07/11/2020
বাংলার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প
,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
বাংলাদেশ রূপ বৈচিত্রের দেশ।
এদেশে অতীতকাল থেকেই হাজার ধরনের সংস্কৃতি
পালন করা হয়। যার একটি নিদর্শন হলো মৃৎশিল্প।
বাংলাদেশের মৃৎশিল্পের এক সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রয়েছে।
'মৎ' মানে মাটি আর শিল্প’মানে সুন্দর সৃষ্টিশীল বস্তু।
তাই মাটি দিয়ে তৈরি শিল্পকর্মকে মৃৎশিল্প' বলে।
এবং যারা এই শিল্পকর্মের সঙ্গে জড়িত তাদের বলা হয় কুমার।
কুমারেরা অসম্ভব শৈল্পিক দক্ষতা ও মনের মধ্যে লুকায়িত মাধুর্য দিয়ে চোখ ধাঁধানো সব কাজ করে থাকেন।
এই শিল্পটি হল বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও অন্যতম একটি শিল্প যা বাংলাদেশের ঐতিহ্য বহন করে।
কালের বিবর্তনে, শিল্পায়নের যুগে ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য এই মৃৎশিল্প।
বাজারে যথেষ্ট চাহিদা না থাকা, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজের পরিধি পরিবর্তন না করা, কাজে নতুনত্বের অভাব, আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের অসঙ্গতি, কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত
মাটির মূল্য বৃদ্ধি, কাঁচামাল ও উৎপাদিত সামগ্রী পরিবহনে সমস্যাসহ নানা কারণে মুখ থুবড়ে পড়েছে বাংলার
বহু বছরের এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প।
শুধু তাই নয়, প্লাস্টিক, স্টিল, ম্যালামাইন, সিরামিক ও সিলভারসহ বিভিন্ন ধাতব পদার্থ দিয়ে তৈরি করা এসব তৈজসপত্রের নানাবিধ সুবিধার কারণে দিন দিন আবেদন হারাচ্ছে মাটির তৈরি শিল্পকর্ম।
এখন বিশেষ বিশেষ সময়ে অনুষ্ঠিত মেলায় দেখা মিলে মাটির এসব তৈজসপত্র। মেলায় আগতদের হাতে হাতে শোভা পায় এসব মাটির জিনিস। বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগায় এই শিল্পে অনেকটা ভাটা পড়লেও নতুন করে মৃৎশিল্পের আরেকটি শাখা উন্মোচিত হয়েছে। সেটি হলো নান্দনিক মৃৎশিল্প।
এ শাখার মৃৎশিল্পীরা মাটি দিয়ে বিভিন্ন সৌখিনসামগ্রী ও শিল্পকর্ম তৈরি করে থাকেন।
ইংরেজিতে একে বলা হয় পটারি শিল্প। এরা টেরাকোটা বা মৃৎফলকে খোদাই করে সুন্দর সুন্দর শোপিস তৈরি করেন।
এছাড়াও বিভিন্ন অলঙ্কার, নকশিপাত্র, ঘণ্টা ইত্যাদি তৈরি করছেন। ঢাকার অনেক দোকানে এসব সৌখিন মৃৎসামগ্রী বিক্রি হচ্ছে।
আমরা সবাই আমাদের এই প্রাচীন শিল্পকে
টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করবো।
এই শিল্প আমাদের বাংলার গর্ব, বাংলার ঐতিহ্য।