেকেই নাকি ‘কেক’ শব্দের উত্পত্তি।
মধ্যযুগীয় ইউরোপের বেকারিতে যে মাঝে মাঝে ফ্রুটকেক ও জিঞ্জারব্রেড বানানো হত, তার প্রমাণও মিলেছে। এইসব কেক কয়েক মাস ধরে অক্ষত থাকত। আর এই সূত্রেই খাদ্য গবেষকেরা দাবি করছেন, ১৭ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ইউরোপের বেকারিতে আধুনিক কেক তৈরি শুরু হয়। এর মূল কারণ কারিগরি শিল্পের অগ্রগতি (যেমন, নির্ভরযোগ্য আভেন কিংবা খাদ্যছাঁচের সহজলভ্যতা) এবং শোধিত চিনির মতো উপাদান প্রাপ্তির সুযোগ।
সে-সময়ে বেকিং ট্রে মূলত ধাতু, কাঠ বা কাগজে তৈরি হত। প্রয়োজনমতো এদের ছোট, বড়ও করা যেত। মাঝে মাঝে কেক প্যান ব্যবহার করা হত। প্রথম দিকে মিহি চিনি, ডিমের সাদা অংশ ও সুগন্ধীর মিশ্রণকে ফুটিয়ে কেক সাজানোর কাজে (আইসিং) লাগানো হত। ওই সময়কার বহু কেকে তখনও শুকনো ফল (কিসমিস, কারেন্টস, সিট্রন) ব্যবহার হয়ে আসছিল।
তবে বর্তমানে যে ধরনের কেক বানানো হয় তার সূত্রপাত হতে হতে উনিশ শতকের মাঝামাঝি হয়ে যায়। ১৮৪০ সালে বেকিং পাওডারের আবিষ্কার কেক তৈরীর পদ্ধতিকে আরও সহজ করে দিল। এর ফলে কেকের মিশ্রণকে সহজেই গাঁজানো (ফারমেন্ট) সম্ভব হলো। এর ফলে অতিরিক্ত মিহি ও পরিশুদ্ধ ময়দা এবং ইস্টের পরিবর্তে বেকিং পাউডার ব্যবহৃত হতে থাকে।
মোটামুটি বিংশ শতকের প্রথম কয়েক দশকের মধ্যে কেকে মাখন, ক্রিম, মিহি চিনি ও সুগন্ধীর ব্যবহার শুরু হয়। ফ্রান্সের "অ্যান্টোনিন ক্যারিম" (১৭৮৪-১৮৩৩) কে আধুনিক পেস্ট্রি/কেকের বিশিষ্ট শেফ বলে মানা হয়।