06/10/2026
"সাইকেলের হ্যান্ডেলে হাত, আর পেছনের ক্যারিয়ারে ফেলে আসা শৈশব—ফিরে দেখা সেই সোনালী দিনগুলো! 🚲🎒"
স্কুলের ডায়েরি পর্ব ৩০ : সাইকেলের ক্যারিয়ারে শৈশব
তাকিয়ে দেখো তো চোখের সামনে ভেসে ওঠে কি না সেই পরিচিত দৃশ্যটা? সকালবেলা ঘুম থেকে ওঠার তাড়াহুড়ো, মায়ের হাতের গরম ভাত খেয়ে সাইকেল বা হেঁটে হুড়মুড় করে স্কুলে পৌঁছানো। স্কুলের বড় লোহার গেটটা পেরোলেই সেই চেনা প্রাঙ্গণ, আর ঠিক তখনই প্রেয়ার বেল বেজে ওঠার মিষ্টি সুর। সবুজে ঘেরা স্কুল মাঠটার একপাশে দাঁড়িয়ে থাকা সেই পুরোনো গাছটা, যার নিচে দাঁড়িয়ে কত খেলাধুলো, ঝগড়া আর তারপর আবার ভাব হয়ে যাওয়া.....
ক্লাসরুমের কাঠের বেঞ্চগুলোর দিকে তাকালে আজও যেন পেন্সিলে খোদাই করা পুরোনো নামগুলোর হদিস পাওয়া যায়। কার নামের পাশে কার নামের প্রথম অক্ষর লেখা ছিল, তা নিয়ে কতশত লজ্জা হাসি হেসেছি আমরা! ক্লাস চলাকালীন স্যারের পড়া যখন মাথার ওপর দিয়ে যেত, ঠিক তখনই পেছনের বেঞ্চ থেকে টিফিনের ইশারা হতো। কার টিফিন বাক্সে কী আছে—আলুভাজা, মুড়ি-পরোটা নাকি চাওমিন—তা নিয়ে টিফিনের ঘন্টা পড়ার আগেই মন চলে যেত সেখানে।
মনে পড়ে সেই বৃষ্টির দিনের কথাগুলো? যেদিন বাইরে অঝোরে বৃষ্টি পড়ছে, ক্লাসের জানলা বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে জলের ফোঁটা, আর স্যারের গলার আওয়াজ ছাপিয়ে বাইরে মেঘের ডাক শোনা যাচ্ছে। সেদিন ক্লাসে পড়া না পারার ভয়ে বুক কাঁপলেও মনটা কেমন যেন আনচান করত স্কুলের বারান্দায় গিয়ে একটু ভেজার জন্য। স্কুল ছুটির সেই ঘণ্টা পড়ার পরের আনন্দটা কেমন ছিল বলো তো? পিঠের ভারী ব্যাগটা কাঁধে ঝুলিয়ে দল বেঁধে বাড়ি ফেরা, রাস্তায় নুন ঝাল মেশানো কাঁচা আমড়া বা বারোভাজা খাওয়া, আর মায়ের বকা খাওয়ার ভয়—সব মিলিয়ে জীবনটা কি দারুণ সুন্দরই না ছিল!
আজকের এই ব্যস্ততার ভিড়ে আমরা যতই বড় হয়ে যাই না কেন, যতই দূরে চলে আসি না কেন, ওই দিনগুলোর সরলতা আর পবিত্রতা আমাদের মনের কোনো এক কোণায় চিরকাল অমলিন হয়ে রয়ে যায়। ঠিক যেমন মল্লিকার্জুনের পাহাড়ি চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আসার ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয় মনের ভেতরের অচেনা শান্তি, তেমনই ছোটবেলার এই স্মৃতিগুলো আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি।
#ভোঁপুরযজ্ঞেশ্বরবিদ্যাপীঠ #মৌয়েরঅল্পস্বল্প