18/08/2022
প্রযুক্তি এবং শর্ট কাটের যুগ আপনাকে পুষ্টিগুন থেকে বঞ্চিত করছে না তো! এক থালা ভাত আপনাকে কী কেবল পুষ্টি দিচ্ছে, না কি মোটা করছে এবং বাড়াচ্ছে রোগ! যেখানে আমাদের পূর্ব প্রজন্ম এই ভাত খেয়েই জীবন নির্বাহ করতেন এবং বাঁচতেন অনেক বছর!
ভাবুন তো, আপনি সুস্বাদু ভাত খাচ্ছেন কিন্তু মোটা হচ্ছেন না বরং আপনার শরীরে এই ভাত আরো পুষ্টির যোগান দিচ্ছে। কী ভাবছেন এটাও সম্ভব! হ্যাঁ সম্ভব। তেমন ই এক চাল হলো ব্রাউন রাইস বা ঢেঁকি ছাঁটা চাল।
তুলনামূলক ভাবে আমাদের দেশে ভাত খাওয়ার প্রচলন বেশি হলেও, ব্রাউন রাইস বা ঢেঁকি ছাটা চাল খুব কম মানুষকেই খেতে দেখা যায়। ব্রাউন রাইস প্রসেসিং করা সহজ নয় এবং দিনে দিনে প্রযুক্তির কারণে বিলুপ্ত প্রায়, তবে আপনি জানলে অবাক হবেন, সাদা ভাতের তুলনায় ব্রাউন রাইস বা ঢেঁকি ছাঁটা চালের পুষ্টিগুন অনেক বেশি।
👉 ঢেঁকি ছাটা চাল প্রসেসিংঃ
ধুপ-ধাপ শব্দ ক্ষীণ হতে হতে স্মৃতিতে সেঁধিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায়। ঢেঁকিশালে ঢেঁকিই তো নেই! তবু সে আওয়াজ এখনও বাংলার যে যে অংশে ক্ষীণ হয়েও বেজে চলেছে, তার মধ্যে অন্যতম গোপালগঞ্জের কাশিয়ানি, ঠাকুরগাঁও এর রাণীশংকৈল এর হাতেগোনা কয়েকটি গ্রাম।
বিস্তর খোঁজাখুঁজির পরে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানি উপজেলার ফুকরা গ্রামে দেখা মিলল ঢেঁকির। এই গ্রামে ২০০ পরিবারের বাস। তল্লাটে রয়েছে দুটি ঢেঁকি তাতেই চাল ছাঁটেন স্থানীয়রা। প্রৌঢ় সালাম মজুমদারদের বাড়ির ঢেঁকিতে পিঠে তৈরির জন্য ধান থেকে চাল বের করে তা গুঁড়ো করার জন্য এসেছিলেন নিলা, রোজি, কুলসুম এবং ফাতিমা। জানালেন, দু’দশক আগে গ্রামে গম, ধান ভাঙানো মেশিন বসেছে, সেখানেই চাল ভাঙানো হয় এবং চালের গুঁড়ো মেলে। কিন্তু, তাতে পিঠের স্বাদ আগের মত পাওয়া যায় না। তাই তারা এখানে আসেন ঢেঁকিতে চাল ছেঁটে গুড়ো বের করে নিতে।
বর্তমান প্রযুক্তি ও আধুনিকতার যুগে ঢেঁকির মাধ্যমে ধান থেকে চাল তৈরি করা প্রায় বিলুপ্তির পথে। তারপরও প্রাচীন এ ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে নতুন রূপে আধুনিক পদ্ধতিতে তৈরি হচ্ছে ঢেঁকি ছাটা চাল। আর এসবই সম্ভব হয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ভোরনিয়া গ্রামের যুবক ওমর ফারুকের ‘ডিজিটাল ঢেঁকি’র মাধ্যমে।
✅ ঢেঁকি ছাটা চালের পুষ্টিগুনঃ
সাদা ভাত দেখতে সুন্দর বলে আমাদের ঝোক ওদিকে থাকলেও কোন চালই পলিশ ছাড়া এমন সাদা ভাত হয় না। চাল মসৃণ করতে গিয়ে অতিপ্রয়োজনীয় কিছু উপাদান বাদ পড়ে যায়। এর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন বি, খনিজ লবণ, বায়োটিন, আমিষ, চর্বি, ফাইটো কেমিক্যাল, স্টার্চ ও ফাইবার। আরও চলে যায় আয়রন, জিংক, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন এ এবং ই। ফলে কলে ভাঙানো চালের ভাত খেলে এসব উপাদানের অভাব হতে পারে। গবেষনায় দেখা গেছে, ঢেঁকি ছাঁটা চাল ওজন কমায়, পুষ্টি বৃদ্ধি করে, ক্যান্সারের প্রতিরোধ গড়ে তোলে এমনকি ডায়বেটিস রোগীর জন্যও উপকারী। কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ ঢেঁকি ছাটা চাল হজমে বেশি সময় লাগে বলে এটা শরীরে ধীরে ধীরে সারাদিন পুষ্টি যোগায়।
ঢেঁকি ছাঁটা চালে সেলেনিয়াম নামের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বিদ্যমান, যা হৃদ্রোগ, ক্যানসার ও বাতের ঝুঁকি কমায়। গবেষণায় দেখা গেছে, কলে ভাঙানো চালের ভাতের সঙ্গে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের যোগসূত্র রয়েছে। কাজেই সবকিছু বিবেচনায় আমাদের ঢেঁকিছাঁটা চালেই ফেরা উচিত।
দুষ্প্রাপ্য হলেও Pure & Halal এর মত বিভিন্ন অরগানিক শপ ও সুপার শপে ঢেঁকি ছাঁটা চাল বা ব্রাউন রাইস গুনগত মান ও চালের ধরনের ভিত্তিতে ৯০ টাকা থেকে ১৩০ টাকায় পাওয়া যায়। এখন আপনার পরিবারের পুষ্টির চিন্তা আপনার। পুষ্টিহীন সুন্দর সাদা ভাত, না কি পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ ঢেঁকি ছাঁটা চাল! কোনটা চান? সিদ্ধান্ত কেবল ই আপনার।
♦♦ টিপসঃ গরম ভাতের চেয়ে ঠান্ডা ভাত শরীরের জন্য উপকারী। ভাত ঠান্ডা হয়ে গেলে তাতে রেজিস্ট্যান্স শ্বেতসার নামের একটি উপাদান তৈরি হয়। এই শ্বেতসার অন্ত্রে কম শোষিত হয়। ফলে বৃহদান্ত্রে এটি গাঁজন প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়।
প্রযুক্তি এবং শর্ট কাটের যুগ আপনাকে পুষ্টিগুন থেকে বঞ্চিত করছে না তো! এক থালা ভাত আপনাকে কী কেবল পুষ্টি দিচ্ছে, না কি মোটা করছে এবং বাড়াচ্ছে রোগ! যেখানে আমাদের পূর্ব প্রজন্ম এই ভাত খেয়েই জীবন নির্বাহ করতেন এবং বাঁচতেন অনেক বছর!
ভাবুন তো, আপনি সুস্বাদু ভাত খাচ্ছেন কিন্তু মোটা হচ্ছেন না বরং আপনার শরীরে এই ভাত আরো পুষ্টির যোগান দিচ্ছে। কী ভাবছেন এটাও সম্ভব! হ্যাঁ সম্ভব। তেমন ই এক চাল হলো ব্রাউন রাইস বা ঢেঁকি ছাঁটা চাল।
তুলনামূলক ভাবে আমাদের দেশে ভাত খাওয়ার প্রচলন বেশি হলেও, ব্রাউন রাইস বা ঢেঁকি ছাটা চাল খুব কম মানুষকেই খেতে দেখা যায়। ব্রাউন রাইস প্রসেসিং করা সহজ নয় এবং দিনে দিনে প্রযুক্তির কারণে বিলুপ্ত প্রায়, তবে আপনি জানলে অবাক হবেন, সাদা ভাতের তুলনায় ব্রাউন রাইস বা ঢেঁকি ছাঁটা চালের পুষ্টিগুন অনেক বেশি।
👉 ঢেঁকি ছাটা চাল প্রসেসিংঃ
ধুপ-ধাপ শব্দ ক্ষীণ হতে হতে স্মৃতিতে সেঁধিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায়। ঢেঁকিশালে ঢেঁকিই তো নেই! তবু সে আওয়াজ এখনও বাংলার যে যে অংশে ক্ষীণ হয়েও বেজে চলেছে, তার মধ্যে অন্যতম গোপালগঞ্জের কাশিয়ানি, ঠাকুরগাঁও এর রাণীশংকৈল এর হাতেগোনা কয়েকটি গ্রাম।
বিস্তর খোঁজাখুঁজির পরে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানি উপজেলার ফুকরা গ্রামে দেখা মিলল ঢেঁকির। এই গ্রামে ২০০ পরিবারের বাস। তল্লাটে রয়েছে দুটি ঢেঁকি তাতেই চাল ছাঁটেন স্থানীয়রা। প্রৌঢ় সালাম মজুমদারদের বাড়ির ঢেঁকিতে পিঠে তৈরির জন্য ধান থেকে চাল বের করে তা গুঁড়ো করার জন্য এসেছিলেন নিলা, রোজি, কুলসুম এবং ফাতিমা। জানালেন, দু’দশক আগে গ্রামে গম, ধান ভাঙানো মেশিন বসেছে, সেখানেই চাল ভাঙানো হয় এবং চালের গুঁড়ো মেলে। কিন্তু, তাতে পিঠের স্বাদ আগের মত পাওয়া যায় না। তাই তারা এখানে আসেন ঢেঁকিতে চাল ছেঁটে গুড়ো বের করে নিতে।
বর্তমান প্রযুক্তি ও আধুনিকতার যুগে ঢেঁকির মাধ্যমে ধান থেকে চাল তৈরি করা প্রায় বিলুপ্তির পথে। তারপরও প্রাচীন এ ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে নতুন রূপে আধুনিক পদ্ধতিতে তৈরি হচ্ছে ঢেঁকি ছাটা চাল। আর এসবই সম্ভব হয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ভোরনিয়া গ্রামের যুবক ওমর ফারুকের ‘ডিজিটাল ঢেঁকি’র মাধ্যমে।
✅ ঢেঁকি ছাটা চালের পুষ্টিগুনঃ
সাদা ভাত দেখতে সুন্দর বলে আমাদের ঝোক ওদিকে থাকলেও কোন চালই পলিশ ছাড়া এমন সাদা ভাত হয় না। চাল মসৃণ করতে গিয়ে অতিপ্রয়োজনীয় কিছু উপাদান বাদ পড়ে যায়। এর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন বি, খনিজ লবণ, বায়োটিন, আমিষ, চর্বি, ফাইটো কেমিক্যাল, স্টার্চ ও ফাইবার। আরও চলে যায় আয়রন, জিংক, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন এ এবং ই। ফলে কলে ভাঙানো চালের ভাত খেলে এসব উপাদানের অভাব হতে পারে। গবেষনায় দেখা গেছে, ঢেঁকি ছাঁটা চাল ওজন কমায়, পুষ্টি বৃদ্ধি করে, ক্যান্সারের প্রতিরোধ গড়ে তোলে এমনকি ডায়বেটিস রোগীর জন্যও উপকারী। কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ ঢেঁকি ছাটা চাল হজমে বেশি সময় লাগে বলে এটা শরীরে ধীরে ধীরে সারাদিন পুষ্টি যোগায়।
ঢেঁকি ছাঁটা চালে সেলেনিয়াম নামের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বিদ্যমান, যা হৃদ্রোগ, ক্যানসার ও বাতের ঝুঁকি কমায়। গবেষণায় দেখা গেছে, কলে ভাঙানো চালের ভাতের সঙ্গে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের যোগসূত্র রয়েছে। কাজেই সবকিছু বিবেচনায় আমাদের ঢেঁকিছাঁটা চালেই ফেরা উচিত।
দুষ্প্রাপ্য হলেও Pure & Halal এর মত বিভিন্ন অরগানিক শপ ও সুপার শপে ঢেঁকি ছাঁটা চাল বা ব্রাউন রাইস গুনগত মান ও চালের ধরনের ভিত্তিতে ৯০ টাকা থেকে ১৩০ টাকায় পাওয়া যায়। এখন আপনার পরিবারের পুষ্টির চিন্তা আপনার। পুষ্টিহীন সুন্দর সাদা ভাত, না কি পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ ঢেঁকি ছাঁটা চাল! কোনটা চান? সিদ্ধান্ত কেবল ই আপনার।
♦♦ টিপসঃ গরম ভাতের চেয়ে ঠান্ডা ভাত শরীরের জন্য উপকারী। ভাত ঠান্ডা হয়ে গেলে তাতে রেজিস্ট্যান্স শ্বেতসার নামের একটি উপাদান তৈরি হয়। এই শ্বেতসার অন্ত্রে কম শোষিত হয়। ফলে বৃহদান্ত্রে এটি গাঁজন প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়।
#ঢেকি_ছাটা_চাল #ঢেঁকি #ঢেকি_ছাটা #হালাল #বিশুদ্ধ #চাল #বিরই #বিরই_চাল #বাদামী_চাল #পুষ্টিকর_চাল #পিওর #ব্রাউন_রাইস #ব্রাউন_চাল