30/08/2025
গনেশ চতুর্থী চলে গেল । মরশুমি ফুলের মত পুজোর দিনগুলিও আলাপ - বিলম্বিত - ঝালা নিয়ে ‘দুয়ারে’ সমাগত প্রায় । জনগণ রাস্তায় । ততোধিক গাড্ডায় । মেট্রো ঝাঁকি দর্শনে । ক্যাবওয়ালা শহরব্যাপী সমাসন্ন মেট্রো জালিকা দর্শনে বিপুল বিষন্ন । বাইপাসের বুলেভার্ডে হলুদ ফুল আর করবীর মেলা । সব মিলিয়ে শহরের ক্যানভাসে বেশ খানিকটা ‘উত্তর আধুনিক’ শরতের মোটা ব্রাশের আস্তরণ । পাকা রঙ ধরতে এখনও খানিকটা দেরি ।
এক অগ্রজার বাড়ির গনেশ পুজোর নিমন্ত্রণ ছিল । সে অগ্রজা , কিন্তু মননে, চিন্তনে আক্ষরিক আধুনিকা । আমার সঙ্গিনী টি নিমন্ত্রণকে আদর করে নেমন্ত বলতে পছন্দ করে । যাই হোক, ফেরার সময় যখন দুয়ারে ক্যাব, ঘর থেকে বেরোতে গিয়ে চৌকাঠে সামান্য হোঁচট খেলাম । দু পা ফিরে, বসার ঘরের দরজা সংলগ্ন তক্তপোষে একদণ্ড বসে, বেরিয়ে এলাম । মুহূর্তে মা , আমার ছোটবেলার দিনগুলো নিয়ে আমার সাথে ক্যাবে এসে বসল ।
মা’ র কাছে কোন সেই ছেলেবেলায় শুনেছিলাম কার্তিক আর গনেশ ,দুই ভাইয়ের বিশ্ব পরিক্রমার গল্প । ময়ূর বাহন যখন হাওয়ার গতিতে তার পরিক্রমণ সেরে ফিরলেন, একদন্তং তার ঢের ঢের আগে বাবা - মা কে প্রদক্ষিণ সেরে ফেলেছেন । পিতা - মাতাই আমার বিশ্ব । ওঁরাই আমার ঈশ্বর । ‘ঈশাবাস্যমিদং সর্বং যৎকিঞ্চ জগত্যাং জগৎ।’
মা ই শিখিয়েছিল, চলার পথে হোঁচট খেলে, এক মুহূর্তের জন্য থেমে নিতে, জিরিয়ে নিতে । বাবা - মা থেকে যায় সন্তানের মধ্যে । হাত ধরে, বিপদে - আপদে । আশীর্বাদ করে, সকলের অলক্ষ্যে ।
রাতে, নেমন্তে যা খেলাম , প্রায় সেই একই পদ দ্বিপ্রহরে, পরম্পরা, পাঠিয়েছে ,গনেশ পুজো উপলক্ষ্যে অতিথি আপ্যায়নে ।
জলপাইগুড়ির যোগমায়া কালীবাড়ির সামনের সেই স্মৃতি উস্কানো ভেজিটেবল চপ, গোবিন্দ ভোগের বাসন্তী পোলাও, কাশ্মীরি গোটা আলুর দম( অর্ধেক কাটা না, প্লিজ !!), ছানার ডালনা আর আনারসের চাটনি ।
প্রথমেশ্বরের পুজোর সঙ্গে সঙ্গে পুজোর ঢাকে কাঠি পড়ে গেলো….এখন শুধু শিউলি ঝরার অপেক্ষা ।