22/06/2024
পলাশী দিবসের ইতিহাস
সুপ্রিয় বন্ধুরা,
আজ থেকে ২৬৭ বছর আগে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর আমবাগানে বাংলার স্বাধীনতা হারানোর এক কালো অধ্যায় রচিত হয়েছিল। বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে পরাজিত হন। ফলে প্রায় ২০০ বছরের জন্য বাংলা স্বাধীনতা হারায়।
এই যুদ্ধের মূল ষড়যন্ত্রীদের মধ্যে ছিল মীরজাফর, রায়দুর্লভ, ইয়ার লতিফ, বিশ্বাসঘাতক জগৎ শেঠ, উমিচাঁদ, মহারাজা স্বরূপচাঁদ, এবং ঘসেটি বেগম। এরা সকলেই ক্ষমতার লোভে ব্রিটিশদের পক্ষে যোগ দিয়েছিল।
নবাব সিরাজউদ্দৌলা এবং তার বিশ্বস্ত সেনাপতি মীরমদন ও মোহনলাল যুদ্ধের ময়দানে প্রাণপণ লড়াই চালিয়েছিলেন। কিন্তু মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতা এবং ভুল পরামর্শে নবাব বাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তাদের সেবাদাসদের সাহায্যে এভাবেই বাংলায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয় এবং দীর্ঘ ১৯০ বছর এদেশে শাসন শোষণ করে। পলাশীর যুদ্ধে জয়লাভের পর ব্রিটিশরা ক্রমান্বয়ে পুরো ভারতবর্ষে তাদের আধিপত্য বিস্তার করে।
এই যুদ্ধে ইংরেজদের বিজয় কোন সামরিক বিজয় ছিল না, এটি ছিল একটি রাজনৈতিক বিজয়। সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে আট ঘণ্টার এই যুদ্ধকে 'যুদ্ধ' না বলে ছোট দাঙ্গার সাথে তুলনা করা যায়। কিন্তু এ যুদ্ধই ভারতে ইংরেজ উপনিবেশের সূচনা করে এবং বাংলা প্রায় ২০০ বছর ইংরেজদের অধীনে থাকে।
অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, পলাশীর যুদ্ধের ফল বিপরীত হলে বাংলাই বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিতে পারতো। ১৭৫৭ সালের এই দিনে পলাশীর রক্তাক্ত প্রান্তরে আমরা হারিয়েছি আমাদের স্বাধীনতা, কিন্তু এ দিনের স্মৃতি আমাদের মনে শক্তি যোগায় নতুন স্বাধীনতার সংগ্রামের জন্য।
আজকের এই দিনে, আমরা সবাই মিলে আমাদের স্বাধীনতার মূল্য উপলব্ধি করি এবং আমাদের দেশকে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধশালী করার শপথ গ্রহণ করি।
পলাশী দিবসের এই ইতিহাস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলেই কেবল প্রকৃত স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারব।
ধন্যবাদ।
#পলাশী_দিবস #বাংলার_ইতিহাস #স্বাধীনতা #বাংলাদেশ