21/11/2025
বড় ধরনের ভূমিকম্প হয়ে গেলো। পুরানঢাকার কসাইটুলিতে মারাও গেছেন তিনজন। আল্লাহ তাদের নাজাত দান করেন।
এখন ক’দিন হইচই হবে—ঘনবসতি, অবৈধ নির্মাণ,সিভিল ডিফেন্স নেই, প্রস্তুতি নেই, এই নেই সেই নেই — ইত্যাদি ।
তারপর?
সবকিছু আবার নতুন ইস্যুর ভিড়ে চাপা পড়ে যাবে।
কিন্তু একদিন—হাদিসে যেমন এসেছে— এমন এক জুমার দিনে কম্পন শুরু হবে যা ধীরে ধীরে বাড়তে বাড়তে সবকিছু ধুলায় মিশিয়ে দেবে। বিল্ডিং, শহর, মানুষের স্বপ্ন পরিকল্পনা, সবকিছু তুলার মত উড়তে থাকবে — কিছুই দাঁড়িয়ে থাকবে না।
সেই দিনের জন্য আমাদের প্রস্তুতি কি?
আচ্ছা আসল কিয়ামত হয়তো এখনও দূরে। অনেক নিদর্শন বাকি—এবং আমরা হয়তো সেই দিন পর্যন্ত বাঁচবও না। কিন্তু রাসূল ﷺ বলেছেন: “মানুষের মৃত্যুই তার ব্যক্তিগত কিয়ামত।”। যে অবস্থায় মৃত্যু আসে—তার আমল অনুযায়ী তার ভয়াবহতা বা শান্তি নির্ধারণ হয়।
এই ২–৩ সেকেন্ডের হালকা ভূমিকম্পই আমাদের দেখিয়ে দিল—মৃত্যের সামনে মানুষ কত অসহায়।
উঁচু দালান থেকে যারা দৌড়ে গলিতে নেমে এসেছে—
কারো পায়ে স্যান্ডেল নেই, কারো গায়ে জামা নেই,
নেতা, আমলা, অফিসার—সবাই খালি পায়ে, দিশেহারা হয়ে এক দিক থেকে আরেক দিকে ছুটেছে।
এক মুহূর্তে মানুষের শক্তি, অহংকার, নিরাপত্তা—সব ভেঙে পড়ল।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—যেদিন সত্যিই মৃত্যু তাড়া করবে, সেদিন কি আসলে কেউ পালাতে পারবে?
এই ছোট ছোট ভূমিকম্পগুলো আসলে আমাদের জন্য রিমাইন্ডার—মৃত্যুর বাস্তবতা, কেয়ামতের বিভীষিকা এবং আমাদের অক্ষমতার স্মরণ।
সুরা হজ্জের আয়াতে কেয়ামতের ভয়াবহতার দৃশ্যের বর্ণনা-
يَوْمَ تَرَوْنَهَا تَذْهَلُ كُلُّ مُرْضِعَةٍ عَمَّا أَرْضَعَتْ، وَتَضَعُ كُلُّ ذَاتِ حَمْلٍ حَمْلَهَا، وَتَرَى النَّاسَ سُكَارَى وَمَا هُم بِسُكَارَى، وَلَٰكِنَّ عَذَابَ اللَّهِ شَدِيدٌ
অর্থ: যেদিন তোমরা তা প্রত্যক্ষ করবে—
প্রত্যেক দুগ্ধদানকারী মা তার শিশুকে ভুলে যাবে,
প্রত্যেক গর্ভবতী নারী তার গর্ভপাত করবে,
আর তুমি মানুষকে দেখবে মাতালের মতো, অথচ তারা মাতাল নয়; কিন্তু আল্লাহর শাস্তি অত্যন্ত কঠিন।
আল্লাহ আমাদের মাফ করেন হেফাজত করেন আকষ্মিক মৃত্যু এবং অপমানের মৃত্যু থেকে।
-Nayema Tamanna