Dilruba's Golden Diary

Directions

Dilruba's Golden Diary Hello, I am Syeda Sultana Dilruba Khanam.

Welcome to my Golden Diary, a place where I share my cooking, crafts, photographies, and the tiny things that make life feel a little extra sweet!

10/11/2026
10/10/2026


Wodden plain bead
bracelet... 💞🥰💞

   আজ শুক্রবারে মহান আল্লাহ্তায়ালার কাছে আমাদের সবার দোয়া...
10/09/2026


আজ শুক্রবারে মহান আল্লাহ্তায়ালার কাছে আমাদের সবার দোয়া...

 #সুন্দরগল্প  #মায়েদেরসুস্বাস্হ্যমা তুমি বেশিই চিন্তা কর, রো'গ নেই,তাও রো'গ বাড়াচ্ছো।  ডাক্তারের কাছে গিয়ে কি বলো তুমি, ...
10/03/2026

#সুন্দরগল্প #মায়েদেরসুস্বাস্হ্য
মা তুমি বেশিই চিন্তা কর, রো'গ নেই,তাও রো'গ বাড়াচ্ছো। ডাক্তারের কাছে গিয়ে কি বলো তুমি, গা জ্ব*লে, দুর্বল লাগে, ভালো লাগে না । এইটা কোন রোগ হলো? আর কত ডাক্তার দেখাবো বলো তো। ( সুন্দর গল্পটি শেয়ার করে নিলাম আশা করি সবার ভালো লাগবে।

ছোট বউ উর্মি টেবিলে রাতের খাবারের জন্য প্লেট বাটি এনে সাজিয়ে রাখছে। মেঝ বউ শ্যামা রান্নাঘর থেকে সব তরকারি এনে টেবিলে রাখছে। বড় বউ অনুরাধা রান্নাঘরে সব তরকারি হাড়ি থেকে বাটিতে বাড়ছে।

রাতের খাবারের তোড়জোড় চলছে। যে যেখানে থাকুক সারাদিন, রাতের খাবার টা সবাই একসাথে খেতে চায়। ছোট বেলা থেকে নীলা ওদের মধ্যে অভ্যাসটা করিয়ে দিয়েছে।
পলাশ টেবিলে এসে বসতেই বউরা মাথায় কাপড় তুলে দেয়। ছোট ছেলে তপন এসে বসল, মেঝ ছেলে তরুণ মোবাইলে কথা বলতে বলতে চেয়ার টেনে বসলো।
নীলাও এসে পলাশের বামের চেয়ারে বসলো। বড় ছেলে অরুন এখনো আসে নি। অরুনের ছেলে তুতুল এক সাথে খাওয়ার বায়না করে৷ সবে ক্লাস ফোরে উঠলো। পলাশের ডান পাশেই সে বসে।
অন্য নাতিরা ছোট তাই তারা আগে খেয়ে টিভিতে কার্টুন দেখছে।
অরুন এসে বসতেই নীলা অধীর আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করলো,

কি রে খোকা, রিপোর্ট এলো? কি বলল ডাক্তার?

অরুন উত্তর না দিয়ে প্লেটে ভাত নিচ্ছে। নীলা চুপ হয়ে গেলো। ছোট বউ সবাইকে ভাত দিচ্ছে প্লেটে, নীলাকে দিতে এলে,দুই চামচ দেওয়ার পর নীলা বলল,

-থাক থাক, আর দিও না। খেতে ইচ্ছে করে না। কি যে হলো, কিছুই বুঝি না। দুর্বল লাগে। ডাক্তার ও কোন রোগ ধরতে পারছে না।

অরুন বলল,
মা তোমার রোগ না থাকলে কিভাবে ধরবে বলো তো ডাক্তার? সেই কিছু ভিটামিনের ওষুধ ধরিয়ে দিলো। ভালো করে খাওয়া দাওয়া করো।

তপন বলল-
মা তুমি বেশিই চিন্তা কর, রো'গ নেই রো'গ বাড়াচ্ছো। ডাক্তারের কাছে গিয়ে কি বলো তুমি, গা জ্ব*লে, দুর্বল লাগে, ভালো লাগে না । এইটা কোন রোগ হলো? আর কত ডাক্তার দেখাবো বলো তো?

তরুন বলল,
তোমার আসলে প্রতিদিন হাঁটা উচিত, ঘরে বসে থাকতে থাকতে তুমি বিরক্ত হচ্ছো।
রোজ দুধ, ডিম খাও।

নীলা চুপ হয়ে গেল, ভাতের সাথে বেগুন ভাজি মাখতে মাখতে বলল,

খাই তো রে, হাঁটবো কি করে, হাটু যে ব্যা*থা করে। একটু গেলে।

মেঝ বউ বলল- কয়েক দিন গেলে অভ্যাস হয়ে যাবে।
বড় বউ অনুরাধা রান্নাঘর থেকে ইলিশ মাছে বটিটা টেবিলে দিকে এনে রাখতে রাখতে বলল-

মা, আপনার যা খেতে ইচ্ছে করে বলবেন। বানিয়ে দেবো, কারো সাধ্য নেই যে আপনার আদেশ অমান্য করে। তাও প্লিজ এইরকম ভালো লাগে না, ভালো লাগে না, করবেন না। মানুষ জনে বলে আমরা নাকি খেয়াল রাখি না।

নীলা বলল- না, না, তোমার তো যথেষ্ট খেয়াল রাখো। আচ্ছা ঠিক আছে আমি আর বলবো না কিছু,

তরুন বলল- আহ্, তোমাকে বলতে মানা করল নাকি কেউ? তুমি না বললে জানবো কি করে আমরা বল তো?
ইলিশ মাছ খাও, আজ ভালো পেলাম, আনলাম।

তরুন ব্যবসা করে, অরুন আর তপন আর ছোট বউ চাকরি করে। আজ তরুন দুটো বড় ইলিশ মাছ এনেছে।
সবার জন্য করতে গেলে কয় টুকরো আর হয়?
বড় বউ অনুরাধার এখন সংসারের গিন্নি। তাই ও সবার পাতে যাতে পড়ে তাই হিসেব করেই একটু ছোট করেই টুকরো করেছে।
বেশ স্বাভাবিক ভালো বুদ্ধিমত্তার কাজ, ছেলেরাও জানি ব্যাপারটা। ছোট বেলা থেকে দেখেই অভ্যস্ত।
অনুরাধা সবাইকে মাছ দিচ্ছে। আমাকে দিলে এলে বললাম,

আরেক পিস দাও,
অনুরাধা একটু অন্যরকম হাসলো, তবে দিলো দুই পিস। সবাইকে দিয়ে শেষ মাছ টা তুতুল কে তুলে দিয়ে কা*টা বেঁছে দিতে লাগলো। কেউ কোন কথা বলল না, কারণ এইটা স্বাভাবিক ব্যাপার।
বাবা দুই পিস চাইতেই পারে।

অনুরাধাকে বললাম- বৌমা, তুমি নিলে না যে মাছ? আর নেই?
হেসে বলল-
না বাবা, ঠিক আছে, আমার বেগুন ভাজি আর সবজিতেই খাওয়া হয়ে যাবে। আর দুপুরের ছোট মাছ একটু আছে ওতেই হবে। আপনি খান বাবা। সমস্যা নেই।

প্লেট থেকে হাত তুলে নিয়ে বললাম-

আমাদের বাসায় এখন কয় জন ইনকাম করে বলো তো?
সবাই তাকিয়ে আছে এখন আমার দিকে,

চারজন। কেন বাবা?

আমাদের বাসায় এখন চারজনেই ইনকাম করে, তাও তুমি আজকের আমাকে দুই পিস মাছ দিতে গিয়ে নিজে নিলে না।
চিন্তা করো, আমার একার ইনকামে তিন ছেলে দুই মেয়ে, আমার ভাই -বোন, মা- বাবার বিশাল সংসারে তোমার মা কত বেলা ঠিক এইভাবে নিজের পাতের মাছ টা অন্য কে তুলে দিলো।

কেউ আরেকটু চাইলে ঘরের মায়েদের বউদের নিজের টা তুলে দিতে হয়, কেউ কোন প্রশ্ন তুলি না। যেন এইটা অনাদি কাল থেকে চলে আসা নিয়ম।

তারা খেয়ে পেট তো ভরায়, তবে প্রতিবেলার এমন ভালো মাছ মাংসের টুকরো টা তুলে দিতে দিতে রয়ে যায় পুষ্টি বাকি।
এইটা অনেক গুলো বছর ধরে চলতে চলতে, শরীর বলে আমি আর পারছি না।

তখন হাজার ভিটামিন আর ভালো খাবার দিলেও হাড্ডি তা আর নিতে পারে না।
আমি তোমার মায়ের রোগ অনেক চিন্তা করে বুঝতে পারলাম,
তোমার মায়ের রোগ ডাক্তার ঠিকই ধরেছে, তোমার মায়ের ভিটামিন-এর অভাব। তাই ভিটামিন ওষুধ দেয়। কিন্তু আমাদের কাছে এইটা কোন রোগেই মনে হচ্ছে না। যেন হাস্যকর ব্যাপার।

তোমার মা আমার থেকে দশ বছরের ছোট, কিন্তু দেখো তোমার আমার চেয়ে নীলার রোগ বেশি, দুর্বলতা, গা জ্বালাপোড়া করা, হাটুর ব্যা*থা,চোখের সমস্যা, চুল পড়ে যাওয়া, আরো কত কিছু।
আমিও তো তখন তোমাদের মা কে যত্ন করি নি।
কারণ মায়েদের নিজের জন্য ভালো অংশ টা না রেখে প্রতিবেলা ছেলে মেয়েদের পাতে তুলে দেওয়া ব্যাপার টা আমিও চিরচেনা ভাবেই দেখে এসেছি ।
তাই এখন তোমার জন্য না রেখে আমাকে তুমি দুই পিস মাছ তুলে দেওয়াতে কারো মনে কোন প্রশ্ন উঠে নি এখানে?
অরুনের মনে, তুতুলের মনে। কারণ ওরাও ঠিক এইটাই দেখছে।

মাছের অন্য টুকরো টা অনুরাধার পাতে তুলে দিয়ে বললাম-
তাই এখন থেকে তুমিও জামাই, শ্বশুড় আর বাচ্চাকে সব টা তুলে না দিয়ে নিজের জন্য রাখতে শেখো, বলতে শেখো,
আমিও খাবো তো।
নাহলে বয়স হলে তখন তুমিও তোমার মায়ের মত বলবে শরীর ভালো লাগে না। ছেলে তোমায় বলবে, তোমার কোন রো'গ নেই, শুধু শুধু বানাচ্ছো, স্বামী বলবে, আর কত ডাক্তার দেখাবো?
তখন তুমি যতই ভালো মাছ মাংস ডিম দুধ খাও না কেন তোমার হাড্ডিতে জোর পাবে না। শরীর তা নিতে পারবে না।

তাই সবার সাথে সাথে নিজের খাবারের পুষ্টিমান ঠিক রাখো। এদেশে বয়স হলে ছেলেদের আগে মেয়েদের শরীর আগে ভে*ঙে পড়ে। ঠিক এই কারণে।
তাই যখন তোমার স্বামী বাচ্চাদের জন্য কিছু আনে তখন তাকে মনে করিয়ে দাও তুমিও মানুষ তোমারও সমান পুষ্টি দরকার।

সবাই চুপ হয়ে আছে। নীলার চোখ ছলছল করছে। তখন তুতুল তার পাত থেকে ডিমের অর্ধেক অনুরাধার পাতে তুলে দিলো। অনুরাধা তুতুলের কপালে চুমু এটে দিতে এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল ভাতে ।

মা দিবসে মায়ের ভালোবাসা জন্য ধন্যবাদ না দিয়ে মায়ের পাতে ভালো টুকরোটা তুলে দেওয়ার নিয়ম হোক। যাতে আমার মা টায়, শেষ বয়সেও সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকতে পারে। নিশ্চিত হোক মায়ের সুস্বাস্থ্য।

#মায়েরসুস্বাস্থ্য
#দোলনাবড়ুয়াতৃষা

09/23/2026

#গহনা #হাতেরকাজ
নিজের হাতে ভালোবাসা আর যত্ন দিয়ে
তৈরি করা কাঠের গহনা...❤️🥰❤️
নিজের হাতে তৈরি বলেই এর সৌন্দর্য্যটা যেন একটু অন্যরকম ভাবে ফোটে উঠে আমার কাছে।নিজের তৈরী যে কোন কিছুর মাঝে যে আনন্দ,তা সত্যিই অনন্য!

 #হাতেরকাজ   সাদা-কালো!!একলা আকাশ মেঘে ঢাকা,তুমি এলে জোছনা মাখা।শুভকামনা রইলো...🖤🤍🖤
09/21/2026

#হাতেরকাজ
সাদা-কালো!!
একলা আকাশ মেঘে ঢাকা,
তুমি এলে জোছনা মাখা।
শুভকামনা রইলো...🖤🤍🖤

  আমার ভালোবাসার কাজ:এই ঝলমলে রোদ যতদিন হাসবে, এই পাখির কলকাকলি, এই গাছের পাতায় হাওয়ার দোলায় ঝিরঝির শব্দ যতদিন আমি শু...
09/20/2026


আমার ভালোবাসার কাজ:
এই ঝলমলে রোদ যতদিন হাসবে, এই পাখির কলকাকলি, এই গাছের পাতায় হাওয়ার দোলায় ঝিরঝির শব্দ যতদিন আমি শুনবো, ভোরের খোলা হাওয়ায় বুকভরে শ্বাস নিতে পারবো। তাহলে কি করে আমি জীবনকে ভালবেসে না থাকতে পারি? আপনিই বলুন...
কেমন হলো কাজটি???

      সুখ তারা দিয়ে রেখেছি গেঁথেতোমার জন্যে পুতির মালা।সেই মালা দিয়ে করবো বরণতোমায় এই পড়ন্ত বিকেল বেলা।একজন বান্ধবীর জন...
09/18/2026


সুখ তারা দিয়ে রেখেছি গেঁথে
তোমার জন্যে পুতির মালা।
সেই মালা দিয়ে করবো বরণ
তোমায় এই পড়ন্ত বিকেল বেলা।
একজন বান্ধবীর জন্যে
তৈরী এই মালা...💚💛❤️

 #গল্প  #গ্লানি  #তাইমুরমাহমুদশমীক গল্পটা আমার মনে এমন দাগ কেটে গেলো, তাই আপনাদের জন্যেও শেয়ার করে নিলাম...🥲❤️🥲আশা করি এ...
09/03/2026

#গল্প #গ্লানি #তাইমুরমাহমুদশমীক
গল্পটা আমার মনে এমন দাগ কেটে গেলো, তাই আপনাদের জন্যেও শেয়ার করে নিলাম...🥲❤️🥲
আশা করি একবার পড়েবেন।

★ মেয়েটা পালিয়ে যাওয়ার পর আমার মাথায় প্রথম যে কথাটা এলো, ওইটা শুনলে আপনারা আমাকে পাগল ভাববেন।
আমি ভাবলাম, বাইশ বছরে আমি নিশিকে একটা দিনও মুরগির রানটা দিইনি।
রানটা যেতো রাফির পাতে। রাফি আমার ছোট ছেলে। নিশি পেতো গলার অংশটা, নয়তো পিঠের হাড্ডিওয়ালা টুকরাটা। ও কোনোদিন এ নিয়ে একটা কথাও বলেনি। আর আমিও কোনোদিন ভাবিনি যে এইখানে বলার মতো কিছু আছে।

আমরা হতদরিদ্র ছিলাম না। উত্তরায় ছিমছাম একটা বাসায় থাকতাম। ওর বাবা একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে মধ্যমসারির চাকরি করতো। ফ্রিজে মাছ মাংস থাকতো প্রায়ই।
টাকার অভাবে আমি মেয়েকে কম দিয়েছি, তা না। কম দিয়েছি নিয়ম করে, ইচ্ছা করে। কারণ আমি বিশ্বাস করতাম, এইটাই ওর জন্য ভালো।
ছোটবেলা থেকে আমি ওকে একটা কথাই শিখিয়ে এসেছি। মেয়েদের এতো শখ ভালো না।

ক্লাস সেভেনে স্কুল থেকে কক্সবাজার যাওয়ার ট্রিপ হলো। ওর সব বান্ধবী গেলো। আমার হাতে ছিলো পর্যাপ্ত টাকা। তবু বললাম, মেয়ে মানুষের এতো ঘোরাঘুরি কীসের? বিয়ার পর জামাই নিয়া যাবি।

কলেজে ওঠার পর একদিন দোকানের সামনে একজোড়া কানের দুল দেখে ও দাঁড়িয়ে গেলো। বললাম, এখন না। বিয়ার সময় একবারে বানায়া দিমু।

আরেকদিন ওর বাবা দুই বাচ্চার জন্য আইসক্রিম আনলো। আমি নিশিরটা ফ্রিজে তুলে রাখলাম। বললাম, মেয়ের গলা বসে যাবে। রাফি ওরটা খেয়ে ফেললো। নিশিরটা পরদিন গলে জল হয়ে গিয়েছিলো।

এইগুলার একটাও আমি রাগ করে করিনি। আমি ওকে তৈরি করছিলাম।

ক্লাস নাইনে ওঠার পর আর আমাকে কিছু বলতেও হতো না। টেবিলে খাবার দিলে ও নিজেই মাছ বা মাংসের সবচেয়ে ছোট টুকরাটা তুলে নিতো। কেউ জিজ্ঞেস করলে বলতো, আমার এইটাই ভালো লাগে।

আমার শেখানোটা এতোই ভালো হয়েছিলো যে মেয়েটা নিজের ভাগের অংশ নিজেই কেটেছেটে ছোট করতে শিখে গিয়েছিলো। আমি ওইটার নাম দিয়েছিলাম ভদ্রতা। আত্মীয়দের কাছে গর্ব করে বলতাম, আমার মেয়ে কিচ্ছু চায় না।

আমি ওকে ভালোবাসতাম না, এইটা দুনিয়ার কেউ বলতে পারবে না। জ্বর হলে সারারাত মাথায় পানি ঢেলেছি। রেজাল্টের দিন ওর হাত ধরে স্কুলে গিয়েছি। ওর জন্য আমি সব করেছি।

শুধু একটা কাজ কোনোদিন করিনি। কোনোদিন জিজ্ঞেস করিনি, তুই কী খাবি? কোনোদিন জিজ্ঞেস করিনি, তুই কী চাস?

আমার নিজের মা আমাকে এই কথাগুলাই বলতেন। শ্বশুরবাড়ি গিয়া কতো কিছু মানায়া নেওন লাগবো! এখন থাইকা অভ্যাস কর। আমি অভ্যাস করেছিলাম। আটাশ বছরের সংসারে আমি একটা জিনিসও নিজের জন্য চাইনি। সবাই বলতো, রেহানা বড় লক্ষ্মী মেয়ে।
লক্ষ্মী মেয়ে মানে যে মেয়ের কোনো চাওয়া নাই।
আমি আমার মেয়েটাকেও লক্ষ্মী বানাতে চেয়েছিলাম।

পনেরো বছর ধরে আমি আলমারিতে ওর বিয়ের গয়না জমাচ্ছিলাম। শাড়ি জমাচ্ছিলাম। বলতাম, এইগুলা তোর বিয়ায় দিমু।
সবকিছু আমি ভবিষ্যতের জন্য তুলে রাখছিলাম। মেয়েটা ভবিষ্যৎ পর্যন্ত অপেক্ষা করলো না।

গত এক বছর ধরে ও বদলে গিয়েছিলো। ফোন হাতে নিয়ে একা একা হাসতো। রাতে দেরি করে ঘুমাতো। আমি ভেবেছিলাম পড়ার চাপ।

ছেলেটাকে আমি চিনতাম। আমাদের মোড়ের ওই পাশে থাকে। পড়াশোনা ছেড়েছে বছর তিনেক আগে। রাতে চায়ের দোকানের বেঞ্চে বসে থাকে। চোখ দুইটা সবসময় লাল।

একবার আমি ওকে ছেলেটার কথা জিজ্ঞেস করেছিলাম। ও শুধু বললো, তোমরা ওরে চেনো না। বাইরে থেকে দেখতে যেমনই হোক, আসলে সে মানুষ ভালো!

আমি ভেবেছিলাম মেয়েটা বেয়াদব হয়ে যাচ্ছে। এখন বুঝি, জীবনে প্রথমবার ও এমন একটা কিছু আগলে রাখছিলো, যা ওর একান্তই নিজের।

শুক্রবার সকালে ওর ঘরে ঢুকে দেখি বিছানার চাদরটা টান টান হয়ে আছে। বালিশ ঠিক জায়গায়। টেবিলের উপর একটা কাগজ।

সেখানে লেখা, আম্মু, আমি রনির সাথে চলে যাচ্ছি। আমাকে খুঁজো না। খুঁজে লাভ নাই।
আমার মেয়েটা পালিয়ে যাওয়ার আগেও নিজের বিছানাটা গুছিয়ে রেখে গেছে।

তিনদিন পর ওর এক বান্ধবী এলো। মেয়েটা অনেকক্ষণ চুপ করে বসে থেকে বললো, আন্টি, একটা কথা বলবো? রাগ করবেন না।

আমি বললাম, বলো।

ও বললো, ছেলেটা প্রথমদিন নিশিকে একটা রেস্টুরেন্টে নিয়ে গিয়েছিলো। মেনুটা এগিয়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলো, তুমি কী খেতে চাও?

নিশি উত্তর দিতে পারে নাই আন্টি। ও কাঁদতে শুরু করেছিলো। রেস্টুরেন্টের মধ্যে, সবার সামনে।

নিশি পরে আমাকে বলেছিলো, জীবনে কেউ ওকে এই প্রশ্নটা করে নাই।

ছেলেটা ওকে কিছুই দেয়নি। একটা দুলও না, একটা জামাও না। ছেলেটা খালি বলতো, তুমি যা চাইবা তাই হবে।

বাইশ বছরে ওই একটা কথাই ওর কানে ঢুকেছিলো। গেঁথে গিয়েছিলো মনে।

যে মেয়ে সারাজীবন কম পেয়ে এসেছে, তার সামনে কেউ হাত ভরে কিছু বাড়িয়ে ধরলে সে যাচাই করতে যায় না। সে খালি হাতটা ধরে ফেলে।

সেদিন বিকালে আমি ওর আলমারি খুললাম। সব জামা ভাঁজ করা, গোছানো। এক কোণায় একটা শপিং ব্যাগ পড়ে আছে।

তিন বছর আগে চাচাতো বোনের বিয়েতে আমি ওকে একটা জামা কিনে দিয়েছিলাম। প্রাইস ট্যাগটা তখনো খোলা হয়নি।

আমি বলেছিলাম, এখন পরিস না, নষ্ট হইবো। ভালো কোনো অনুষ্ঠানে পরিস।

তিন বছরে ভালো কোনো অনুষ্ঠান আর আসেনি।

রাফি রাতে আমার পাশে এসে বসলো। অনেকক্ষণ পর বললো, আম্মু, আপু একদিন আমারে জিজ্ঞাসা করছিলো, ভাইয়া, তুই চাইলেই পাস ক্যান?
তুই কী উত্তর দিছিলি?
কইছিলাম, জানি না তো! তারপর ভুইলা গেছিলাম।

ভেবেছিলাম কম চাইতে শেখালে মেয়েটা সুখী হবে। আমি বুঝিনি, কম চাইতে শিখলে মানুষ কম পেয়েই খুশি হয়ে যায়। আর যে কম পেয়ে খুশি হয়, তাকে ঠকানো সবচেয়ে সহজ।

মেয়েটা ভালোবাসা চিনলো না। চিনবে কীভাবে? ভালোবাসা দেখতে কেমন হয়, ওইটা তো আমি ওকে নিজের ঘরেই দেখাতে পারিনি।

রাতে খাবার টেবিলে বসে আমি চারটা প্লেটে ভাত বেড়ে ফেললাম।
রাফি কিছু বললো না। ওর বাবাও না। চার নম্বর প্লেটটা টেবিলের ওই মাথায় খালি পড়ে রইলো।

আমি রানটা তুলে ওই প্লেটের উপর রাখলাম।
ততোদিনে বাইশটা বছর কেটে গেছে।

গ্লানি
লেখা:তাইমুর মাহমুদ শমীক
৩১/৮/২০২৬

ছানার সন্দেশ:মিষ্টি আইটেমের মাঝে বরাবরই আমার প্রিয় ছানার সন্দেশ...🌿❤️🌿
08/18/2026

ছানার সন্দেশ:
মিষ্টি আইটেমের মাঝে বরাবরই আমার প্রিয়
ছানার সন্দেশ...🌿❤️🌿



Address

Hamilton, ON

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dilruba's Golden Diary posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category