03/10/2024
দোপেঁয়াজা শব্দের অর্থই দুইবার ব্যবহৃত পেঁয়াজ। একবার সম্রাট আকবরের রান্নাঘরে ভুল করে আকবরের জন্য তৈরি খাদ্যে দুবার পেঁয়াজ দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আকবর সেই খাবারটি খুব তৃপ্তির সাথে খেয়েছিলেন। দুবার পেঁয়াজ দেওয়ার কারণে সেখান থেকেই ঐ পদটির নাম হয়ে গিয়েছিল দোপেঁয়াজা। এটা নিছক গল্প না সত্য তা নিশ্চিত করে বলা যাবে না। এই দোপেঁয়াজায় দুই রকমের পেঁয়াজ দেওয়া হতো। একটা পাতলা কেটে হালকা ভাজি, অন্যটি মিহি পেস্ট। গোলমরিচ, জিরা, ধনে, এলাচ, লবঙ্গ এর সাথে দুরকমের পেঁয়াজ রান্নার স্বাদকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয়।
উনিশ শতকে ভারতে বাস করা ব্রিটিশদের কাছে দোপেঁয়াজা খুবই জনপ্রিয় খাবার হয়ে ওঠে। এরপর ধীরে ধীরে রেস্তোরাঁয়ও দোপেঁয়াজার প্রচলন শুরু হয়। ইতিহাস থেকে জানা যায়, দোপেঁয়াজার শুরু হয়েছিল পারস্যের রান্নাঘরে। পেঁয়াজ দিয়ে কিমা মাংস রান্না। এরপর বিভিন্ন যায়গায় বিভিন্নভাবে এই দোপেঁয়াজার ব্যবহার শুরু হয়েছে। মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ইরান, আফগানিস্তান ও ভারতে এই দোপেঁয়াজা খুব জনপ্রিয়। ব্রিটিশদের রেস্তোরাঁয়তো দোপেঁয়াজা থাকবেই। ১৬ শতকে মোঘলদের মাধ্যমেই ভারতে এই দোপেঁয়াজার ব্যবহার শুরু হয়। দোপেঁয়াজা তৈরি করা হয় প্রথমে মাংস বাদামি রঙ করে ভেজে নিয়ে তারপর হালকা পেয়াঁজ কুচি ভেজে রেখে কিছুটা অংশের সাথে সমস্ত মসলা দিয়ে কিছুক্ষণ ভাজি করে তাতে পরিমান মত পানি দিতে হবে। এভাবেই দোপেঁয়াজা সবার কাছে একটা সময়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।