আমার পাতা : আমার কথা ৷ ভ্রমণগাথা,ছবিতে লেখা,রান্নাবান্না আর আড্ডা ৷

  • Home
  • India
  • KOLKATA
  • আমার পাতা : আমার কথা ৷ ভ্রমণগাথা,ছবিতে লেখা,রান্নাবান্না আর আড্ডা ৷

আমার পাতা : আমার কথা ৷ ভ্রমণগাথা,ছবিতে লেখা,রান্নাবান্না আর আড্ডা ৷ আমার:- ভ্রমণকথা,,সামাজিক কাজকর্ম,রান্নবান্না,
My: - Travel stories, social work, cooking,

11/03/2026

#জানাঅজানা

আমার বাড়ি শীতকালে এনার্জি পজিটিভ হয়ে যায়। কারন শীতে লোড কম, এসি চলে না। ফ্রিজ কম চলে, গরম জল ছাদের সোলার গিজার থেকে আসে আর ছাদে আছে ২.৫ kW-P এর সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট। কিন্তু সমস্যা হল - এই এনার্জি CESC -র গ্রীডে ঢোকে বিনি পয়সায়। CESC কিছুতেই ডিফারেনশিয়াল মিটার দেবে না। আমায় না, কাউকেই দেয় না। তখন মনে হত - দুর ছাই, পাশের মুদির দোকানটাকে CESC র থেকে কম ট্যারিফে বেচে দিই এক্সট্রা পাওয়ার। কিন্তু আইনগত ভাবে সেটা করা যায় না। P2P PPA (পাওয়ার পার্চেস এগ্রিমেন্ট) করা যায় না।

এবার আসি এ-আই ইম্প্যাক্ট সামিটে কি একখানা ইউজ কেস দেখান হয়েছে। সাংঘাতিক জিনিস মশাই। ইমপ্লিমেন্ট নিঃসন্দেহে টাফ। তবে ইউপিআই কেও আমরা সুপার টাফ ভেবেছিলাম। নয় কি? এই জিনিস স্মার্ট গ্রীডের নিয়ম কানুন মেনে নামাতে পারলে যে কি হবে, ভাবতেই শিহরন হচ্ছে।

আর ভনিতা না করে আসল ব্যাপারে আসা যাক!

***

মীরাটের কৃষক অরুণ সিংয়ের বাড়ির টিনের ছাদে কয়েকটা সোলার প্যানেল। ভোরের রোদ উঠতেই নিয়ম করে ইলেক্ট্রিসিটি তৈরি শুরু করে।

আগে কী হতো? নিজের বাড়ির পাখা, লাইট, পাম্প চালিয়ে যা বাঁচত, সেটা নামমাত্র দামে চলে যেত সরকারি গ্রিডে, আর বাকি এনার্জি আসলে নষ্টই হয়ে যেত।

কিন্তু ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ অরুণ এক কাজ করলেন। সেই বাড়তি ৬ ইউনিট ইলেক্ট্রিসিটি তিনি সোজা বিক্রি করলেন দিল্লির এক গার্মেন্টস দোকানদার লক্ষ্মীর কাছে। মাঝখানে কোনো ডিসকম নেই, কোনো ফিক্সড ট্যারিফ নেই, শুধু একটা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম আর দুইজন মানুষের মধ্যে সরাসরি লেনদেন।

এর বদলে তার হাতে এলো ৩০ টাকা। ঘটনাটা ছোট, কিন্তু এর ভেতরে লুকিয়ে আছে ভারতের ভবিষ্যতের মালটি-মোডাল ইলেক্ট্রিসিটি মার্কেটের একটা ঝলক।

***

ইউপিআই থেকে এনার্জি স্ট্যাক..

যেভাবে ইউপিআই টাকার লেনদেনকে “যার ফোন আছে, তারই ব্যাংক” টাইপ গণতন্ত্রী ব্যপার করে দিয়েছে, ঠিক সেই ভাবনাটাই এবার ঢুকছে ইলেক্ট্রিসিটির জগতে।

ভারতের বিদ্যুৎ মন্ত্রক ইন্ডিয়া এনার্জি স্ট্যাক বা আইইএস নামের একটা ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার বানাচ্ছে, যা পাওয়ার সেক্টরের জন্য হবে আধার আর ইউপিআই এর মতোই এক কমন ডিজিটাল ব্যাকবোন।

এর লক্ষ্য খুব সোজা। ইলেক্ট্রিসিটি মানে শুধু বিল আর লোডশেডিং নয়, বরং একটা ওপেন ডিজিটাল মার্কেট, যেখানে আপনি চাইলে বায়ার, চাইলে সেলার, আবার চাইলে দুটোই হতে পারবেন।

এই জন্যই মিনিস্ট্রি অব পাওয়ার একটা টাস্কফোর্স বানিয়ে ১২ মাসের প্রুফ অব কনসেপ্ট চালাচ্ছে, যাতে বাস্তবে কীভাবে এই স্ট্যাক কাজ করবে, সেটা ট্রায়াল দিয়ে বোঝা যায়।

***

প্রোসিউমার, আলো বিক্রি করতে শেখা মানুষ!

এই নতুন ইকোসিস্টেমে আপনি শুধু কনজিউমার নন, আপনি প্রোসিউমার। অর্থাৎ আপনি যেমন ইলেক্ট্রিসিটি কনজিউম করেন, তেমনি ইলেক্ট্রিসিটি উৎপাদনও করতে পারেন।

যার বাড়ির ছাদে সোলার আছে, কোনো হাউজিং সোসাইটির রুফটপ প্ল্যান্ট, কিংবা ছোট ব্যবসার গ্যারেজের সোলার, এরা সবাই তাদের বাড়তি ইলেক্ট্রিসিটি সোজা অন্য কারও কাছে বিক্রি করতে পারবে।

এটা একদম নতুন পাওয়ার ডায়নামিক্স। কয়লার বা তেলের যুগে যেখানে সব এনার্জি কন্ট্রোল করত কয়েকটা বড় কোম্পানি বা রাষ্ট্র, সেখানে সোলার আর উইন্ডের যুগে প্রথমবার সাধারণ মানুষ নিজেই ছোট ছোট পাওয়ার প্ল্যান্ট হয়ে উঠছে।

অরুণ আর লক্ষ্মীর সেই ৬ ইউনিটের লেনদেন আসলে এই ধারণার প্রমাণ, মানুষই এবার এনার্জি মার্কেটের প্লেয়ার।

***

ভিতরের টেকনোলজি, একেবারে সহজ ভাষায়..

গল্পের পেছনে টেকনোলজি বেশ ভারি, কিন্তু ভেঙে বললে খুব জটিল না।

প্রতিটা বাড়ি, দোকান, ফার্মে লাগানো থাকে স্মার্ট মিটার, যেটা রিয়েল টাইমে ডেটা পাঠায়, কতটা ইলেক্ট্রিসিটি তৈরি হচ্ছে, কতটা খরচ হচ্ছে।

এই ডেটার ওপর এআই চালিত সিস্টেম আগে থেকেই আন্দাজ করে কোন এলাকায় এখন কতটা চাহিদা, আর কোথায় সারপ্লাস।

ব্লকচেইন বা একই রকম সিকিয়োর ডিজিটাল লেজার প্রতিটা লেনদেনকে ট্যাম্পার প্রুফভাবে রেকর্ড করে রাখে, যাতে কেউ পরে এসে ডেটা পাল্টাতে না পারে।

অটোমেটেড ট্রেডিং অ্যালগরিদম বায়ার আর সেলারকে ম্যাচ করিয়ে দেয়, একদম শেয়ারবাজারের অর্ডার ম্যাচিং সিস্টেমের মতো। শুধু এখানে ট্রেড হচ্ছে টাকা নয়, কিলোওয়াট-আওয়ার।

ফলে অরুণের মিটার জানাচ্ছে, এখন অতিরিক্ত ৬ ইউনিট ইলেক্ট্রিসিটি আছে। ওদিকে লক্ষ্মীর দোকানের মিটার বলছে, গ্রিড থেকে না নিয়ে সে যদি লোকাল সোলার কিনতে পারে, তাহলে তারও লাভ, আর গ্রিডের ওপর চাপও কমে।

***

সরকার, রেগুলেটর আর প্রথম আন্তঃরাজ্য পাইলট..

এই সবকিছুই কিন্তু “অ্যাপ বানালাম, চালু করে দিলাম” টাইপ বিষয় না। এর গায়ে জড়িয়ে আছে নিয়ম, ট্যারিফ, গ্রিডের সুরক্ষা, সব।

উত্তর প্রদেশ ইলেক্ট্রিসিটি রেগুলেটরি কমিশন বা ইউপিইআরসি প্রথমে পিয়ার টু পিয়ার সোলার ট্রেডিংয়ের জন্য ফ্রেমওয়ার্ক বানিয়েছিল। তারপর ২০২৬ এ তারা এমন একটা পাইলট অনুমোদন করেছে, যেটা সরাসরি উত্তর প্রদেশ থেকে দিল্লি পর্যন্ত আন্তঃরাজ্য ট্রেড করার অনুমতি দেয়।

এই পাইলটে পিভিভিএনএল এর আওতায় থাকা প্রোসিউমাররা দিল্লির কনজিউমারের কাছে সবুজ ইলেক্ট্রিসিটি বিক্রি করতে পারবেন, আর সারা সিস্টেমটা চলবে ইন্ডিয়া এনার্জি স্ট্যাকের ডিজিটাল ফ্রেমওয়ার্কের ওপর।

ইউপিইআরসি বলেছে, গ্রিডের সুরক্ষা, ডিসকমের রেভিনিউ আর কনজিউমারের ট্যারিফ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটা মাথায় রেখেই আপাতত ছয় মাসের জন্য সীমিত স্কেলে এই এক্সপেরিমেন্ট।

***

প্রতি ইউনিটে ৪২ পয়সা, এটাই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ফি!

এখন প্রশ্ন আসবে, প্ল্যাটফর্ম চালু রাখার খরচ কে দেবে?

ইউপিইআরসি অর্ডারে বলেছে, প্রতি ইউনিট ইলেক্ট্রিসিটির জন্য ০.৪২ টাকা অর্থাৎ ৪২ পয়সা ট্রানজ্যাকশন চার্জ থাকবে, আর বায়ার ও সেলার দুজনই সমান ভাগে সেটা বহন করবে।

অর্থাৎ অরুণ যেটা বিক্রি করছেন, তার একটা ছোট্ট অংশ খরচ হচ্ছে এই ডিজিটাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার চালাতে, সার্ভার, সাইবার সিকিয়োরিটি, অ্যালগরিদম, সাপোর্ট সব মিলিয়ে।

এটাকে আপনি ইউপিআই এর এমডিআর বা প্ল্যাটফর্ম ফি এর গ্রিন এনার্জি ভার্সন ভাবতে পারেন। শুধু এখানে ফি আরেকটু বেশি ট্রান্সপারেন্ট আর রেগুলেটেড।

***

ইন্ডিয়া এনার্জি স্ট্যাক আসলে কী বানাচ্ছে?

মিনিস্ট্রি অব পাওয়ার যেটা আঁকতে চাইছে, সেটা একটা একক সফটওয়্যার না। বরং পুরো পাওয়ার সেক্টরের জন্য একটা কমন ডিজিটাল লেয়ার।

প্রত্যেক কনজিউমার, অ্যাসেট যেমন ট্রান্সফরমার, ফিডার, সোলার প্ল্যান্ট, আর লেনদেনের জন্য ইউনিক ডিজিটাল আইডেন্টিটি থাকবে।

রিয়েল টাইম, কনসেন্ট বেসড ডেটা শেয়ারিং থাকবে। মানে আপনার ডেটা আপনার অনুমতি ছাড়া কেউ ব্যবহার করতে পারবে না, কিন্তু আপনি চাইলে থার্ড পার্টি সলিউশনও প্লাগ ইন করতে পারবেন।

ওপেন এপিআই থাকবে, যাতে স্টার্টআপ, ডিসকম, রেগুলেটর, সবাই একই কমন ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করে অ্যাপ্লিকেশন বানাতে পারে।

ইউটিলিটি ইন্টেলিজেন্স প্ল্যাটফর্ম বা ইউআইপি এই ডেটার ওপর অ্যানালিটিক্স চালিয়ে ডিসকম আর পলিসিমেকারদের জন্য ড্যাশবোর্ড, ইনসাইট, অ্যালার্ট তৈরি করবে।

পিয়ার টু পিয়ার এনার্জি ট্রেডিং এই স্ট্যাকের প্রথম ভিজিবল ইউজ কেস। মানে যেটা সাধারণ মানুষ নিজের চোখে দেখছে আর ফোনের স্ক্রিনে ছুঁয়ে অনুভব করতে পারছে।

***

এনার্জি মানে কেবল ইউটিলিটি নয়, একটা মার্কেট..

আমরা এখনো ইলেক্ট্রিসিটিকে “বিল চলে এসেছে”, “লোডশেডিং হবে কি” এই মানসিক ফ্রেমে দেখি।

আইইএস যদি ঠিকমতো দাঁড়ায়, তাহলে ইলেক্ট্রিসিটি একটা পিওর ডিজিটাল মার্কেটের প্রোডাক্ট হয়ে উঠতে পারে। একদম ডেটা প্যাক কেনাবেচার মতো, শুধু এখানে কমোডিটি হলো কিলোওয়াট আওয়ার।

এতে তিনটে বড় বদল হতে পারে।

১. ছোট ছোট প্রোসিউমারের ইলেক্ট্রিসিটিও সিস্টেমেটিকভাবে ট্র্যাক, শিডিউল আর সেটল করা যাবে বলে গ্রিডে রিনিউয়েবলস ঢোকানো সহজ হবে।

২. ডিসকমের কাজ শুধু বিল পাঠানো আর লাইন মেরামত করা থেকে সরে গিয়ে ডেটা চালিত সিস্টেম অপারেটর হয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

৩. কনজিউমার প্যাসিভ ইউজার থেকে অ্যাকটিভ প্লেয়ার হয়ে উঠবেন। কখন গ্রিড থেকে নেবেন, কখন লোকাল সোলার থেকে কিনবেন, কখন নিজের সারপ্লাস বিক্রি করবেন, এগুলো নিয়ে তিনিই সিদ্ধান্ত নেবেন।

***

ইন্ডিয়া যখন আগেই বিশ্বকে আধার আর ইউপিআই দেখিয়েছে, তখন খুব অদ্ভুত কিছু হবে না যদি কয়েক বছর পর “ইন্ডিয়া এনার্জি স্ট্যাক” শব্দটা গ্লোবাল এনার্জি সামিটের পাওয়ার-পয়েন্টে নতুন রেফারেন্স মডেল হয়ে দাঁড়ায়।

(শান্তনু সোম)

  'আমাকে কোলে নিয়ে পালাতে গিয়ে মা গুলি খায়' নেলিতে মুসলিম নিধনের সেই ভয়াল স্মৃতিজোহরা খাতুন। ৬ মাসের মিজ খাতুনকে কোলে ...
24/02/2026



'আমাকে কোলে নিয়ে পালাতে গিয়ে মা গুলি খায়' নেলিতে মুসলিম নিধনের সেই ভয়াল স্মৃতি

জোহরা খাতুন। ৬ মাসের মিজ খাতুনকে কোলে নিয়ে পালাতে গিয়ে তার মা গুলি খেয়ে মারা যান।

“বাবার কাছেই শুনেছি যে আমাকে কোলে নিয়ে পালাতে গিয়েই মা গুলি খেয়ে মাঠে পড়ে গিয়েছিল। আমি নাকি বেশ কয়েক দিন আমার মরা মায়ের গায়ের ওপরেই পড়েছিলাম। পরে পুলিশ আমাকে খুঁজে পায়,” বিবিসি বাংলাকে বলেছিলেন বসুন্ধারি গ্রামের জোহরা খাতুন।

কথা বলার সময় ছলছল করছিল তার চোখ।

জোহরা খাতুনকে কোলে নিয়ে পালাতে গিয়ে যেদিন তার মা গুলি খেয়ে মারা গিয়েছিলেন, সেটা ছিল আজ থেকে ঠিক ৪০ বছর আগের ঘটনা।

তিনি তখন ছয় মাসের শিশু।
'আমাদের দোষ একটাই - আমরা মুসলমান'

আসামে বাংলাভাষী মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো হয়।
আসামের তৎকালীন নগাঁও জেলার (বর্তমানে মরিগাঁও) নেলি অঞ্চলে ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৩ সালে ঘটে গিয়েছিল এক 'পরিকল্পিত গণহত্যা' । একবেলার মধ্যে গুলি করে, কুপিয়ে খুন করা হয়েছিল তিন হাজারেরও বেশি বাংলাভাষী মুসলমানকে।

বেসরকারি মতে মৃতের সংখ্যা অবশ্য ১০ হাজারেরও বেশি। জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল শয়ে শয়ে ঘরবাড়ি।
সেই সময়ে নেলিই ছিল স্বাধীন ভারতের জঘন্যতম নর সংহারের ঘটনা।

প্রয়াত সাংবাদিক হেমেন্দ্র নারায়ণ সেই নারকীয় হত্যালীলা প্রত্যক্ষ করেছিলেন।

“একটা শিশুর কান্নার আওয়াজ পাচ্ছিলাম আমরা। আওয়াজটা খুব স্পষ্ট, কিন্তু বাচ্চাটিকে আমরা দেখতে পাই নি,” তার বইয়ে লিখেছিলেন মি. নারায়ণ।

হয়ত ভয়ার্ত ছোট্ট জোহরা খাতুন বা তার মতই কোন শিশুর কান্নার আওয়াজই সেই ভয়াল সকালে শুনতে পেয়েছিলেন তিনি।

ওই কান্নার আওয়াজ পাওয়ার আগেই আরেকটি বাচ্চা ছেলেকে জবাই হওয়ার হাত থেকে আশ্চর্যজনকভাবে বেঁচে যেতে দেখেছিলেন হেমেন্দ্র নারায়ণ।

‘বাচ্চা ছেলেটি হামাগুড়ি দিয়ে এগোচ্ছিল’
ঘটনার ২৫ বছর পরেও সেই বাচ্চা ছেলেটির কথা স্পষ্ট মনে ছিল তার। হেমেন্দ্র নারায়ণ একটা বই লেখেন, ‘টুয়েন্টি ফাইভ ইয়ার্স অন.. নেলি স্টিল হন্টস’ নামে।

ওই বইতে মি. নারায়ণ লিখেছেন, “যেন একটা খরগোশ যাচ্ছে, সেভাবেই বাচ্চা ছেলেটি এগোচ্ছিল। ছয় কি সাত বছর বয়স হবে তার। তাকে দেখে আমাদের পা এগোয়নি আর, বড়জোর ৩০ থেকে ৪০ মিটার দূরে ছিলাম আমরা। আমাদের মাঝে দেমাল বিল।

''সে কেন ওইভাবে হামাগুড়ি দিয়ে এগোচ্ছিল, সেটা কয়েক মুহূর্ত পরে বুঝেছিলাম। বিপদ এগিয়ে আসছিল তার দিকে। ধুতি পরা একজন দা হাতে তার দিকে এগিয়ে আসছিল।”

যে লোকটি ওই শিশুটির দিকে এগোচ্ছিল সে ওই হত্যাকারী দলেরই সদস্য ছিল, লিখেছেন হেমেন্দ্র নারায়ণ।

"তাদের শিকারদের তাড়া করে পশ্চিম দিকে নিয়ে যেতে গিয়ে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছিল সে। অন্যদিকে বাচ্চা ছেলেটি তার পরিজনদের থেকে আলাদা হয়ে পড়েছিল।

“দুজনের মধ্যে দূরত্ব ক্রমশ কমে আসছিল। ছেলেটি প্রায় মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু ফসল কাটা হয়েছে সদ্য, তাই লুকনোর সুযোগ বিশেষ ছিল না,” হেমেন্দ্র নারায়ণ লিখেছিলেন।

লোকটির হাতের নাগালে যখন চলে এল বাচ্চা ছেলেটি, তখন মি. নারায়ণরা দেখলেন সে তার দা-টা ডান হাত থেকে বাঁহাতে নিল আর তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময়ে ছেলেটিকে একটা চড় মারল। একটা চাপা আর্তনাদ, তারপরেই বাচ্চা ছেলেটি মাটিতে পড়ে যায়।

হেমেন্দ্র নারায়ণ বুঝতে পারেননি কেন ওই একাকী বাচ্চা ছেলেটিকে দা হাতে থাকা লোকটি না কুপিয়ে ছেড়ে দিয়েছিল।

ঘটনার কথা মনে আছে মি. হকের।
বলেছিলেন
“সকাল সাতটা নাগাদ বাড়ি-ঘর জ্বালানো শুরু হয়েছিল। গ্রামের দুই প্রান্ত থেকেই ঘর জ্বালাতে জ্বালাতে এগোচ্ছিল ওরা। সব মানুষ আমার বাড়ির ঠিক পিছনের ক্ষেতে জমা হয়েছিল। হঠাৎ দেখলাম অনেকগুলো গাড়ি থেকে অস্ত্র হাতে লোকজন নামছে, মুখে গামছা বাঁধা। তারপরেই শুরু হয়েছিল গুলি আর তীর ছোঁড়া।"

আব্দুল হক নিজেও স্ত্রী, পুত্র আর কন্যাকে হারিয়েছেন ওই গণহত্যায়।

পাশের গ্রাম বুকডোবা হাবির বাসিন্দা মুসলিমুদ্দিদেরও পাঁচ বছরের মেয়ে, স্ত্রী সহ প্রায় পুরো পরিবারই সেদিন নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল।

পাশাপাশি দুটো গ্রামেই মারা গিয়েছিলেন দু হাজার ছশোরও বেশি মানুষ।

আবার বেশ কয়েক কিলোমিটার দূরে, পাহাড়ের কোলে চা বাগান ঘেঁষা গ্রাম বরবরিতেও একই সময়ে চলেছিল হামলা। মেরে ফেলা হয়েছিল সাড়ে পাঁচশো নারী-পুরুষ-শিশুকে।

প্রাণে বাঁচার জন্য দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে সবাই দৌড়িয়েছিলেন সেদিন।

'সেই সবুজ শাড়ি পরা নারী’

এরকমই এক মাকে দেখতে পেয়েছিলেন হেমেন্দ্র নারায়ণ আর তার দুই সাংবাদিক বন্ধু।

“আমরা যখন তাকে দেখি, তিনি একটা শিশু সন্তানকে কোলে নিয়ে আরেকটি সন্তানের হাত ধরে টানতে টানতে দৌড়াচ্ছিলেন। পিছনে দৌড়াচ্ছিল তার আরেক সন্তান। সবুজ শাড়ি পরা ওই নারীর গলা দিয়ে একটানা অদ্ভুত একটা আওয়াজ বেরচ্ছিল। এবিসি-র ক্যামেরাম্যান মি. শর্মা যখন ছবি তোলার জন্য ওই নারীর দিকে তার টিভি ক্যামেরাটা ঘোরালেন, তখন ওই নারীর আর্তনাদ আরও বেড়ে গেল,” লিখেছেন হেমেন্দ্র নারায়ণ।

ওই নারী আর তার সন্তানরা বেঁচে গিয়েছিলেন, কিন্তু দেমাল বিলে ভাসতে থাকা আরেক নারীর সেই সৌভাগ্য হয় নি। তাকে হত্যাকারীরা বল্লম দিয়ে চিরে দিয়েছিল।

বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে ওই হত্যা লীলা দেখার পর হেমেন্দ্র নারায়ণরা যখন ফেরার পথ ধরছেন, তখন তারা দেখা পেয়েছিলেন একদল কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ সদস্যের, কিন্তু তারা বেশ ধীরে সুস্থে হাঁটছিলেন, হত্যাকারীদের ধরার জন্য কোনও তাগিদ তাদের ছিল না বলেই মনে হয়েছিল সাংবাদিকদের ওই দলটির।

ঘটনার তিনদিন পরে গ্রামে ফিরতে পেরেছিলেন বসুন্ধারির বাসিন্দা আব্দুল সোবহান। তিনি আমাকে নিয়ে গিয়েছিলেন গ্রামের কবরস্থানে।

“দিন তিনেক পরে যখন গ্রামে আসতে পারলাম, দেখি যাকে যেভাবে পেরেছে কবর দিয়েছে। কারও হাত বেরিয়ে আছে, কারও পা। রাত্রিবেলা নিরাপত্তা বাহিনীই কবর দিয়েছে। পরে আমরা সেগুলোর ব্যবস্থা করে মৃতদের শান্তিতে থাকার ব্যবস্থা করি,''

“দলাপাকানো কিছু মৃতদেহের ওপরে আমি প্রায় পড়েই যাচ্ছিলাম। কিন্তু যতই চেষ্টা করি লাফিয়ে ডিঙ্গিয়ে যেতে, পচা বাধাকপির মতো ছড়িয়ে থাকা দেহ বা দেহাংশগুলিতে পা পড়ে যাচ্ছিলই,” লিখেছিলেন মি. গুপ্তা।

তার মিনোলটা ক্যামেরা দিয়ে ছবিও তুলছিলেন মি. গুপ্তা। সঙ্গে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর ১০ নম্বর ব্যাটালিয়নের সাব ইন্সপেক্টর তাড়া দিচ্ছিলেন মি. গুপ্তাকে, “আপনি এক জায়গায় এত সময় নষ্ট করলে চলবে? ওদিকে আরও শয়ে শয়ে মৃতদেহ পড়ে আছে যে!"

শেখর গুপ্তা এক ঘণ্টা সময়ের মধ্যে ২৫৬টি মৃতদেহ গুনতে পেরেছিলেন।

“আরেকটি গ্রাম মুলাদারি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। গ্রামের এবড়োখেবড়ো কাঁচা রাস্তাটা জুড়েই যেন আতঙ্ক ছড়িয়ে আছে। একজন নারীর নিম্নাংশটা একটা চটের বস্তা দিয়ে ঢাকা দেওয়া ছিল। চীৎকার করছিলেন ওই নারী। তার বুক থেকে রক্ত বেরচ্ছিল। গ্রামের যে কজন বেঁচে ছিলেন, আব্দুল হান্নান তাদের অন্যতম। তিনি বলেছিলেন, ওই নারী ছমাসের গর্ভবতী ছিলেন। তার যোনিতে বল্লমের হাতল ঢুকিয়ে দেওয়া হয়, তার গর্ভপাত হয়ে গেছে। হত্যাকারীরা যাওয়ার আগে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে তাকে ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছে,” লিখেছেন শেখর গুপ্তা।

আঙুল তুলে তিনি মি. গুপ্তাকে পাশের দিকে দেখিয়ে বলেছিলেন, “ওই নারীর প্রথম সন্তান, দুবছর বয়স। তাকে দুভাগে চিরে দিয়েছে।“

আব্দুল হান্নানকে উদ্ধৃত করে শেখর গুপ্তা লিখেছিলেন, “ওর দুটো হাত দুদিক থেকে দুজন করে ধরে মাঝামাঝি চিরে দিয়েছে।“

যেসময়ে নেলির গণহত্যা ঘটে, সেটা ছিল আসামে নির্বাচনের সময়। ঘটনার কয়েকবছর আগে থেকেই আসাম আন্দোলনের ফলে উত্তাল হয়ে উঠেছিল রাজ্য। তার মধ্যেই নির্বাচন ঘোষণা করা হয়। আসু সহ অসমীয়া জাতীয়তাবাদী সংগঠনগুলো বয়কট করেছিল নির্বাচন।

সেই সময়ে আসামে যারা সাংবাদিকতা করতেন, তাদের কাছে শোনা যায় নিয়মিতই ‘জনতা কার্ফু’, ‘জনতা হরতাল’ ইত্যাদি ডাকত আসু। দেওয়ালে যেসব স্লোগান লেখা হত, তার মধ্যে এরকম স্লোগানও থাকত যে যারা ভোট দেবে, তারা বিশ্বাসঘাতক। তাদের রক্তে রাস্তা রাঙিয়ে দেওয়া হবে।

‘বিদেশী’ ইস্যুতে আসু পাশে পেয়ে গিয়েছিল আসামের আদিবাসীদের একাংশকে।

নেলিতে ভোট নেওয়া হয়েছিল ১৯৮৩-র ১৪ ফেব্রুয়ারি। ওই অঞ্চলটির মুসলমানরা ঠিক করেছিলেন যে তারা ভোট বয়কটের ডাকে সাড়া দেবেন না।

তাই ভোটের আগে থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছিল হুমকি।

কোথায় ছিল পুলিশ বা কেন্দ্রীয় বাহিনী?

গণহত্যার ঠিক আগের পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা করেছেন জাপানী গবেষক মাকিকো কিমুরা। ‘দ্যা নেলি ম্যাসাকার অফ ১৯৮৩ – এজেন্সি অফ রায়োটার্স’-এ।

ওই বই থেকেই জানা যায় যে ভোটের পরের দিন, ১৫ ফেব্রুয়ারি নগাঁও থানার ওসি একটা বেতার বার্তা পাঠিয়েছিলেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে। সেখানে বলা হয়েছিল যে আগের রাতে খবর পাওয়া গেছে যে নেলি আর তার আশপাশের গ্রামগুলির প্রায় হাজার খানেক অসমীয়া মানুষ মারণ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জড়ো হয়েছে। মুসলমানরা ভয় পাচ্ছেন, যে কোনও সময়ে আক্রমণ হতে পারে। শান্তি বজায় রাখার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

নেলির গ্রামবাসীরা আমাকে ২০১৪ সালে জানিয়েছিলেন যে ঘটনার দুদিন আগে গ্রামে পুলিশ গিয়েছিল। দুই পক্ষের মধ্যে বৈঠক করে শান্তি কমিটিও তৈরি করে দিয়ে গিয়েছিল তারা।

আর ১৭ই ফেব্রুয়ারি রটে যায় যে স্থানীয় লালুং আদিবাসী সম্প্রদায়ের কয়েকটি শিশুকে অপহরণ করা হয়েছে। পরের দিন সকাল থেকে শুরু হয় হত্যা লীলা।

পুলিশ বা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে তখন ধারেকাছে দেখা যায়নি।

বসুন্ধারি গ্রামের বাসিন্দা মুহম্মদ আব্দুল হক বলেছিলেন, “কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী গণ্ডগোল আঁচ করতে পেরেছিল, গুলির শব্দও হয়তো শুনেছিল। কিন্তু স্থানীয় পুলিশ বাহিনীকে গ্রামে না নিয়ে এসে অন্যান্য দিকে টহল দেওয়াচ্ছিল। পরে কয়েকজন নারী কেন্দ্রীয় বাহিনীর গাড়িগুলির পথ আটকালে তারা বুঝতে পারে যে কী ঘটছে ভেতরের গ্রামগুলোতে। দুষ্কৃতিরা তখনই পালাতে শুরু করে।“

গণহত্যা আটকানো সম্ভব ছিল?

গণহত্যার পরে সরকার একটা তদন্ত কমিশন গড়েছিল প্রশাসনিক অফিসার টিপি তিওয়ারির নেতৃত্বে। তিওয়ারি কমিশন।

পরের বছর কমিশন সরকারের কাছে তাদের তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়। পরের বছর ৫৪৭ পাতার রিপোর্ট জমা পড়ে সরকারের কাছে। কিন্তু সেই সময়কার কংগ্রেস দলীয় সরকার সিদ্ধান্ত নেয় যে ওই তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে না। তারপরে অসম গণপরিষদও একই সিদ্ধান্ত বজায় রাখে। এমনকি বিধানসভাতেও ওই রিপোর্ট পেশ করা হয় নি।

তিওয়ারি কমিশন তিনজন পুলিশ কর্মকর্তার ওপরে সব দোষ চাপিয়ে দিয়েছিল। ওই যে ওয়্যারলেস বার্তাটি ১৫ই ফেব্রুয়ারি পাঠিয়েছিলেন নগাঁও থানার ওসি, সে কারণেই নাকি মূল গণ্ডগোলটা হয়েছিল, বাকি সরকারির কাঠামো ঠিকঠাকই কাজ করেছে, এমনটাই মন্তব্য করে তিওয়ারি কমিশন।

তাদের রিপোর্টে লেখা হয় বার্তাটি তিনি যাদের পাঠিয়েছিলেন, তারা সেগুলি পড়েই দেখেননি।

এদের দুজনকে পরে সাসপেন্ড করা হয় কিছুদিনের জন্য, একজনেরও কোনও শাস্তিই হয়নি।

শাস্তি হয়নি হত্যাকারীদের কারও। যদিও ৬৮৮টি এফআইআর করা হয়েছিল, ২৯৯ টির ক্ষেত্রে চার্জশিটও জমা পড়েছিল। কিন্তু সাজা হয়নি কারও।

স্বজনহারা পরিবারগুলোকে প্রত্যেক মৃতদেহের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছিল পাঁচ হাজার টাকা করে, আর কিছু ঢেউ টিন।

আসামের মানবাধিকার কর্মী আমন ওয়াদুদ বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, “কয়েক হাজার পরিবার চার দশক ধরে অপেক্ষা করে আছে ন্যায়বিচারের আশায়। হয়তো এখনও সময় আছে, বিচার প্রক্রিয়াটা শুরু তো হোক অন্তত।

বিবিসি নিউজ বাংলা
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

https://share.google/h7uPc3U5E1hFUezxO

24/02/2026
 #জানাআজানা*সুপ্রভাত"১. স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী: তাঁর বিখ্যাত ‘সত্যার্থ প্রকাশ’ গ্রন্থে এই বিষয়ে আলোকপাত করেছেন।২. বালগঙ...
24/02/2026

#জানাআজানা

*সুপ্রভাত"১. স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী: তাঁর বিখ্যাত ‘সত্যার্থ প্রকাশ’ গ্রন্থে এই বিষয়ে আলোকপাত করেছেন।
২. বালগঙ্গাধর তিলক: প্রখ্যাত স্বাধীনতা সংগ্রামী ও ব্রাহ্মণ তিলক তাঁর ‘The Arctic Home in the Vedas’ গ্রন্থে লিখেছেন যে, আর্যদের আদি বাসস্থান ছিল সুমেরু অঞ্চল (Arctic), অর্থাৎ তারা বহিরাগত।
৩. জওহরলাল নেহেরু: তাঁর বিখ্যাত বই ‘Discovery of India’-তে উল্লেখ করেছেন, “আমরা মধ্য এশিয়ার মানুষ, এই জিনিসটি কখনও অস্বীকার করা যাবে না”। ইন্দিরা গান্ধীকে লেখা তাঁর প্রায় ৩০টি চিঠিতেও এই ধরনের উল্লেখ পাওয়া যায়।
৪. রাহুল সাংকৃত্যায়ন: বিখ্যাত পণ্ডিত (যিনি নিজে কেদারনাথের পান্ডে ব্রাহ্মণ ছিলেন) তাঁর ‘ভলগা থেকে গঙ্গা’ (Volga to Ganga) বইতে লিখেছেন যে “আমরা বাইরের লোক”। তিনি ভলগা নদী থেকে গঙ্গা উপকূলে (ভারত) আসার একটি নির্দেশিকাও দিয়েছিলেন।
৫. বিনায়ক দামোদর সাভারকর: তাঁর ‘সহা শোনরি পানে’ (Saha Soneri Pane) নামক মারাঠি বইতে লিখেছিলেন, “আমরা ভারতের বাইরের মানুষ”।
৬. মহম্মদ ইকবাল: "সারে জাহান সে আচ্ছা" গানের রচয়িতা ইকবাল (যিনি কাশ্মীরি পণ্ডিত বংশোদ্ভূত ছিলেন) স্বীকার করেছেন যে “আমরা বাইরে থেকে এসেছি”।
৭. রাজা রামমোহন রায়: ইংল্যান্ডে গিয়ে এক বক্তৃতায় বলেছিলেন, “আজ আমি আমার পৈতৃক দেশে ফিরে এসেছি”।
৮. মহাত্মা গান্ধী: ১৮৯৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার আইনসভায় লেখা একটি চিঠিতে উল্লেখ করেছিলেন, “আমি ইন্ডিয়ান হওয়ার সাথে সাথে ইউরেশিয়ানও, তাই আমাদের জাত একই... শাসকের কাছ থেকে ভাল ব্যবহারের প্রত্যাশা রাখছি”।
৯. মনুস্মৃতি: এই প্রাচীন গ্রন্থের শ্লোক নং ২৬-এ এই সম্পর্কিত ইঙ্গিত পাওয়া যায় বলে দাবি করা হয়।
১০. লালা লাজপত রায়: তাঁর রচিত ‘भारत वर्ष का इतिहास’ বইয়ের ২১-২২ পৃষ্ঠায় এই বিষয়ে আলোচনা রয়েছে।
১১. পণ্ডিত শ্যামবিহারী মিশ্র ও শুকদেব বিহারী মিশ্র: তাঁদের রচিত ‘भारत वर्ष का इतिहास’, পর্ব ১-এর ৪২ ও ৪৩ পৃষ্ঠায় অনুরূপ তথ্য পাওয়া যায়।
১২. প. জনার্দন ভট্ট (M.A.): মাধুরী মাসিকে প্রকাশিত ‘ভারতীয় প্রত্নতত্ত্বের নতুন আবিষ্কার ১৯২৫’ প্রবন্ধে (পৃষ্ঠা ২৪ ও ২৯) এই বিষয়ে লিখেছেন।
১৩. আচার্য মহাবীর প্রসাদ দ্বিবেদী: তাঁর ‘হিন্দি ভাষার উৎস’ গ্রন্থে এই প্রসঙ্গ এসেছে।
১৪. লক্ষ্মীনারায়ণ গারদে: তাঁর ‘হিন্দুত্ব’ বইয়ের ৪, ৯ এবং ২৯ নম্বর পৃষ্ঠায় এই বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে।
১৫. প. জগন্নাথ পাঞ্চোলি: ‘আর্যদের আদিম নিবাস’ গ্রন্থে এবং ১৬ ও ২৯ তম ভারতীয় হিন্দু সম্মেলনে রামানন্দ চ্যাটার্জীর বক্তৃতায় এই বিষয়টি উঠে এসেছে।
১৬. কাকা কালেলকর রিপোর্ট: এই রিপোর্টেও এই সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়।
১৭. পি. ভি. কানে: তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘धर्मशास्त्र का इतिहास’ (History of Dharmaśāstra)-এ এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
১৮. রাধাকুমুদ মুখার্জী: তাঁর ‘হিন্দু সভ্যতা’ (Hindu Civilization) বইয়ের ৬১, ৭ এবং ৫৯ পৃষ্ঠায় এই প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন।
১৯. এন.জি. চফেকার: তাঁর ‘চিতপাবন’ বইয়ের ২৯৫ পৃষ্ঠায় নির্দিষ্ট ব্রাহ্মণ গোষ্ঠীর উৎস নিয়ে লিখেছেন।
২০. প্রতাপ জোশী: ‘কোঙ্কনস্থ চিতপাভানের গ্রীক উত্স’ গ্রন্থে কোঙ্কনস্থ ব্রাহ্মণদের গ্রীক যোগসূত্রের দাবি করেছেন।
২১. টাইমস অফ ইন্ডিয়া (২০০১): ২০০১ সালে প্রকাশিত একটি DNA রিপোর্টের ভিত্তিতে এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয়।

*সংগৃহীত।

 #জানাঅজানা২০০০ সালে মোহাম্মদ কাইফের নেতৃত্বে ✅২০০৮ সালে বিরাট কোহলির নেতৃত্বে ✅২০১২ সালে উন্মুক্ত চাঁদের নেতৃত্বে ✅২০১৮...
07/02/2026

#জানাঅজানা

২০০০ সালে মোহাম্মদ কাইফের নেতৃত্বে ✅
২০০৮ সালে বিরাট কোহলির নেতৃত্বে ✅
২০১২ সালে উন্মুক্ত চাঁদের নেতৃত্বে ✅
২০১৮ সালে পৃথ্বী শয়ের নেতৃত্বে ✅
২০২২ সালে যশ ধুলের নেতৃত্বে ✅
২০২৬ সালে আয়ুষ মাহাত্রের নেতৃত্বে ✅

ভারতীয় দলের ৬ টি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ট্রফি জয় ❤

 #জানাঅজানামাত্র ৫ সেকেন্ডের একটা ভুল মোড়, আর তাতেই শুরু হয়ে গেল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ!ড্রাইভার যদি ওই গলি দিয়ে না যেত, তবে হ...
27/01/2026

#জানাঅজানা
মাত্র ৫ সেকেন্ডের একটা ভুল মোড়, আর তাতেই শুরু হয়ে গেল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ!

ড্রাইভার যদি ওই গলি দিয়ে না যেত, তবে হয়তো আজ পৃথিবীর মানচিত্রটাই অন্যরকম হতো। বিশ্বাস হচ্ছে না?

আপনি হয়তো ভাবেন, ছোট ছোট ঘটনার কোনো ভ্যালু নেই। কিন্তু আজ আপনাকে এমন একটা থিওরির গল্প বলব, যেটা শোনার পর আপনি মশা মারার আগেও দশবার ভাববেন। বিজ্ঞানের ভাষায় এর নাম- "দ্য বাটারফ্লাই ইফেক্ট"।

গল্পটা শুরু করি একজন আবহাওয়া বিজ্ঞানীকে দিয়ে।

নাম এডওয়ার্ড লরেঞ্জ।

১৯৬০ সাল।

তিনি কম্পিউটারে আবহাওয়ার পূর্বাভাস বের করার চেষ্টা করছিলেন। একটা বিশাল অঙ্ক করার সময় তিনি ভাবলেন, "এত বড় দশমিক সংখ্যা লেখার কী দরকার? সময় বাঁচাই।"

তাই তিনি .৫০৬১২৭ এর বদলে শুধু .৫০৬ লিখলেন। মাত্র ০.০০০১২৭ এর পার্থক্য। তিনি ভাবলেন, এতটুকু চেঞ্জ তো ধর্তব্যেই আসবে না।

তিনি কফি খেতে গেলেন।

ফিরে এসে দেখলেন এক ভুতুড়ে কাণ্ড!

কম্পিউটার সম্পূর্ণ উল্টো রেজাল্ট দিচ্ছে। ওই দশমিকের সামান্য পরিবর্তনের কারণে পুরো আবহাওয়া রিপোর্টটাই বদলে গেছে। রোদ হওয়ার কথা যেখানে, সেখানে দেখাচ্ছে প্রলয়ঙ্করী ঝড়! লরেঞ্জ শিউরে উঠলেন।

তিনি বললেন, "ব্রাজিলে যদি একটা প্রজাপতি ডানা ঝাপটায়, বাতাসের সেই সামান্য কম্পন কয়েক সপ্তাহ পর টেক্সাসে টর্নেডো তৈরি করতে পারে।"
জন্ম নিল 'কেওয়াস থিওরি' (Chaos Theory)।

কিন্তু দাঁড়ান, এটা তো ল্যাবের গল্প। রিয়েল লাইফের টুইস্টগুলো শুনলে আপনার মাথা ঘুরে যাবে।

১৯১৪ সাল। অস্ট্রিয়ার আর্চডিউক ফার্দিনান্দ গাড়িতে করে যাচ্ছিলেন। তার ড্রাইভার ভুল করে একটা ভুল রাস্তায় মোড় নিল। ড্রাইভার যখন বুঝতে পারল, সে গাড়িটা ব্যাক করার চেষ্টা করল।

ঠিক ওই মুহূর্তেই, ফুটপাতে দাঁড়িয়ে ছিল এক আততায়ী, যে এর আগে তাকে মারতে গিয়ে ফেইল করেছিল। কিন্তু ভাগ্য বা দুর্ভাগ্য—গাড়িটা ঠিক তার সামনে এসে থামল। সে গুলি করল। ফার্দিনান্দ মারা গেলেন।
আর রেজাল্ট?

শুরু হয়ে গেল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। মারা গেল কোটি কোটি মানুষ। পতন হলো বড় বড় সাম্রাজ্যের।

চিন্তা করুন তো, ড্রাইভার যদি ওই ভুল মোড়টা না নিত? হয়তো আজকের পৃথিবীটা সম্পূর্ণ অন্যরকম হতো!

এখন আসেন সিনেমার মতো একটা গল্পে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ সময়। আমেরিকা জাপানে পরমাণু বোমা ফেলবে। টার্গেট ফিক্স করা হলো 'কোকুরা' শহর।

বোমারু বিমান আকাশে উড়ল। পাইলট রেডি। কিন্তু কোকুরা শহরের আকাশে সেদিন ছিল প্রচুর মেঘ। পাইলট কিছুই দেখতে পাচ্ছিলেন না।

তিনি তিনবার চক্কর দিলেন, কিন্তু মেঘের জন্য টার্গেট লক করতে পারলেন না। ফুয়েল শেষ হয়ে আসছিল।

বাধ্য হয়ে পাইলট প্লেন ঘোরালেন সেকেন্ডারি টার্গেটের দিকে।

সেই শহরটার নাম ছিল—নাগাসাকি।

মাত্র একটুখানি মেঘের জন্য একটা পুরো শহর (কোকুরা) বেঁচে গেল, আর আরেকটা শহর (নাগাসাকি) মাটির সাথে মিশে গেল।

কোকুরার মানুষ জানলও না যে, শুধু প্রকৃতির একটা খেয়ালে তারা মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছে। একেই বলে বাটারফ্লাই ইফেক্ট।

আরেকটা টুইস্ট শুনবেন?

বিংশ শতাব্দীর শুরুতে এক তরুণ ভিয়েনার আর্ট স্কুলে ভর্তি হতে গিয়েছিল। তার স্বপ্ন ছিল পেইন্টার হওয়া। কিন্তু স্কুলের প্রফেসররা তার ছবি দেখে বললেন, "তোমার মধ্যে কোনো ট্যালেন্ট নেই। তুমি বরং অন্য কিছু করো।" দুইবার তাকে রিজেক্ট করা হলো।

মন ভেঙে সেই তরুণ রাজনীতিতে যোগ দিল। তার নাম—অ্যাডলফ হিটলার।

যদি ওই আর্ট স্কুল তাকে একসেপ্ট করত? হয়তো আমরা একজন সাধারণ পেইন্টার হিটলারকে পেতাম, কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ আর হলোকাস্টের মতো বিভীষিকা হয়তো ঘটত না। একজন প্রফেসরের একটা ছোট সিদ্ধান্ত কোটি মানুষের জীবন কেড়ে নিল।

সায়েন্স ফিকশন রাইটার রে ব্র্যাডবেরি একটা গল্প লিখেছিলেন—"A Sound of Thunder"।

সেখানে এক লোক টাইম ট্রাভেল করে ডাইনোসরের যুগে যায়। তাকে বলা হয়েছিল কিচ্ছু না ছুঁতে। কিন্তু ভুল করে সে একটা প্রজাপতি মাড়িয়ে ফেলে। যখন সে বর্তমান সময়ে ফিরে আসে, দেখে পুরো পৃথিবী বদলে গেছে। ভাষা আলাদা, স্বৈরাচারী সরকার দেশ চালাচ্ছে। ওই একটা মৃত প্রজাপতি পুরো বিবর্তনের ইতিহাস বদলে দিয়েছিল।

অ্যাস্টন কুচারের 'দ্য বাটারফ্লাই ইফেক্ট' সিনেমাটাও তো দেখেছেন হয়তো। যতবার সে অতীতে গিয়ে ছোট একটা ভুল ঠিক করতে যায়, বর্তমানে ফিরে দেখে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে গেছে।

সো ব্রাদার, এই গল্পগুলো থেকে আপনার জন্য লেসন কী?

আপনি ভাবছেন, "আজকে রাতে না পড়ে ফেসবুকে সময় নষ্ট করলে কী আর হবে?" বা "আজকে ফাস্ট ফুড খেলে কী এমন ক্ষতি?"

মনে রাখবেন, আপনার আজকের এই ছোট ছোট সিদ্ধান্তগুলোই ১০ বছর পর আপনার লাইফের 'টর্নেডো' বা 'সুনামি' হয়ে ফিরে আসবে।

আপনি আজ কার সাথে মিশছেন, কোন স্কিলটা শিখছেন, বা কোন সময়টা নষ্ট করছেন—এগুলোই ঠিক করে দেবে আপনি ভবিষ্যতে সফল হবেন, নাকি আফসোস করবেন।

জীবন কোনো রিওয়াইন্ড বাটনওয়ালা মুভি না। এখানে প্রতিটা সেকেন্ড কাউন্ট হয়।

ওই ড্রাইভারের ভুল মোড় বা কোকুরার আকাশের মেঘের মতো, আপনার জীবনের মোড়ও যেকোনো সময় ঘুরে যেতে পারে।

চয়েস কিন্তু আপনার হাতেই!
Collected

24/01/2026
 #জানাঅজানাইউরোপকে পাগল করে দিয়েছিল আলু!আজ আমরা আলুকে দেখি গরিবের খাবার, সহজলভ্য সবজি, ভাতের পাশে নির্ভরযোগ্য সঙ্গী। কি...
19/01/2026

#জানাঅজানা

ইউরোপকে পাগল করে দিয়েছিল আলু!

আজ আমরা আলুকে দেখি গরিবের খাবার, সহজলভ্য সবজি, ভাতের পাশে নির্ভরযোগ্য সঙ্গী। কিন্তু ইতিহাসে এমন একটা সময় গেছে, যখন এই সাধারণ আলুই ইউরোপের রাজনীতি, জনসংখ্যা, আমদানি রপ্তানি আর ক্ষমতার ভারসাম্য পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছিল।

এই গল্পটা শুধু খাবারের না। এটা নির্ভরতার, ভুল সিদ্ধান্তের আর এক পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ভরসার ভয়ংকর পরিণতির গল্প।
আলুর জন্ম দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বতে, আজকের পেরু আর বলিভিয়ার পাহাড়ি এলাকায়। স্থানীয় মানুষ অন্তত ৭ হাজার বছর আগে থেকেই আলু চাষ করত।

স্প্যানিশরা ষোড়শ শতকে যখন আমেরিকা দখল করে, তখন তারা প্রথম আলুকে ইউরোপে নিয়ে আসে। আনুমানিক ১৫৭০ সালের দিকে আলু স্পেনে পৌঁছায়। শুরুতে ইউরোপীয়রা এটাকে সন্দেহের চোখে দেখেছিল। মাটির নিচে জন্মায়, বাইবেলে নাম নেই, দেখতে বিকৃত। অনেকেই ভাবত এটা রোগের কারণ।

কিন্তু বাস্তবতা ছিল আলাদা। ইউরোপে তখন গম, যব আর রাইয়ের ওপর মানুষের জীবন নির্ভর করত। সমস্যা হলো, এসব শস্য আবহাওয়ার ওপর খুব সংবেদনশীল। একটু ঠান্ডা, একটু বৃষ্টি বেশি হলেই ফসল নষ্ট। আলু সেখানে একেবারে বিপ্লব ঘটায়।

এক একর জমিতে গম যেখানে প্রায় ১ টন ক্যালোরি দিত, আলু সেখানে ২ থেকে ৩ গুণ বেশি ক্যালোরি দিতে পারত। উপরন্তু আলুতে ছিল ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, কার্বোহাইড্রেট। একজন মানুষ শুধু আলু আর সামান্য দুধ খেয়েও বেঁচে থাকতে পারত।

এই কারণেই আলু ধীরে ধীরে ইউরোপের দরিদ্র মানুষের প্রধান খাবার হয়ে ওঠে। বিশেষ করে আয়ারল্যান্ডে। আয়ারল্যান্ডের জমি ছোট, কৃষক দরিদ্র, ব্রিটিশ শাসনের কারণে নিজের জমির ওপরও নিয়ন্ত্রণ সীমিত।

আলু ছিল একমাত্র ফসল যা অল্প জমিতে একটা পরিবারকে পুরো বছর খাওয়াতে পারত। ১৮০০ সালের দিকে আয়ারল্যান্ডের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ প্রায় সম্পূর্ণভাবে আলুর ওপর নির্ভরশীল ছিল। একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ দৈনিক গড়ে ৪ থেকে ৫ কেজি আলু খেত। সংখ্যাটা আজ শুনলে অবাক লাগবে, কিন্তু সেটাই ছিল বাস্তবতা।

১৮৪৫ সালের আগে আয়ারল্যান্ডের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৮.৫ মিলিয়ন। এই জনসংখ্যা বৃদ্ধির বড় কারণই ছিল আলু। আলু না থাকলে এত মানুষ ওই ছোট দ্বীপে বেঁচে থাকাই সম্ভব হতো না। এখানেই গল্পের মোড় ঘুরে যায়।

১৮৪৫ সালে ইউরোপে দেখা দেয় আলুর এক ভয়ংকর রোগ, পটেটো ব্লাইট। বৈজ্ঞানিক নাম ফাইটোফথোরা ইনফেস্টান্স। এই রোগে আলুর গাছ বাইরে থেকে সবুজ দেখালেও ভেতরে ভেতরে পচে যেত। আয়ারল্যান্ডে চাষ করা আলুর প্রায় সবটাই ছিল একই জাতের। মানে জেনেটিক বৈচিত্র্য প্রায় শূন্য। ফলে রোগ একবার ঢুকতেই পুরো দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রথম বছরে প্রায় ৩০ শতাংশ আলু নষ্ট হয়। পরের বছরগুলোতে ক্ষতি আরও ভয়াবহ হয়। ১৮৪৬, ১৮৪৭, ১৮৪৮ এই কয়েক বছরে প্রায় পুরো ফসল ধ্বংস হয়ে যায়। ফলাফল ছিল ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ।

পরিসংখ্যান এখানে গল্পের চেয়েও নির্মম। ১৮৪৫ থেকে ১৮৫২ সালের মধ্যে আয়ারল্যান্ডে আনুমানিক ১০ লাখ মানুষ অনাহার ও রোগে মারা যায়। আরও প্রায় ১০ থেকে ২০ লাখ মানুষ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়, প্রধানত আমেরিকা, কানাডা আর অস্ট্রেলিয়ায়। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে আয়ারল্যান্ডের জনসংখ্যা প্রায় ২৫ শতাংশ কমে যায়। এমন জনসংখ্যা পতন ইউরোপের ইতিহাসে বিরল।

সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, দুর্ভিক্ষ চলাকালীন সময়েও আয়ারল্যান্ড থেকে খাবার রপ্তানি হচ্ছিল। গম, মাংস, দুধ, মাখন নিয়মিত ইংল্যান্ডে পাঠানো হচ্ছিল। কারণ জমির মালিক ছিল ইংরেজ, আর চুক্তি অনুযায়ী রপ্তানি বন্ধ করা হয়নি। অর্থাৎ একদিকে মানুষ না খেয়ে মরছে, অন্যদিকে দেশ থেকে খাবার বের হয়ে যাচ্ছে। এটা শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছিল না, এটা ছিল রাজনৈতিক আর বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তের ফল।

এই দুর্ভিক্ষ শুধু আয়ারল্যান্ডকে বদলায়নি। আমেরিকার জনসংখ্যা গঠনে বিশাল প্রভাব ফেলেছে। আজ যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩৩ মিলিয়নের বেশি মানুষ নিজেদের আইরিশ বংশোদ্ভূত বলে পরিচয় দেয়। নিউইয়র্ক, বোস্টন, শিকাগোর মতো শহরের শ্রম বাজার আয়ারল্যান্ড থেকে আসা অভিবাসীদের দিয়েই গড়ে ওঠে। এই অভিবাসন ঢেউ না হলে আধুনিক আমেরিকার চেহারাই আলাদা হতো।

আলু ইউরোপকে শিক্ষা দিয়েছে এক কঠিন সত্য। একটি মাত্র পণ্যের ওপর পুরো সমাজকে দাঁড় করালে সেটা যত উপকারীই হোক, ঝুঁকি ভয়াবহ। পরে ইউরোপীয় দেশগুলো কৃষিতে বৈচিত্র্য আনার দিকে যায়। একাধিক জাত, একাধিক ফসল, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এসব বিষয় গুরুত্ব পায়।

আমদানি রপ্তানির দিক থেকেও আলুর প্রভাব বিশাল। দুর্ভিক্ষের পর ইউরোপে খাদ্য আমদানির ওপর দৃষ্টি বাড়ে। কেবল স্থানীয় উৎপাদনের ওপর নির্ভর না করে, অন্য দেশ থেকে শস্য আনার পরিকল্পনা শুরু হয়। আধুনিক খাদ্য নিরাপত্তা ধারণার বীজ এখানেই।

আজ আপনি যখন কোনো দেশে আলু আমদানি বা রপ্তানির হিসাব দেখেন, সেটা শুধু দাম বা টনের গল্প না। এর পেছনে আছে লাখ লাখ মানুষের জীবন, ভুল সিদ্ধান্তের শিক্ষা আর একটি সাধারণ ফসলের অসাধারণ ক্ষমতা।

*সংগৃহীত ।

 #জানাঅজানাআপনারা যে ছবিটি দেখছেন তা যদি সত্যি হয়,তাহলে ইতিহাস আমাদের যা শেখায় তা সম্পূর্ণ ভুললোকেশন: নর্দান মিনেসোটা, য...
16/01/2026

#জানাঅজানা
আপনারা যে ছবিটি দেখছেন তা যদি সত্যি হয়,তাহলে ইতিহাস আমাদের যা শেখায় তা সম্পূর্ণ ভুল
লোকেশন: নর্দান মিনেসোটা, যুক্তরাষ্ট্র | সাল ১৮৯৮–১৯০৫ এর মধ্যবর্তী সময়।

এই ছবিটি প্রথম পাওয়া যায় ১৯২৩ সালে, মিনেসোটার একটি পুরনো আর্কাইভের ধুলোমাখা ট্রাঙ্ক থেকে। ছবিটির কোনো ক্যাপশন নেই, কোনো ফটোগ্রাফারের নাম নেই, কোনো তারিখ নেই। শুধু ছবির পেছনে পেন্সিলে লেখা ছিল একটি লাইন—
“They said he was only a myth.”

যখন গবেষকরা ছবিটা বড় করে দেখতে শুরু করেন, তখনই প্রশ্ন ওঠে—বাম দিকে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটি কি আদৌ মানুষ? তার শরীরের গঠন অস্বাভাবিক, উচ্চতা স্বাভাবিক মানুষের তুলনায় অনেক বেশি, গায়ের চামড়া যেন পশুর লোমে মোড়া, চোখ দুটো আশ্চর্যভাবে গভীর ও বিষণ্ণ, আর মাথায় পরা সেই অদ্ভুত পালকের সাজ… যা কোনো পরিচিত উপজাতির সাথেও পুরোপুরি মেলে না। আর তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা যুবকটির চেহারায় কোনো বিস্ময় নেই, কোনো ভয় নেই—বরং যেন সে বহুদিন ধরেই এই সত্তার সাথে পরিচিত।
ছবিটির রহস্য আরও ঘনীভূত হয় যখন স্থানীয় নেটিভ আর্কাইভ ঘেঁটে একই সময়ের এক অদ্ভুত রিপোর্ট পাওয়া যায়, যেখানে লেখা ছিল—
“Forest-bound entity observed near Lake Itasca region. Witnesses report a tall, fur-covered humanoid being wandering at dusk.”

এই রিপোর্ট তখন বাতিল করা হয়েছিল “ফোকলোর” হিসেবে।
কিন্তু এই ছবিটি সেই রিপোর্টকে কেবল গল্পের স্তরে আটকে থাকতে দেয় না।
মিনেসোটা, উইসকনসিন ও কানাডার কিছু পুরনো উপজাতির লোককথায় “ফরেস্ট ওয়াচার” নামে একটি সত্তার কথা পাওয়া যায়—যে মানুষের মত দাঁড়াতে পারে, মানুষের ভাষা বোঝে, কিন্তু মানুষের জগতে বাস করে না। তাকে বলা হয় বনরক্ষক, কখনো রক্ষক আবার কখনো বিচারক। বলা হয়, মানুষ যখন সীমা ছাড়ায়, তখন সে আবির্ভূত হয়।
এই ছবির বাম পাশের অবয়বটির সাথে সেই বিবরণ আশ্চর্যভাবে মিলে যায়।
১৯০১ সালের একটি ব্যক্তিগত ডায়েরিতে পাওয়া যায় জন হ্যারিসন নামের এক ট্র্যাপারের লেখা:
“Last night, I saw him again. He was standing near the old pine. Not hostile. Just watching. I feel like he knows more about us than we know about ourselves.”
এই ডায়েরির শেষ পাতায় আঁকা একটি স্কেচ… অবিকল এই ছবির বাম পাশের অবয়বটির মতো।
আর ছবির ডান পাশের যুবকটি?
গবেষণায় জানা যায়, এই অঞ্চলে সেই সময় এক যুবক গবেষক কাজ করতেন—নাম এলিয়ট ম্যাকগ্রে। তিনি লোককথা ও নেটিভ কিংবদন্তি সংগ্রহ করতেন। ১৯০২ সালে তিনি হঠাৎ নিখোঁজ হন। কিন্তু নিখোঁজের আগে তার শেষ চিঠিতে লেখা ছিল—
“I think the stories are real. I think I’ve met him.”
এরপর এলিয়ট আর কখনো ফেরেননি।
এই ছবিটি সেই নিখোঁজের সময়কালেই তোলা বলে ধারণা করা হয়।
আরো রহস্যজনক ব্যাপার হলো—এই ছবিটি যতবার বিশ্লেষণ করা হয়েছে, ততবারই নতুন অস্বাভাবিক বিষয় সামনে এসেছে। ডিজিটাল এনহান্সমেন্টে দেখা যায় বাম পাশের অবয়বটির চোখের রেটিনা মানুষের মতো প্রতিফলন করে না। তাপমাত্রা বিশ্লেষণে বোঝা যায় তার শরীরের তাপমাত্রা ছবির আশেপাশের পরিবেশের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে কম।
বিজ্ঞানের ভাষায় এর ব্যাখ্যা নেই।
নেটিভ কিংবদন্তিতে বলা হয়—“Forest Watcher chooses who may see him.”
এবং যে দেখে, সে আর আগের মতো থাকে না।
এই ছবির যুবকটির চোখে কোনো বিস্ময় নেই, কোনো ভয় নেই, বরং যেন সে এমন কিছু জেনে গেছে যা আমাদের জানার কথা ছিল না।
আজ এক শতাব্দীর বেশি সময় পর, এই ছবিটি যখন ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে, তখনো কেউ প্রমাণ করতে পারেনি—এই অবয়বটি মানুষ, প্রাণী, না অন্য কিছু।
ইতিহাসের অনেক সত্য এমনভাবেই চাপা পড়ে থাকে।
কারণ সব সত্য প্রকাশের জন্য মানবসমাজ প্রস্তুত থাকে না।

💬প্রশ্ন:
আপনার মতে ছবিটির বাম পাশের অবয়বটি কী?
একটি অজানা প্রাণী?
মানবজাতির ভুলে যাওয়া ইতিহাস?
নাকি এমন কিছু—যার অস্তিত্ব আমরা মানতে ভয় পাই?
আপনার ধারণা কমেন্টে লিখুন।

*সংগৃহীত

Address

Kolkata

Telephone

+919163841325

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when আমার পাতা : আমার কথা ৷ ভ্রমণগাথা,ছবিতে লেখা,রান্নাবান্না আর আড্ডা ৷ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to আমার পাতা : আমার কথা ৷ ভ্রমণগাথা,ছবিতে লেখা,রান্নাবান্না আর আড্ডা ৷:

Share