29/10/2025
আজ আরুশিকে দেখতে আসছেন সায়ন্তনের বাবা মা। শুধু দেখতে আসা বললে ব্যাপারটা ভুল হবে, আজই বিয়ের কথাবার্তা একে বারে ফাইনাল হয়ে যাবে, মানে পাকা কথা।
সায়ন্তন আরুশির পূর্ব পরিচিত। বিয়েটা দেখাশোনা করে হচ্ছে না। আরুশির সাথে সাত বছরের প্রেম সায়ন্তনের। সাত বছরের প্রেম সাত পাকে বাঁধা পড়বে আর ক'দিনের মধ্যেই। প্রেমের ব্যাপার নিয়ে দুই বাড়িতে কারোর কোনো অমত নেই। দুই পরিবার সম্মত হয়েছে বলেই আজ বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক হয়ে যাবে।
সকাল থেকেই আরুশি অবশ্য টেনশনে আছে। শুধু আরুশি নয়, আরুশির মা বাবাও। সায়ন্তনের মা অন্নপূর্ণা দেবী জানিয়ে দিয়েছেন ওনাদের কিছু দাবী আছে। সেই দাবীটা কিন্তু মেনে নিতে হবে, আর তাতেই বেড়েছে আরুশির টেনশন।
আরুশির সাথে প্রেমের ব্যাপারটা সায়ন্তন অনেক আগেই মা'কে জানিয়েছিল। ছেলের প্রেম করা নিয়ে অন্নপূর্ণা দেবী কখনোই কোনো আপত্তি করেন নি। আরুশির ব্যাপারে সেরকম কিছু জানতেও চান নি তখন। তবে বিয়ের ব্যাপারে সায়ন্তন মা'কে জানাতেই, অন্নপূর্ণা দেবী ছেলেকে জিজ্ঞেস করেছিলেন,
-মেয়েটি কী করে?
-আমরা একই সাথে জব করি।
-বাড়িতে কে কে আছেন?
-বাড়িতে আরুশি আর আরুশির বাবা মা।
- আর বাবা কী করেন?
-ব্যাঙ্ক ম্যানেজার। তিন মাস পর উনি রিটায়ার করে যাবেন।
-বাবার এক মাত্র মেয়ে?
-হ্যাঁ মা।
তারপর কিছুক্ষণ কি যেন একটা ভেবে নিয়ে অন্নপূর্ণা দেবী বলেন, বাবার একমাত্র মেয়ে যখন তা বেশ ভালো। সে যাইহোক আমার অসুবিধা নেই, তবে আমাদের কিছু দাবী আছে।
সায়ন্তন অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেছিল,
-দাবী? কি সব বলছো মা? বিয়েতে দাবী করবে? এটা খারাপ দেখায় না?
-কিছু খারাপ দেখায় না। বাবার এক মাত্র মেয়ে বলেই দাবীটা সঙ্গত বলে মনে করি। তাছাড়া ছেলের বিয়ে দেব আর দাবী থাকবে না? প্রেম করেছিস বলে আমাদের কিছু দাবী থাকবে না সেটা ভাবলি কি করে? যাইহোক, তুই ওদের জানিয়ে দিস কথাটা।
মায়ের দাবীর কথা সায়ন্তন আরুশিকে জানায়। আরুশি এমন কথা শুনে একটু অবাকই হয়। বিয়েতে দাবী দাওয়ার ব্যাপারটা সত্যিই যেন কেমন একটা শুনতে লাগে। সায়ন্তনের মায়ের প্রতি যে ভক্তির পারদটা ছিল সেটা যেন নেমে যেতে থাকে আস্তে আস্তে। সেদিন থেকেই আরুশির মনটা ভীষণ খারাপ। আরুশিও এই ব্যাপারটা বাড়িতে মা বাবাকে জানায়। কথাটা শুনে অবশ্য আরুশির মা বলেছিল,
-আমরা কোন দিক দিয়ে কম আছি বলতো? ওনারা আসুক আগে। দেখিই না কতটা কী দাবী করে।
-তা বলে এভাবে কেউ আগে থেকে বলে কয়ে আসে? আমি কিন্তু