21/01/2024
সবাই তো আর আমার মতো স্পষ্টভাষী না। তাই নিজের ইচ্ছের কথা মন খুলে সবাই বলতেও পারেনা।
অন্তর্যামী হয়ে তাঁর মনের কথা বুঝে নিতে হয়। শীত ঠিক করে পড়েও নি যখন, তখন থেকেই প্রায় রোজ ই একবার জিজ্ঞাসা করছে, আজকে কি রান্না হবে। মেনু শুনে চুপচাপ চলে যাচ্ছে। বুঝতে পারছিলাম কিছু একটা খেতে চাইছে।
স্কুলে গিয়ে খিচুড়ি র একটা রিলস ভিডিও পাঠিয়ে বলে...খিচুড়ি টা কি সুন্দর হয়েছে না? আমি একটা লাভ রিয়াক্ট দিয়ে দিই...
তারপর যেদিনই ভাবছি খিচুড়ি করবো সেদিন আর ঠান্ডা থাকছে না। এইদিকে আমার পরীক্ষা শুরু হয়ে গেলো। পরীক্ষা শেষ হলে চলে গেলাম বেড়াতে। যেদিন বাড়ি ফিরলাম বেশ জাঁকিয়ে শীত পড়েছে, ও চলে গেলো স্কুলে।
কত দিন বাড়ি ছিলাম না, ফ্রিজ প্রায় ফাঁকা।
আর কি গোবিন্দভোগ চাল, সোনামুগের ডাল দিয়ে বসিয়ে দিলাম খিচুড়ি। ফ্রিজে কিছু মটরশুঁটি গাজর আর বিনস ছিলো, ওইগুলোও সাথে দিয়ে দিলাম। নামাবার আগে ঘি দিতে গিয়ে দেখি ঘি বাড়ন্ত। তাতে বাবুর কিছু আসে যায় না। ওর চাল ডাল সেদ্ধ হলেই হয়ে যায়।
সাথে করলাম ডিম আর আমসত্ত্ব ও খেজুরের চাটনি।
স্কুল থেকে ফেরার পর যখন এক প্লেট খিচুড়ি মুখের সামনে ধরলাম বাপরে...মুখের চওড়া হাসিটাই সব কিছু বলে দিলো। সব কিছু খাবার পর চাটনি মুখে দিয়ে বলল খাবে না, ভালো হয়নি। আমি একটু অবাক ই হলাম...ও কোনও দিন ই মুখের ওপর এভাবে বলে না, খারাপ হলেও খেয়ে নেয়।
আমি একটু মুখে দিয়ে দেখি, সত্যিই লবণ পোড়া...একা একা রান্না করতে করতে আমার মাথায় যে কি কি চিন্তা আসে...ভুল করে যে কত বার লবণ দিয়ে দিয়েছিলাম ভগবান জানে।যাই হোক এটা ছিলো মাষ্টারবাবুর পারফেক্ট উইন্টার লাঞ্চ।